লজিং টিচারের সাথে গে সেক্স

935467_651505061529911_1042804780_n
আমি ভাই বোনদের মাঝে সবার ছোট,আমার বয়স তখন ৫ থেকে সাড়ে ৫বছর হবে।আমার বড় যে ভাই ওর সাথে আমার বয়সের পার্থক্য প্রায় ৭/৮ বছরের।তাই ছোটবেলায় আমাকে বেশিরভাগ সময় একাএকাই থাকতে হইত কারণ ভাইয়ারা বেশি বড় হওয়ায় ওরা খেলতে যাওয়ার সময় আমাকে নিতোনা।আর স্কুলেও তখন ভর্তি হইনি।
তাছাড়া আপা আর ভাইয়ারা স্কুল চলে গেলে এমনিতেই আমাকে বাসায় একা থাকতে হতো।সবার ছোট আর আদরের ছিলাম বলে বাইরের কারো সাথে খেলতেও দিতোনা আম্মা।
দিনের বেলায় বেশির ভাগ সময় আমাকে ঘরেই কাটতো আর তখন এখনকার মতো ঘরে ঘরে স্যাটেলাইটও ছিলনা যে সারাদিন বসে বসে কার্টুন দেখব।বিটিভির মিনা আর পাপাই তো সারাদিন দিতোনা।

যাক আসল কথায় আসি,আমার ভাইবোনদের পড়ানোর জন্য বাসায় একজন লজিং মাষ্টার ছিলেন।উনি সারাদিন বাসায়ই থাকতেন।উনার ঘর আমাদের মূল ঘরের সাথে হলেও রাস্তা আলাদা।ভেতর ঘরের সাথে কোনও রাস্তা নাই।
আমি ভাইয়াদের সাথে রাতে উনার কাছেই পড়তাম,পড়া মানে দুষ্টামি এইসবই চলতো।তখনতো আর স্কুলে ভর্তি হইনি তাই।
তো আস্তে আস্তে আমি উনার সাথে আরও ঘনিশ্ত হয়ে গেলাম।আমার খেলার সাথী বলতে একমাত্র উনিই ছিলেন।আর আমার আম্মাও কিছু বলতেননা আমি যে সারাদিন স্যারের ঘরের থাকি কারণ আমি না থাকলে উনি নিশ্চিন্তে সংসারের কাজ করতে পারতেন।আমি থাকলে জ্বালাতন করতামতো তাই।তাছাড়া হয়তো উনি এরকম কিছু যে হবে সেটা কল্পনাও করেননি।
তো আমি প্রতিদিনই দিনের বেলায় স্যারের রুমেই সময় কাটাতাম।উনি আমার জন্য সবসময় চকলেট,চিপস এগুলা এনে রাখতেন।
ঘটনাটা কেমনে শুরু হইছে আমি আমার মনে নাই।তখন সেক্স কি সেটাই জানতাম না।আমার উচ্চতা ছিল উনার কোমরের সমান।উনি আমাকে উনার লুঙ্গির নিচে ডুকিয়ে নিতেন আর আমি উনার পেনিস সাক করে দিতাম।বাসায়ও কাউকে কিছু বলিনি এ ব্যাপারে।একদিন উনি আমার পাছায় মনে হয় আঙ্গুল ডুকাইছিলেন কারণ আমি উনার রুমেই টয়লেট করে দিছিলাম।পরে উনি আমাকে পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন।

এরপর আমি স্কুলে ভর্তি হলাম আর উনিও একটা জব পেয়ে আমাদের এখান থেকে ঢাকায় চলে গেলেন।নতুন একটা জায়গা,নতুন নতুন বন্ধু,খেলার সাথীর আর অভাব নাই।স্যারের কথা,উনার সাথে কি করতাম সেগুলো একদম ভুলেই গেলাম।
এরপর আমি বড় হতে থাকলাম।তখন ৮ম শ্রেনীতে পড়ি,স্কুল গরমের ছুটির বন্ধ।আব্বা বললেন এই সুযোগে আমার খৎনা দিয়া দিতে।যতারিতি তাই হল।
এখন শুরু হল আমার জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকাময় সময়।খৎনার কারনে আমাকে কয়েকদিন ঘরে থাকতে হইছে।খৎনা দেয়ার পর আমাকে লুঙ্গি পরতে হতো।আর লুঙ্গি পরেই আমার স্যারের কথা মনে হল।
উনার সাথে কি করতাম এইসব মনে করে ওইদিনগুলো আমার খুব বাজেভাবে গেছে।এতটা মানুষিক কষ্টে আমার ঐদিনগুলো যে গেছে বলে বুঝাতে পারবনা।আমার সব ঘৃণা গিয়ে জমা হইছে স্যার আর লুঙ্গির উপর।তাছাড়া তখন আমার বয়ঃসন্ধি ছিল।
আমি না কাউকে কিছু বলতে পারতাম না নিজে কিছু করতে পারতাম।শুধু অনুভব করতাম ওই লোকটারে আমি প্রচণ্ড ঘৃণা করি।
সেই থেকে এখন পর্যন্ত আমি লুঙ্গি পরিনা।

এখন বুঝতে পারছি উনি আমার মাঝে শিশুকালে যে বীজ বপন করে গেছিলেন সেটার চারা গজাইছে আমার কৈশোরে।

২/৩ বছর আগে এক পহেলা বৈশাখে এরকম একজন এসেছিলেন আমাদের বাসায় তার স্ত্রী আর দুইটা ছেলে সন্তান নিয়ে যিনি অনেক বছর আগে আমাদের বাসায় লজিং ছিলেন।
কে জানে হয়তো এই লোকটাই সেই লোক।উনি উনার স্ত্রীকে আমাকে দেখিয়ে বলছিলেন আমি নাকি ছোটবেলায় উনার সাথে খুব দুষ্টামি করতাম।
আমি তখন লজ্জায় বলতে পারিনি যে,আমি কি আপনার সাথে এইরকম কোনও দুষ্টুমি করেছি?
এখন মনে হচ্ছে উনাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললেই ভাল হতো।অন্তত আমার ঘৃণা ভরা চোখটাতো উনাকে দেখাতে পারতাম।
তবে এটা সম্পূর্ণই আমার মনের ধারণা।এইলোক সেইলোক নাও হতে পারে।
আপনাদের বাসায় যাদের ছোট ভাইবোন আছে তারা দয়া করে এসব ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকবেন যদি বাসায় লজিং মাষ্টার কিংবা এই ধরনের কেউ থাকে।কখনই রাতে কোন শিশুকে কোনও পুরুষ মেহমানের সাথে থাকতে দেয়া ঠিক না।
ওইলোকটা কখনই আমার সাথে এরকম করতে পারতোনা যদি আমার পরিবার আমাকে একটু খেয়াল রাখত।

অপ্রত্যাশিত

পর্ব-১

বিকেলের শেষ আলো শরীরটা ঘেঁষে বেড়াচ্ছে, অনেক দিন হল সূর্যের আলো গায়ে লাগেনি।
তাই করিডোরে বসে, তাকিয়ে আছি ঐ ডিমের কুসুমের মত রক্তিম আলোর বর্তিকার দিকে।
জানি এখন তুমি চলে যাচ্ছ পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে, অন্য কোন দিগ্বলয়কে আলোয় পরিপূর্ণ করতে।
পাখীর কিচির-মিচির শব্দে ভোরের ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগিয়ে,
জানি কাল সকালে আবার দেখবো তোমায় পূর্ব দিগন্তে।
কত মানুষের জীবনের আঁধার কাটিয়ে ভরে উঠবে তোমার নিয়ন আলোতে।
কিন্তু আমার জীবনটা ডেকে থাকবে ভরা অন্ধকারের কঠিন কালোতে।
জীবনটা কেন যে এমন হয় বলতে পারো হে দশ দিগন্ত?
কাজের বুয়ার কণ্ঠে ফিরে এলাম বাস্তবে, দূর কি ভাবছিলাম বসে বসে।
-মামা সইন্ধার সময় এহানে বইসা বইসা কি করেন। রাইতে কি খাইবেন কইলেন নাতো।
না খালা রাতে বাহীরে খাবো অনেক দিন বাহীরে যাওয়া হয় না।
তুমি একটা কাজ কর, কড়া করে এক কাপ চা করে দাও তো।
-আইচ্চা দিতাচি, তয় মামা হুনেন এই সইন্ধার কাইলে ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগাইলে-তো আবার অসুখে পরবেন।
মনে মনে বললাম, আর অসুখ।
মনের অসুখ সারাবার মত এমন কোন ওষুধ দুনিয়াতে নাইরে খালা।

আজ শুক্র বার একটা সময় ছিল শুক্র বারটার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকতাম।
সন্ধ্যা থেকে জামা কাপড় পরে তৈরি হয়ে থাকতাম।
রমনা পার্কে যাবো মনটায় অন্যরকম আনন্দের জোয়ারে বাসতে থাকতো।
যার হাতে হাত গুঁজবো বলে, ঐ চোখ দুটো একটুখানি দেখবো বলে।
সেই যাত্রা বাড়ীর পুরটা ট্রাফিক জ্যাম মাথায় নিয়ে রমনায় উদ্দেশ্য পা বাড়াতাম।
সে মানুষটা আজ আমার থেকে অনেক দূরে।
আচ্ছা সুমন এত কিসের তাড়া ছিল তোমার?
কেন এত অল্প সময়ের জন্য কাছে টেনে,
খুব যত্ন করে, অযত্নের অবহেলার মাঝে ছেড়ে দিলে আমায়।
আবার বুয়ার কণ্ঠ শুনতে পেলাম…।
-ও মামা ছা খাইবেন না ঠাণ্ডা হইয়া গেল যে।
হা আসছি বলে উঠে পড়লাম। চা খেয়ে ফ্রেস হয়ে ওয়্যার ড্রপের দিকে তাকালাম।
কি পরবো বুজতে পারছিলাম না। খুঁজতে খুঁজতে চোখ আটকে গেল ঐ হলুদ পাঞ্জাবীটার দিকে।
তুমি হুমায়ূন ভক্ত ছিলে খুব, সেই দিন হিমু মেলা হচ্ছিল অন্য মেলার শো রুম এ।
জড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দুই জন পোঁছালাম ধানমণ্ডিতে।
অন্য মেলায় তোমার যেতেই হবে।
বাধ্য হয়ে পিছু নিলাম তোমার, আমার শত আপত্তির পর ও এই হলুদ পাঞ্জাবীটা কিনলে।
তোমার ঐ একটাই কথা, হলুদ পাঞ্জাবী পরে তুমি আমার হিমু হবে।
অনেক দিন ঐ পাঞ্জাবিটা পড়েই রয়েছে, আজ পরলাম বাহীরে তেমন একটা ঠাণ্ডা নাই তবুও,
কালো শালটা গাঁয়ে জড়িয়ে নিলাম, কারণ এই শালটা তুমি দিয়ে বলেছিলে যখন তুমি এইটা পরবে।
মনে করবে আমি তোমাকে জড়িয়ে আছি। বাসা থেকে বের হয়ে রাজ পথে নামলাম।
ভাবতে লাগলাম,
হা সুমন ঠিক তাই, আমার সারা শরীর জুড়ে তোমার উপস্থিতি অনুভব করছি।

তোমার সাথে যতবার রমনায় এসেছি বকুল তলার ঐ বেঞ্চটাতে বসেছি।
শুক্র বার বলে কথা, আজকে তো রমনাতে সমকামীদের বাজার বসার কথা।
কিন্তু আচার্য হলেও সত্যি, বেঞ্চটা খালি পেয়ে বসে পড়লাম ঠিক মাঝখানটায়।
যাতে কেউ এসে ঘড়ির সময় আর সিগারেট এর নাম দিয়ে বসতে না পারে।
যে কথা সেই কাজ,
বলতে না বলতে একজন এসে বসে পড়ল আমার বাম পাশটা ঘেঁষে।
তাকে দেখে মনে হল তার মাঝে ভদ্রতার কোন বালাই নেই।
১০মিনিট চুপচাপ বসে ছিলাম কোন কথা বললাম না আমি।
একটু পর দেখলাম বেচারা মুখ খুলল।
-আমার নাম শাফিন আহমেদ। থাকি বারিধারাতে নিজের একটা বিজনেস আছে,
ওটা দেখাশুনা করছি, বয়স ৩৫ এর চেয়ে কিছুটা বেশি। আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে।
আমার বন্ধু হলে খুশি হব। হা শুধু বন্ধু অন্য কিছুর অফার করছি নারে ভাই।
ভণিতা ছাড়া সরাসরি কথা বলার কারণে অবহেলা করতে পারলাম না।
জি বলুন, আমি কি ভাবে আপনার বন্ধুর অভিযানের অংশ হতে পারি।
শাফিন একটু মুচকি হেসে কাশি দিয়ে, গলা পরিষ্কার করে নিয়ে বলে,
-যদি ভুল না করি তাহলে বলবো।
আপনার মন খারাপ, আর আপনি অনেক কষ্টে দিন পার করছেন।
হতে পারে আপনার প্রিয় কোন মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।
আমি কি সঠিক বললাম।
ভাবতে লাগলাম ব্যাপারটা কি কাকতালীয় না ইচ্ছাকৃত?
নাকি উনার বিশেষ কোন ক্ষমতা আছে।
আরে দূর, কি ভাবছি এইসব?
অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়লে দুই একটা ঠিক জায়গায় লাগারই কথা।
আর তাছাড়া, কালো শাল পরে, মুখে হাত দিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকলে,
যে কেউই বলে দিতে পারে, আমার মন খারাপ।
খুব শান্ত ভাবে মুখ খুললাম। জি বলতে পারেন কিছুটা ও রকমই।
তবে আপনি পুরাপুরি সঠিক ছিলেন না।
আমার কোন প্রিয় মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া অবধি ঠিক আছে।
কিন্তু সেইটা ইচ্ছাকৃত নয়।
আমার সেই প্রিয় মানুষটি মারা গেছে কিছু দিন আগে।
কথাটা বলতেই গলাটা কেঁপে উঠল কিছুটা।
অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম, হা সত্যিই আমরা মানুষরা পারি ও খুব।
মাত্র কিছু দিন হল সুমন মারা গেছে।
আর আজ আমি দিব্যি বসে গল্প করছি অন্য এক সমকামী মানুষের সাথে।
তার মরে যাওয়ার কথাটা অ-বলিল ভাবে বলে দিলাম?
উচ্চ মাধ্যমিকের বাংলা সাহিত্যে পড়েছিলাম একটি তুলসী গাছের কাহিনীতে,
“মানুষ প্রিয়জন হারানোর বেদনা যদি ভুলতে না পারতো,
তাহলে পৃথিবীটা শোকের মাতম আর বিলাপের শব্দে হাহাকার করতো”।
ঐ জন্যই বোধয় ভুলে যাচ্ছি তোমায়।
ফিরে আসলাম ভদ্রলোকের কথায় হা যা বলছিলাম।
দেখুন শাফিন সাহেব, আপনার সাথে কথা বলতে খারাপ লাগেনি বিধায়,
অনেকক্ষণ গ্যাঁজ গ্যাঁজ করলাম কিছু মনে করবেন না।
আপনি এখন আসতে পারেন।
আমি কিছুক্ষণ একা বসে থাকব এখানটায়।
আর হা, আমার দুঃখে দুঃখিত হবার দরকার নাই আপনার।
আপনি বরং বন্ধুর অফার অভিযান নিয়ে সামনে এগুণ।
পার্কটা চষে বেড়ালে, দু এক জন মিলে যেতে পারে।
আজ শুক্র বার খালি হাতে ফিরতে হবে না আপনার।
শাফিন বলে,
-দেখুন আপনার সাথে সেধে সেধে কথা বলেছি।
বুজতে পারছি আমাকে ফ্যালনা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে।
হয়তো ইতিমধ্যে আপনি সোজা একটা হিসাব কষে ফেলেছেন আপনার মনে মনে।
বেশ করেছেন আপনার জাগায় আমি হলে, ঠিক তাই করতাম।
কিন্তু দেখুন হে ক্ষণিকের পার্কের সঙ্গ-দানকারী,
দুঃখিত আপনার নাম জানি না তাই এই অদ্ভুত সম্ভাধন দিলাম।
আপনাকে বন্ধুর অফার দিলাম। যখন দেখলাম, আপনি মন খারাপ করে বসে আছেন।
দেখে মায়া লাগলো আপনার প্রতি।
আপনার সাথে বন্ধুত্ব হবে কিনা জানি না তবে একটা কথা বলতে পারি।
যে যাবার সে যাবে, তাকে ফিরে পাবার অপেক্ষায়,
পৃথিবী নামক মুরুভুমির রাস্তার ধুলো বালির মাঝে হাঁটতে হাঁটতে,
পানির পিপাসায় নিজের হৃদয় শুকিয়ে কি লাভ বলুন?
তবে হা আপনার ব্যাপারটা কিছুটা ভিন্ন, বুজতে পারছি।
আপনার প্রতিটি পদক্ষেপে হয়তো তার সাথে পার করা সময় গুলোর,
উপস্থিতির অস্তিত্ব, আপনি এখনো দেখতে পান।
কিংবা আপনি সেইগুলোকে খুঁজে বেড়ান বিধায়,
আপনার পায়ে পায়ে এসে দোল খাচ্ছে সেই সময় গুলো।
সেইসব দিন গুলো থেকে একটু বের হয়ে ঘুরে দাঁড়ান।
দেখবেন, আপনি ভালো থাকলে তার আত্মা খুশি হবে।
আপনার মুখের হাঁসির জন্য হয়তো, তার আত্মা আপনার পিছন পিছন ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সুতারং হাসুন।
নিজের জন্য বাঁচুন।
নিজেকে ভালবাসতে শিখুন অন্তত তার জন্য হলেও।
কথা গুলো বলে শাফিন একটা বড় করে শ্বাস নিলো।
আমি বললাম, বাপ রে মশাই আপনি পারেন ও বটে।
জাতীর উদ্দেশ্য নয়, আমার জন্য ভাষণটা জারলেন।
সাধুবাদ না দিয়ে পারছি না আপনাকে।
আর শুনুন, আমার নাম অমিত।
যাত্রাবাড়ীতে থাকি। একটা ইংলিশ মিডিয়ম স্কুলে পড়াই।
আর আপনার এই বিশাল ভাষণে কাজ হয়েছে মনে হচ্ছে।
কারণ আমার জমানো কষ্টের মেঘ গুলো আস্তে আস্তে সরতে শুরু করেছে।
আপনার বন্ধু হতে আপত্তি নেই।
আর আমার নাম্বারটা রেখে এখন বিদায় হন।
আমি কিছুক্ষণ একা থাকবো। একটা সিগারেট খেয়ে বাসায় যাব।
দেখলাম সাফিন একটা হাসি দিয়ে চলে গেল।
আমি বসে রইলাম সেখানটায় আরও কিচ্ছুক্ষণ ধরে।
বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১০ টা বেজে গেলো।
অবশ্য রাতের খাবারটা বাহীর থেকে সেরে এসেছি।
বিছানায় পিঠ ঠেকাবার আগেই, ফোনে রিং হতে লাগলো।
ফোন ধরতেই ও পাশ থেকে শান্ত গলায় আওয়াজ আসলো শাফিন বলছি।
মনে মনে বললাম এই যা। বাসায় আসতে না আসতে ফোন।
বিরক্তির কণ্ঠে বললাম, হা শুনছি বলুন।
তার পর থেকে প্রতিদিন তার ফোন পেতাম ঐ সময়টায়।
কিন্তু লক্ষ্য করলাম ও ঠিক ১০টা থেকে ১১টা অবধি কথা বলতো তার বেশি নয়।
আস্তে আস্তে এক জন আরেক জনকে জানতে লাগলাম।
এদিকে শাফিনের যাদুকরী কথা বার্তায়, আমি স্বাভাবিক হতে লাগলাম খুব তাড়াতাড়ি।
আগের মত হাঁসতে লাগলাম। ঠিক মত স্কুলে যাওয়া শুরু করলাম।

আয়নায় তাকিয়ে কথা বলতে লাগলাম।
বুজতে পারলাম আমি আবার প্রেমে পড়তে যাচ্ছি।
হায় সুমন, আমি খুব স্বার্থপর তাই না? তোমাকে ভুলে যাচ্ছি কত সহজে।
তোমার যায়গায় এখন শাফিনের অবস্থান।
জানো সুমন, শাফিন না অনেকটাই তোমার মত। আমার খুব খেয়াল রাখে।
আমার প্রতিটি কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে।
মাঝে মাঝে রেস্টুরেন্টে খেতে যাই তার সাথে।
তার বয়সটা আমার চেয়ে বেশি হওয়ায় বোধহয়, শাফিন অনেক মেচিউর।
কিন্তু বিছানাতে এক দম বাচ্চা ছেলেদের মত হয়ে যায়।
জানো কি পাগলামি করে? এক রাতে আমাকে দিয়ে ৭ বার সেক্স করিয়েছে।
এবার বুজো তাহলে কি পাগল একটা।
আমাকে তার ভিতরে নিয়ে নাকি সে শান্তি পায়।
আমিও পাগলের মত তার শরীরে জ্বালা মিটাতে থাকি।
তাকে আদর করতে থাকি।
কিন্তু তুমি একটু অন্যরকম ছিলে সুমন।
প্রথম দিন আমাকে তোমার ভিতরে নিতে গিয়ে,
কি রক্তা রক্তিটাই না করেছিলে নিজেকে।
সুমন এখনো মাঝে মাঝে তোমায় মনে পড়ে।
কিন্তু দেখ, বাস্তবিকতা তোমাকে মনের ভিতরে রেখে,
অন্য জনের সাথে বিছানা শেয়ার করি।
কিন্তু তাকেও আমি এখন ভালবাসি।
ঠিকই বলছি সুমন এইটাই হচ্ছে কঠিন বাস্তব।
বুয়ার কথায় বুজতে পারলাম কল্পনাতে ছিলাম।
-মামা কার লগে কতা কন?
না বুয়া কারো সাথে না । বল কি বলছিলে?
-আফনে ঈশকুলে যাইবেন না। কয়টা বাজে খেয়াল আছে?
ও হা তাইতো আচ্ছা বুয়া আমি গেলাম।
শুনো পারলে দুপুরে বুনা খিচুরি কর।
দেখলাম আকাশে মেঘ করছে বৃষ্টি নামবে হয়তো।
-আইচ্চা রান্ধুম্নি।

দুটো ক্লাস নিয়েই মাথা ধরে গেছে এত বক বক করতে হয় বাচ্চা গুলার সাথে।
সবে এসে বসলাম অফিস রুমে, এক কলিগ এসে বলল,
অমিত স্যার আপনার সাথে এক ভদ্র মহিলা দেখা করতে চান।
অভিভাবক কক্ষে বসে আছেন।
আমার সাথে তাও আবার মহিলা, অবাক হলাম কিছুটা।
তাকে বললাম আসছি আমি।
রুমে এসে দেখলাম মধ্য বয়সী এক মহিলা দাড়িয়ে আছে।
ঘরের ভিতরে ও সানগ্লাস পরে।
ভাবলাম কোন স্টুডেন্টের মা হবে হয়তো।
জী বলুন আপনার জন্য কি করতে পারি।
-আপনি অমিত।
জী আমি অমিত।
মহিলা আমার নীচ থেকে উপর পর্যন্ত এমন ভাবে দেখছে,
মনে হচ্ছে উনি কোন চিড়িয়া খানায় বাঁদরের কলা খাওয়া দেখছে।
-আমার নাম সেজুথি। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে রসায়ন পড়াই।
আপনার ছেলে মেয়ে কেউ কি আমার স্টুডেন্ট? প্রশ্ন করলাম তাকে।
-না আমি আপনার কাছে এসেছি অন্য কাজে। শাফিন নামে কাউকে আপনি চেনেন?
শাফিনের নামটা শুনে একটু ধমক খেলাম নিজের ভীতরে।
বললাম হা চিনি কি হয়েছে বলুন।
-আমি শাফিনের স্ত্রী।
কথাটা শুনে মাথায় রক্ত ছন করে উঠলো।
লাল হয়ে উঠলো দু চোখ। পৃথিবীটাকে লাথি মারতে ইচ্ছা করলো…………

**********************************************************


পর্ব-২(শেষ)

শাফিন বিবাহিত জেনেও নিজেকে নিয়ন্তন করেতে চেষ্টা করলাম।
স্বাভাবিক কণ্ঠে বললাম দেখুন আমার ক্লাস আছে।
আপনাকে বেশি সময় দিতে পারছিনা বলে দুঃখিত।
যদি কিছু বলার থাকে তাড়াতাড়ি শেষ করুন।
-না এখন তো সময় থাকবে না তোমার,
কিন্তু অন্যর স্বামীর সাথে শুয়ার জন্য, সময়ের সমুদ্র নিয়ে বসে থাকো নাহ?
কথাটা শুনে আমার রক্ত মাথায় চড়ে গেল।
যতটা ভদ্র মনে করেছিলাম তার কানা কড়ি নেই।
কিন্তু তারপর ও মাথা গরম করা চলবে না।
এইখানে আমার সম্মানটা বাঁচাতে হলে, মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে।
দেখুন আপনাকে পুনরায় অনুরোধ করছি মাজিত বাসায় কথা বলুন।
এইটা একটা শিক্ষাঙ্গন কোন জনসভার ময়দান নয়।
আপনি আস্তে বললে ও আমি শুনতে পারছি।
এবার গলার ভলিউমটা আরও বাড়িয়ে দিয়ে বলল।
-তোমার মত পুরুষ পতিতার জন্য এরচেয়ে ভালো ব্যাবহার আমার অভিধানে নেই।
খুব ভালোই কাবু করে ফেলছ শাফিনকে।
গত চারটি মাস আমি অপেক্ষা করেছি তোমার চেহারাটা একটিবার দেখার জন্য।
আর আমার স্বামী ও যে বিরাট গাধা, তোমাকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না।
আরে, তোর শরীর দরকার কোন মাগীর কাছে যা।
কোন সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে ফুর্তি কর, তাও মন কে বুঝাইতে পারাতাম।
কিন্তু সে ধরেছে তোমার মত এক বিহন্নলাকে।
কি আছে তোমার মাঝে, যা আমার মাঝে নেই?
কি মোহে পাগল করেছ আমার স্বামীকে।
হ্যালো এই যে একদম চুপ।
কথাটা একরকম চিৎকার দিয়েই বললাম তাকে।
আর পারলাম না নিজেকে নিয়ন্তন করতে। আমার চোখে পানি টল মল করছে।
কান দুটো আগুনের মত গরম হয়ে গেছে।
জীবনে এই প্রথম বার এতটা অপমান জনক বাক্য শুনলাম।
তাও কোন মহিলার কাছ থেকে।
একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে আবার শুরু করলাম।
ভালোই বলেছেন পতিতা।
হয়তো আপনার ভাই কিংবা আপনার বাবা ঐ পতিতালয়ে যায় বিধায়,
সেই বস্তী গুলার নাম পতিতালয় হয়।
শুনুন আমি আপনার স্বামীকে কাবু কিংবা যাদু কিছুই করিনি।
শাফিন ও আমাকে তেমন কিছু করেনি।
আর ঐ যে আপনি বলছিলেন,
শাফিন যদি কোন মেয়ের কাছে যেত আপনি সেইটা মেনে নিতেন।
হা হা হা খুব হাসি পেলো আপনার কথা শুনে।
আপনি কেন? পৃথিবীতে এমন কোন নারী আছে বলে মনে হয় না।
যে নিজেকে বুঝে, যে অন্যকে বুঝার চেষ্টা করে।
কিংবা খুব সহজে অন্য নারীকে মেনে নিতে পারে।
আর বলছিলেন, শরীরের কথা, হা আমার ও তাই মনে হয়।
আপনি হয়তো শরীরের উষ্ণতা খুঁজে বেড়ান তার মাঝে।
কিন্তু কখনো বুঝতে চাননি তার ভিতরটাকে।
হয়তো কখনো জানতে চাননি, তার মুখের একটু হাঁসির অর্থবধকতাকে।
হয়তো পারেননি তাকে পরিপূর্ণ সুখী করতে।
তা না হলে সে আমার মাঝে এসে, সুখের ছায়া খুঁজে বেড়াতো না।
আর শুনুন, পারলে আপার স্বামীকে শাড়ীর আঁচল দিয়ে বেঁধে রেখে দিবেন।
আর বলেছিলেন আমি বেহন্নলা।
বাহ শব্দটা কিন্তু মারাক্তক প্রয়োগ করলেন।
বেহন্নলা মানে হিজড়া।
শুনুন সেজুথি আমি হিজড়া হই আর পুরুষই হই আমি কিন্তু মানুষ।
আমাকে যিনি পাঠিয়েছেন আপনাকে ও তিনি পাঠিয়েছেন।
আমি একটা সমকামী ওহ সরি আপনার ভাষায় হিজড়া।
হা ঐ যাই বলেন, শুনুন আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি।
পারলে আপনার স্বামীকে আমার কাছ থেকে দূরে রাখুন।
আর একটি কথা ও না বলে সোজা চলে যান।
দরজাটা ও দিকটায়।
-আমি তোমাকে…।।
মহিলাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম নাহ, আর একটি কথা ও নয়।
মহিলা চলে গেল। আমি ওখানটা চেয়ারে বসে পড়লাম।
এত-বড় অপমান এক সাথে হজম করতে পারছিলাম না।
আর ভাবতে লাগলাম শাফিন আমার সাথে এমন করলো কেন?
সে কেন বলতে পারলো না সে বিবাহিত।
কত বার তাকে বলেছিলাম,
আমার সাথে মিথ্যা বলতে চেষ্টা করো না কোন দিন।
শাফিনকে কিচ্ছু বলা যাবে না।
ব্যাপারটা তার মুখ থেকে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
দুই দিন পর শাফিন বাসায় আসলো।
আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই থাকার চেষ্টা করছি।

-তোমাকে একটা কথা না বলে থাকতে পারছি না অমিত।
আমি বিবাহিত আমার স্ত্রী অধ্যাপিকা।
ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে রসায়ন পড়ায়।
আমাকে মাপ করে দাও অমিত।
আমি বললাম এত দিন বলনি কেন আমাকে?
-কারণ আমি ভয়ে ছিলাম যদি তুমি আমাকে ছেড়ে দাও তাই।
আমিতো তোমাকে এখনো ছেড়ে দিতে পারি। এখন ভয় করছে না তোমার।
-না করছে না।
তুমিই একদিন বলেছিলে সত্যি যত ভয়ংকরই হোক না কেন।
শুনতে তোমার খারাপ লাগে না।
বাহ কথাটা-তো ভালোই মনে রেখেছ দেখছি।
আমি একটা কথা বলতে গিয়ে চুপ মেরে গেলাম।
ভাবতে লাগলাম না তাকে আঘাত দিয়ে কথা বলা যাবে না।
কারণ আজ যদি আমি তাকে আঘাত দেই,
তাহলে সে চিরজীবন সত্য থেকে পিছু হটতে থাকবে।
ভয় পাবে সত্যর মোকাবিলা করতে। আর আমিতো সেজুথিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম।
যদি শাফিনের সাথে আমার জগরা হয় তাহলে জিতে যাবে সেজুথি।
তাকে জিততে দেয়া যাবে না।
আর আমিই বা কম যাই কিসে, আমারও তো ভালোবাসার মানুষ ছিল।
সেতো মরে গিয়ে বেছে গেছে। তা না হলে এই জামেলা পোহাতে হত না আমায়।
খুব ধীরে ধীরে শাফিনের দিকে তাকালাম, আর বলতে লাগলাম।
দেখ শাফিন, ভালোবাসা এমন কোন বস্তু নয় যে,
পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখবে তোমার চার দেয়ালের মাঝে।
কিংবা পোশাক বদলের মত নয় যে ভালো লাগলো না খুলে, ছুঁড়ে ফেলে দিলে।
ভালোবাসা এমন একটা জিনিস যা অনেকের কাছে ভাগ্যর ব্যাপার।
যদি সত্যি তাকে পেয়ে যাও,
তাকে অনাদরে অবহেলায় ছোট করো না যেন।
তাকে সম্মান করতে না পারো কিন্তু পায়ের জুতোয় নীচে ফেলো না।
সেজুথি তোমার অর্ধাঙ্গিনী, তাকে ঠকানোর কোন অধিকার তোমার নেই শাফিন।
তোমার স্ত্রী হিসাবে তোমাকে পরিপূর্ণ গ্রহণের অধিকার সে রাখে।
আমার কথা বাদই দিলাম, আমার অবস্থা আম কুড়ানোর মত,
কুড়ে পেলাম ধরে খেলাম।
তুমি-তো জানতে তুমি আসলে কি?
একটা নারীকে পরিপূর্ণ সুখে রাখার জন্য যথেষ্ট শক্তি তোমার শরীরে হয়তো আছে।
কিন্তু মানসিক ভাবে তুমি পরিপূর্ণ নয়।
কেন একটা মানুষকে তোমার জীবনে টেনে এনে দাড় করালে কঠিন বাস্তবতার?
-সেজুথি তোমার সাথে দেখা করেছিলো নাকি?
সেইটা বড় কথা নয় শাফিন।
তুমি যে বিবাহিত এবং সে তোমার স্ত্রী। সেইটা-তো সত্যি।
-হা অমিত। ভালো বলেছ আমি বিবাহিত।
সমকামী হবার সত্ত্বেও কেন আমি বিয়ে করলাম সেজুথিকে?
আমার ও একই প্রশ্ন, কেন?
তুমি শিক্ষক মানুষ নিশ্চয় তোমার অজানা নয়, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কথা।
তুমি যতই চেষ্টা করো,
তোমার ভিতর তুমি কে আবিষ্কার করতে, তুমি আসলে কি?
কিন্তু তোমার পরিবার, তোমার সমাজ কি তা মেনে নিবে।
যদি তুমি বল তুমি সমকামী।
হা আমি অপরাধী আমি সাহস করে বলতে পারিনি।
যখন দেখেছি আমার মায়ের ঐ চোখ দুটোর ছল ছল চাউনি।
চিৎকার দিয়ে বলতে পারিনি বাবার মুখের পাণে চেয়ে,
আমি কোন মেয়েকে নিয়ে সুখী হতে পারব না বাবা।
তাই বাদ্য হয়েছি সেজুথিকে মেনে নিতে।
কিন্তু দেখ, আজ আমি কতটা কঠিন বাস্তবতার মুখো মুখি দাঁড়িয়ে।
আমার মত সমাজে অনেক মানুষ আছে।
যারা দুই নৌকায় অবস্থান নিয়ে,
অবস্থানগত কারণ ভুলে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে ও, পারে না সফল হতে।
দেখ আজ তুমি, আমি কিংবা সেজুথি দাঁড়ীয়ে আছি কতো গুলো প্রশ্নের সামনে।
সমাজ কি আজ এগিয়ে আসবে আমাদের সাহায্যে?
এই সমাজ শুধু নিয়ম তৈরি করে, গলায় বেড়ি হিসাবে বেঁধে দিতে পারে।
আর সামাজিক জীব বলে আমাদের মেনে নিতে হয় ঐ নিয়মের গ্লানি গুলোকে।
অমিত, তোমার সামনে দাঁড়িয়ে, তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে আমার দ্বিধা হচ্ছে।
কারণ আমি তোমার অপরাধী।
অমিত তুমি জানো, যে ভালোবাসা ব্যর্থ ভাবে আকাশে মুক্ত থাকে।
অন্তরের মধ্যে সেই ধায় সঙ্গ।
যে ভালোবাসা বিশেষ ভাবে প্রতিদিনের সব কিছুতে যুক্ত হয়ে থাকে সংসারে।
সেই দায় অসঙ্গ।
দুটাই আমার চাই আমিত।
আমি চললাম অমিত, তুমি সুখে থেকো সবসময়।
আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে শাফিন চলে যাচ্ছে।
আমি বাঁধা দিতে পারছিনা।
আমার অভিধানে এমন কোন শব্দ নাই যে তাকে একটুখানি সান্ত্বনার বানী শুনাব।
কিন্তু সে যাচ্ছে খারাপ ও লাগছে না তেমন।
কারণ তার চার দিক থেকে মাথা চাঁটা দিয়ে জেগে উঠা,
সমস্যা গুলোর সমাধান তার নিজেকেই করতে হবে।
যদি সে হেরে যায় আমি ধরবো তার হাত। কারণ এ হারাতে জয়ী আমি হবো।
আমার খুব মাথা ধরেছে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে।
সময়ের হাতে ছেঁড়ে দিয়ে ঘুমাতে গেলাম।
কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল।
কে এলো সাত সকালে বুয়া আসার কথা তো নয়টায়।
চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খুললাম,
যা দেখলাম ভূত দেখলেও এতোটা বিশ্বময় হতাম না।
সেজুথি আপনি এত সকালে?
আমার বাসার ঠিকানা পেলেন কেমন করে।
-বলছি সব। তার আগে ঘরে তো প্রবেশ করতে দিবেন না কি?
ঐ দিনের এত অপমানের পর ও আমি ভদ্র ভাবে কথা বলছি।
কারন সেজুথির মুখ দেখলে বুঝা যায়, কাল রাতে ঘুমায়নি সে।
ভোরের জন্য অপেক্ষা করেছে।
এমন একটা ভাব তার মুখে দেখলাম, একটি নির্লিপ্ত হাসি,
তাতে একটুও রাগ নেই, স্পর্ধা নেই, অভিমান নেই।
বললাম আরে আসুন আসুন।
কি দিব চা না কফি?
-ভাই চা কফি পরে হবে। আগে টয়লেটের দিকে যান ফ্রেশ হয়ে নিন।
মুখে একটু হাঁসি দিয়ে বললাম ওহ তাইতো।
আচ্ছা আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি, চা কফি চাইলে নিজে করে নিন।
বুয়া এখনো আসেনি ব্যাচেলর মানুষ একা থাকি। রান্না ঘরটা ওদিক টায়।
ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি সেজুথি ২ কাপ চা নিয়ে বসে আছে।
বললাম বাহ ভালো তো।
প্রতিদিন যদি এমন করে সকাল বেলায় চা পেতাম, খারাপ হত না। হা হা।
-আচ্ছা অমিত নামটা কে দিল?
আমার বাবা।
-তা নাম যেহেতু অমিত কোন লাভন্ন্যকে ধরলেই পারতেন।
শাফিনকে কেন?
আমি বললাম, আপনি লাভন্ন্য হয়ে কোন শোভন লাল কে ধরলেই পারতেন।
শাফিনকে কেন?
-শুনুন আমার সাথে রবি ঠাকুরের শেষের কবিতা কব্জাবেন না।
আমার বিষয় রসায়ন হলে বাংলায় কম যাই না।
হাঁ তাতো দেখতেই পারছি।
-আচ্ছা অমিত, শাফিন আপনাকে কেন এত ভালোবাসে। আমাকে নয় কেন?
আমি একটু হেঁসে বললাম,
রবি ঠাকুরকে যেহেতু সকালবেলায় ঘুম থেকে জাগিয়ে দিলেন।
তো উত্তরটাও শেষের কবিতা দিয়েই হোক।
আপনার সাথে শাফিনের সম্পর্কটা ভালোবাসারই কিন্তু সে যেন ঘড়ায় তোলা জল।
প্রতিদিন তুলে ব্যাবহার করে হয় সেই জল।
আর আমার সাথে শাফিনের যে ভালোবাসা সে রইলো দীঘি।
সে ঘরে আনবার নয়। শাফিনের মন সেখানে সাতার দিবে।
-ভালোই বলেছেন। তাইতো এই সকাল বেলা আপনার দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমি।
দুঃখিত ভয় পাবেন না।
আমি শাফিনকে আপনার কাছে ভিক্ষা চাইতে আসি নি।
আবার ঐ দিনের ব্যাবহারের জন্য ক্ষমা ও চাইতে নয়।
আমি এসেছি, যে জড় আমাদের তিন জনকে সাদা মেঘের মাঝে উড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে তার সমাধান দিতে।
কাল রাতে শাফিন আপনার কাছ থেকে ফিরে গিয়ে, মুখো মুখি হয় আমার।
বলতে থাকে তার জীবনের অপ্রকাশিত না জায়েজ কষ্ট গুলোর ব্যাথা।
আমি কাল রাতে আমার জীবনে, সব চেয়ে কঠিন সময় পার করেছি।
সকালে সিধান্ত নিয়ে, শাফিনকে না জানিয়ে আপনার দরজায় চলে আসলাম।
আমি বললাম তা কি সিদ্ধান্ত নিলেন শুনি।
-হাঁ বলছি, দেখুন অমিত।
আমি চাইলে শাফিনকে পুরা-পুরি ভোগ করতে পারি।
আইনত শাফিন আমারই। তার সব কিছুর অধিকার শুধু আমার।
কিন্তু ঐ যে বললাম অধিকার, সেটা জোর করে আদায় করা যায় না।
আমি হয়তো আদালতে যেতে পারি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সমর্পকের পরিণতি কি দাঁড়াবে?
তালাক?
বিনিময়ে আমি পাবো কিছু টাকা। কি হবে ঐ টাকা দিয়ে ।
টাকা আমার নিজের কম কিসের। কিন্তু যেটা কম সেটা হল ভালোবাসা।
যদি আদালত করতে যাই,
শাফিনের মাঝে তার ভালবাসার কানা কড়িও অবশিষ্ট থাকবে না আমার জন্য।
দেখুন, কাল রাতে প্রথম বার এর মত শাফিনের সাথে খোলা খুলি কথা বলে,
জানতে পারি তার ভিতরটাকে।
শাফিন আমাকে ভালোবাসে না তা কিন্তু নয়।
শাফিনের মাঝে দুইটা সত্ত্বা কাজ করে। যা আমার জন্য সাথে অমিতের জন্য।
শাফিন ছেলেবেলা থেকে ছেলে মেয়ে উভয়কে পছন্দ করে।
কিন্তু সমাজ আর পরিবারের চাপে পড়ে,
চেপে রেখেছিল একটা অধ্যায় কিন্তু আর কত?
সত্য এক দিন না এক দিন বের হয়ে আসবেই। হল ও তাই।
কিন্তু আমি শাফিনকে অনেক ভালোবাসি যেমন করে শাফিন আপনাকে।
আমি যদি আপনার থেকে,
শাফিনকে আদালত কিংবা পরিবার অথবা সমাজের ভয় দেখিয়ে কেঁড়ে নেই।
তাহলে আমার সাথে যে বাস করবে, সে হবে রক্ত মাংসে গড়া এক পুতুল।
তার কষ্ট আমি বয়ে বেড়াতে পারবো না।
আর পারবো না আমার ভালবাসাকে অবহেলা করতে।
আবার আপনার প্রতি তার ভালোবাসাকে অস্বীকার করার সাহস ও নেই আমার।
শুনুন অমিত আমি এখন আপনাকে যা বলবো বাস্তবে তা ঠিক হবার নয়।
শুধু রূপালী পর্দায় দেখতে পাওয়া যায়।
কিন্তু আমি করছি। যদিও আমি যত আধুনিক আর উচ্চ শিক্ষিত নারী হই না কেন।
স্বামীর ভাগ দেয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
হা সেইটা কাল অবধি ছিল।
আজ আমি শুধু এক নারী নয়। আমি এক ভালোবাসার কাঙ্গালিনী।
তাই এই ঘুণে ধরা সমাজ কে বুড়া আঙুল দেখিয়ে,
আমি বদলাবো এই সমাজের নিয়মকে।
হা অমিত আমি ঠাণ্ডা মাথায় বলছি।
শাফিন তোমার আর আমার দুজনের।
এস আমরা দুজন মিলে তার জীবন,
আর আমাদের জীবনটাকে আনন্দে বাসিয়ে দেই।
এখান থেকে যাবার পর শাফিনকে পাঠাবো বাকীটা তুমি বুঝবে।
আমি বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে গেলাম।
ইচ্ছা করছিলো এই মহিলাকে একটা সালাম দেই।
যাইহোক আবেগ সামলিয়ে বললাম, সেজুথি আপনার তুলনা হয় না।
এক জন নারী চাইলে সব কিছু পারে আপনি তার দ্বেষ্টান্ত।
যদিও বাস্তবে একজন নারীকে এ রকম পাওয়া মুশকিল আমাদের সমাজে।
কিন্তু আর কত চুপ করে থাকবো আমরা।
তাই সেজুথি, অমিত আর শাফিনের মাধ্যমে না হয় শুরু হক সমকামিতার সাতকাহন।

ভালোবাসার লোভ-লালসা


অভির সাথে পরিচয়টা হয়েছিলো ইরার জন্মদিনে। বাবা মার এক মাত্র মেয়ে ইরা।
বাবার কালো টাকার পাহাড়, তাই মেয়ের জন্মদিনে জাঁকজমকের কমতি রাখেনি।
ওহ, ইরা আমার গার্ল ফ্রেন্ড।
গত দুই বছর প্রেম করছি। আমার সাথেই B.B.A পড়ছে ইরা।
AIUB তে ৩য় বর্ষে। বড়লোকের দুলালীর চাহিদা মিটাতে হিম সিম খাচ্ছিলাম আমি।
এইতো কাল বলেছিল তার জন্মদিনে,
যেন আমি একটা সোনার আংটি আর দামী একটা জামা নিয়ে আসি।
স্টুডেন্ট মানুষ, এত টাকা ছিলনা আমার কাছে।
তাই একটা জামা নিয়ে আসলাম। কিন্তু তার পছন্দ হল না।
শুরু হল জগরা, তাই মন খারাপ করে বসে আছি পার্টির এক কোণে।
হাতে আছে একটা বিয়ারের গ্লাস।

একটু পর তুমি কাছে এসে বললে ভাইয়া আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?
হা পারো, বল কি বলতে চাও?
-ভাইয়ার নাম কি।
আমার নাম শুভ্র।
-আমার নাম অভি। ভাইয়া আপনার কি মন খারাপ?
বললাম হা কিছুটা তুমি ইরার কি হও?
-আমি ইরা আপুর খালাতো ভাই। ঢাকা কলেজ এ ইন্টার মিডিয়েটে পড়ছি ২য় বর্ষে।
ভাইয়া আপনি কি মডেলিং করেন?
না রে ভাই আমি, আবার মডেল।
আমি খুবই সাধারণ এক জন মানুষ। কেন বলতো?
-আপনি দেখতে অনেক হ্যান্ড-সাম।
নিজের প্রশংসা শুনলে কার না ভালো লাগে। আমার ও খারাপ লাগেনি।
তাই কিছুক্ষণ কথা বলছিলাম আর তাকাচ্ছিলাম ইরার দিকে।
সে এক বার ও আমার দিকে তাকাই নি।
-শুভ্র ভাইয়া আমি কি আপনার ফোন নাম্বারটা পেতে পারি?
আমি কিছু না ভেবেই দিয়ে দিলাম। ইরার খালাত ভাই বলে কথা।
না হয় ইরা শুনলে আমার মাথা ফাটাবে।

এর পর থেকে তুমি মাঝে মাঝে ফোন করতে, আমি ও কথা বলতাম।
কিন্তু বুজতে পারতাম তোমার কথার মাঝে, একটু মেয়েলী ভাব আছে।
ছেলেবেলায় আমার এক বন্ধু ছিল। কি যেন নামটা? ওহ হা ইফতি। সে ও এমনই ছিল।
আমার সাথে দেখা হলেই সারাক্ষণ শরীর ঘাটা ঘাটি করতো।
আমার পেনিস নিয়ে নাড়া চাড়া করতো।
ক্লাস নাইনে থাকা অবস্থায় প্রথম কক্সবাজার গেলাম সমুদ্র দেখতে। রাতে হোটেলে ছিলাম এক সাথে।
মাঝ রাতে ও আমার পেনিস ধরে নাড়া চাড়া করছিলো। আমি ও উত্তেজিত হয়ে উঠলাম।
সেই প্রথম ছেলের সাথে সেক্স করেছিলাম। মাঝখানটায় আর কিছু করা হয়নি।
ইরার সাথে হত সেক্স মাঝে মাঝে। কিন্তু ইরার সাথে সম্পর্কের মাঝে আমি মানসিক প্রশান্তির চেয়ে,
মানসিক অশান্তিতে ছিলাম বেশি।
তার চাহিদা বাড়তে লাগলো দিন দিন, সাথে আমার মনের দূরত্বটা ও বাড়ছিলো সমান তালে।
এ দিকে অভিকে দেখলাম আমার খুব খোঁজ খবর নিচ্ছিল ফোন।
ইরার ব্যাপারে তার সাথে কথা বলতাম।
সে আমাকে সান্ত্বনা দিত। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ইরার সাথে বেক আপ করে ফেললাম।

খুব একাকীত্বে দিন কাটতো আমার। তখন অভি আমার কাছে আসতে লাগলো দিন দিন।
আমি তাকে ছোট ভাই আর ফ্রেন্ড হিসাবেই দেখতাম।
তবে হা অভির সাথে কথা বলতে আমার খারাপ লাগতো না।
অভি ইচ্ছা করে কথার ফাঁকে ফাঁকে সেক্স বিষয়ে কথা বলতে চাইতো,
আমি সুযোগ দিতাম না বলে চুপ করে যেত।
সে আমাকে সবসময় বলতো যাতে তার সাথে দেখা করি। আমি চাইতাম না।
কারণ একটা ছেলের সাথে ঘটা করে দেখা করার কোন মানে হয় না।
কিন্তু সেই দিন পাবলিক লাই-বেরিতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চলছিলো।
মাটির ময়না দেখতে গিয়েছিলাম আমার বন্ধুদের সাথে।
ও খানটায় দেখা হয়ে গেল অভির সাথে।
অভি বলে, ভাইয়া আমার বাসা পাশেই, আজ আপনাকে ছাড়ছি না।
অনেক ছাপা চাপিতে গেলাম। তার বাবা মা বোধয় বাহিরে ছিল।
বাসায় কাজের মেয়ে একা। অভি আমাকে তার রুমে নিয়ে গেল।
তার কম্পিউটার এ বসালাম একটা ইংলিশ গানের মিউজিক ভিড়িও প্লে করলাম।
অদ্য নগ্ন মেয়েগুলা দেখে আমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে গেলাম।
এ দিকে অভি তার শরীরটা ঘেঁষে বেড়াচ্ছে আমার শরীরের সাথে।
এক পর্যায়ে খুব উত্তেজিত হয়ে গেলাম।
অভি সে সুযোগটা মটেও হাত ছাড়া করলো না।
হাতটা নিয়ে গেল সরাসরি আমার পেনিসের উপর।
আমি ও নিষেধ করলাম না। আর তাছাড়া আমিতো ভাই সতী সাবেত্রি নয়।
ছোট বেলা থেকে বোধয় সমকামিতার রক্ত বয়ে বেড়াচ্ছি শরীরে।
মেতে ছিলাম কিছুক্ষণের সমকামিতার খেলায়।
সেক্সের পর কেন যেন অভির দিকে তাকাতে লজ্জা করলো।
অভি বলে,
-শুভ্র ভাইয়া শুনো, এইটা আহা মরি কোন ব্যাপার না। তোমার সাথে সেক্স করার ইচ্ছা আমার অনেক দিনের।
আজ তোমার আদর দিয়ে শরীরের জ্বালা মেটালাম।
তুমি চাইলে যে কোন দিন আমাকে ব্যাবহার করতে পারো।
আমার মুখ থেকে লজ্জার ভাবটা কেটে গেলো।
বাসায় এসে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
বিছানায় সটান হয়ে নিজেকে সপে দিলাম।
একটু দুর্বল লাগছে, কিন্তু মনের মাঝে একটা তৃপ্তির ভাব লেগে আছে।
কত মেয়ের সাথেই তো সেক্স করলাম কিন্তু এতটা উপভোগ করিনি কোন দিন।
প্রতি রাতে অভি আমাকে ফোন দিতো। আজ ঠিক ১২ টার পর ফোনটা আমিই করলাম অভিকে।
অভিকে একটা ধন্যবাদ দিলাম এত সুন্দর একটা সেক্স উপহার দেয়ার জন্য।
ঐ দিন রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টার মত কথা বললাম।

এই ভাবে চলতে থাকলো কথার তুফান, মাঝে মাঝে অভির সাথে দেখা করতে যেতাম ঢাকা কলেজে।
রেস্টুরেন্টে খেতাম, ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসে গল্প করতাম।
আমি তখন জানতাম না ছেলে ছেলে ভালোবাসা হতে পারে।
কিন্তু আমার কাছে অভিকে ভালো লাগতে শুরু করলো।
তখন জানতাম না, সমকামীদের একটা বিশাল ওয়ার্ল্ড আছে।
ফেসবুক ব্যাবহার করতাম ঠিকই কিন্তু, সমকামী কোন ফ্রেন্ড ছিল না।
কিংবা রমনা পার্কের ব্যাপারে ও জানতাম না কিছু।
ভালোই চলছিলো অভি আর আমার সম্পর্ক। মাঝে মাঝে সেক্সটা ও হতো।
এক দিন সে আমাকে বলল শুভ্র, তুমি কি জানো আমি এক জনকে অনেক ভালোবাসি।
কিন্তু এত দিন অপেক্ষা করেছিলাম কথাটা যেন তার মুখ থেকে আসে।
কিন্তু আমার ধারনাটা ভুল, মনে হয় না এ জন্মে সে আমাকে কথাটা বলবে।
তাই আজ বাধ্য হয়ে আমিই তাকে বলবো।
আমি তখনো জানতাম না, কথা গুলো সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছিল।
ভাবলাম সে হয়তো কোন মেয়েকে ভালোবাসে।
আগেই বলেছিলাম ছেলে ছেলে ভালোবাসার সম্পর্কে আমার কোন ধারণা ছিল না।
অভিকে জিজ্ঞাস করলাম, তা সে রমণীটা কে।
আমার কথা শুনে সে জোরে হাঁসতে লাগলো।

-আচ্ছা শুভ্র তুমি এত বোকা কেন?
আমি বললাম, অভি আমি ও রকমই।
-আচ্ছা শুনো আর লুকোচুরি নয়। হা শুভ্র আমি তোমায় ভালোবাসি।
আমি তৈরি ছিলাম না কথাটার জন্য।
আমি কোন জবাব দিলাম না। অভি নিজে থেকে আমি সব বলল, হা ছেলে ছেলে ও ভালোবাসা হয়।
ভালোবাসতো দুটা মানুষে মানুষে হয়। সে নারী কিংবা পুরুষ বলে নয়।
অভির কথা গুলো চুপ করে শুনতে লাগলাম।
রাতে বাসায় ফিরে ভাবতে লাগলাম। আসলে কি তাই হয় নাকি।
এই যে আমি এখন অভিকে মিস করছি। তাকে অনুভব করছি বোধহয় এইটাই ভালোবাসা।
এই ভাবে দিন কাটতে লাগলো আমাদের।
বুজতে পারছিলাম আমি অভিকে ভালোবেসে ফেলেছি।
কিন্তু তারপর ও কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলাম ব্যাপারটা নিয়ে।
কারণ আমি মেয়েদের পছন্দ করতাম ইরা এবং তমা এই দুই মহারানীর সাথে সম্পর্ক থাকা কালে,
কোন দিনও এতটা আনন্দ কিংবা শান্তি পায়নি মন থেকে।
কারণ তাদের চাওয়া পাওয়া গুলো এত বেশি ছিল যে, নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হিম সিম খাচ্ছিলাম।
কিন্তু অভি , তার তেমন কোন চাহিদা নাই। সে আমাকে ভালোবাসে। আর কাটুক না দিন এ ভাবে।
তাই ভাবলাম অভিকে বলে দিব যে আমি তাকে ভালোবাসি।
এক দিন রাতে ফোন দিলাম অভিকে।
তুমি কি ঘুমচ্ছিলে নাকি অভি?
-না এমনি শুয়ে ছিলাম। আচ্ছা শুভ্র তোমাকে একটা কথা বলবো।
আমি ভাবলাম এই যা, আমিতো তোমাকে বিশেষ কিছু বলবো বলে ফোন দিলাম।
বললাম না থাক আগে দেখি অভি কি বলে।
-শুনো একটু আগে হঠাৎ করে চোখ দুটো লেগে আসলো।
একটা দারুণ স্বপ্ন দেখলাম তোমায় নিয়ে।
দেখলাম আমি আর তুমি আমার বাসার ছাদে বসে সকালের সূর্য উঠা দেখছি।
হাতে কফি আর তুমি চেয়ে আছো আমার মুখের দিকে।
আমি তোমার কোলে শুয়ে তাকিয়ে আছি ঐ সূর্যটার দিকে। কি দারুণ রোমান্টিক নাহ?
আমি বললাম হা খুবই সুন্দর।
-কিন্তু জানি সেই দিনটা বোধয় কোন দিন ও আসবে না আমার জীবনে।
আমি বললাম হতে পারে। আচ্ছা অভি শুনো আমার সকালে একটা কাজ আছে।
তাই তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে। আজকে ফোনটা ছাড়ছি।
ফোনটা রেখে ভাবলাম অভির স্বপ্ন টার বাস্তবিক রূপ দিলে কেমন হয়।
ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম তাড়াতাড়ি।
ঠিক রাত সাড়ে ৪টায় তার বাসার সামনে নামলাম CNG থেকে।
ফোনে কলের উপর কল করে যাচ্ছি ধরছে না অভি।
ভাবলাম হায় রে, ফোনটা না ধরলে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।
ভাগ্য ভালো রাত ৫ টার দিকে ফোনটা ধরল অভি।
ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল, শুভ্র এত রাতে? কি হয়েছে তোমার?
শুনো দরজা খুলো। আমি তোমার বাসার সামনে দাড়িয়ে।
-কি বলছ যা তা?
শব্দ পেলাম অভি শুয়া উঠে বসে গেল বিছানায়।
আমি বললাম হা সত্যি তাই। চল ছাদে যাই তোমার সাথে সূর্য উঠা দেখবো।
-কি বকছ পাগলের মত। মা বাবা ঘুমিয়ে আছে, দরজা খুলতে গেলে টের পেয়ে যাবে।
শুনো শুভ্র পাগলামি করো না বাসায় চলে যাও।
অভি তুমি দরজা না খুললে আমি কিন্তু এ ভাবে কাটিয়ে দিব সকালটা।
তুমি তো জানই আমি যা বলি তাই করি।
অভি বাধ্য হয়ে দোতলার করিডোরে এসে দেখল আমাকে আমি সত্যি না মিথ্যে বলছি।
উপর থেকে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো আমি ও তার দিকে।
ইশারা করে বললাম দরজাটা খুলো।
বাধ্য হয়ে চোরের মত গেইট খুলে দাড়িয়ে আছে আমার দিকে।
অভি একটা হাফ প্যান্ট আর সাদা রঙের গেঞ্জি পরে ছিল অসাধারণ লাগছিলো তাকে।
বিড়ালের মত পা চালিয়ে ছাদে গেলাম অভির পিছন পিছন।
কিন্তু সব ঠিক ছিল, পূর্ব দিকটা আলো করে সূর্য দেখা যাচ্ছিল।
অভি আমার কোলে মাথা রেখে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।
আমি তাকিয়ে আছি অভির দিকে। শুধু হাতে কোন কফি ছিল না।
কারণ সে কিচেনে গেলে তার মা ঘুম থেকে উঠে যেতে পারে।
বললাম অভি আমি তোমাকে ভালোবাসি।
অভি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না।
-কি বললে?
আমি তোমাকে ভালবাসি অভি।
দেখছিলাম আনন্দে অভির চোখ থেকে পানি বেয়ে পড়ছে।
অভির চোখের পানিতে কিস দিলাম। তাকে জড়িয়ে ধরলাম আমার বুকের মাঝে।
সূর্য তখন অনেকটা আলোকিত করে দিয়েছে চারদিক।
বললাম এবার উঠো আমি যাব, আসে পাশে লোক জন ছাদে আসলেই দেখতে পাবে আমাদের।
অভি বলল শুভ্র আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি কোন বাস্তবে আছি না এখনো স্বপ্নে।
আমি তার ঠোঁট দুইটা কামড়ে ধরে বললাম কি এখন মনে হচ্ছে। যে তুমি আমার সাথে বাস্তবে।
খুব ভালো ভাবেই কাটছিল আমাদের দিন গুলো।
কিন্তু কিছুদিন পর দেখলাম অভির পরিবর্তন।
আগের মত প্রতিদিন দেখা করতে চাইতো না।
আমার ফোনের জন্য তার মাঝে উৎকণ্ঠা দেখতে পেতাম না আগের মত।
এ দিকে তার চাহিদা গুলো বাড়তে থাকলো দিন দিন।
সাধারণত বাহীরে গেলে সব সময়, খাওয়ার বিল কিংবা গাড়ীর ভাড়া আমিই দিতাম।
মাঝে মাঝে তাকে বাংলার মেলা, কেটস-অ্যাই কিংবা আজিজ মার্কেট থেকে গেঞ্জি, জামা কাপড় গিফট করতাম।
অভির মোবাইলে টাকা আমি পাঠাতাম। কিন্তু আস্তে আস্তে বুজলাম সে আগের অভি আর নাই।
জগরা হতে লাগলো আমাদের মাঝে।
তার এইটা চাই, ঐ টা চাই। জেদ করে বসে থাকতো। তার চাহিদা পূরণ না হওয়া অব্ধি।
আমি বরাবরই ঐ এক রোখা টাইপের যেটা নিয়ে ছিলাম সেইটা ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতাম।
অভির বেলায় ও তাই হল।
সেইদিন অভি বলল তার একটা ভালো ফোন চাই।
আমি নিজেই ছাত্র মানুষ, এত টাকা এক সাথে কোথায় পাবো।
কিন্তু অভিকে ভালোবাসি তাকে হারাতে পারবো না।
তাই বাধ্য হয়ে সেমিস্টারের টাকা জমা না দিয়ে তাকে একটা সাম-সং ফোন কিনে দিলাম।
আমি ড্রপ খেলাম একটা সেমিস্টার। তারপর ও তাকে আমি সুখী করতে পারছিলাম না।
আমার আগের গার্ল ফ্রেন্ডদের থেকে, অভিকে আলাদা করতে পারছিলাম না কিছুতেই।
নিজের মনকে প্রশ্ন করতে লাগলাম, আচ্ছা ভালোবাসা এমন কেন হয়?
আজ পর্যন্ত একটা লালসাহীন ভালোবাসা পেলাম না।
আচ্ছা শুধু আমার বেলাতেই এমনটি হচ্ছে?
যে দিন অভিকে শেষবার এর মত দেখলাম বসুন্ধরা সিটিতে।
সেই দিনটার কথা এখনো মনে পড়ে খুব।
ঐ দিন সকালে অভিকে ফোন দিলাম। বললাম আমার ক্লাস শেষে যেন দেখা করে।
অভি বলে তার কি যেন ইম্পরট্যান্ট ক্লাস আছে। সে বের হতে পারবে না।
আমার ক্লাস শেষে ভার্সিটির বন্ধুদের সাথে বসুন্ধরায় গেলাম।
দেখলাম ৪ নম্বর লেভেল থেকে সিডি দিয়ে নীচে নামছে অভি।
সাথে অন্য একটা ছেলে হাতে অনেক গুলা শপিং ব্যাগ।
আর কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না অভির ব্যাপারে।
শুধু নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলাম। কার পিছনে লেগে ছিলাম এতটা সময়।
ভালোবাসার প্রতি একটা অনীহা এসে গেল আমার।
নিজের মনের অজান্তেই প্রশ্ন করলাম নিজেকে, আচ্ছা
সব ভালোবাসায় কি থাকে, লোভ-লালসায় পরিপূর্ণ……?

অন্য এক জীবন

১৯৯০ সালে পাপিয়া কে নিয়ে অ্যামেরিকায় আসলেন জামিল সাহেব।
নূতন বিবাহিত জীবন এক প্রকার আনন্দেই কাটছিল তাদের দিন গুলো।
জামিল সাহেব ব্যস্ত হয়ে গেলেন চাকুরী নিয়ে।
চার দেয়ালের মাঝে দিন কাটতে লাগলো পাপিয়ার।
তাই পাপিয়া আবার পড়ালেখা শুরু করলেন।
বছর দেড়েক এর মাথায় তাদের ঘর আলো করে জন্ম নিলো একটি ফুটফুটে ছেলে।
নামটা দিলেন জামিল সাহেব।
নিজের আর পাপিয়ার নামের সাথে মিল রেখে। পাপিয়া থেকে প,
জামিল থেকে ল = পিয়াল।

কর্মজীবী বাবা মায়ের সংসারে বড় হতে লাগলো পিয়াল।
২০০২ সালে স্ট্যান্ড ১০ এ উঠে গেল পিয়াল।
দেখতে অনেক সুন্দর নাদুস নুদুস।
ভদ্র এবং মিষ্টি ভাষীদের মধ্যে তার অবস্থান।
অনেক শান্ত স্বভাবের তাই সবার সাথে বন্ধুত্বটা জমে উঠে না পিয়ালের।
স্কুল শেষে বাসায় বসে থাকে।
অন্য ছেলেদের মত খেলা কিংবা আড্ডাতে তেমন উৎসাহ ছিল না।
কিন্তু একটা ব্যাপার সে লক্ষ্য করতো।
মেয়েদের প্রতি তার আকর্ষণ তেমন একটা নাই।
মেয়েদের কাচা-কাছি আসার অনেক চেষ্টা করেছে সে।
কিন্তু মেয়েদের কাছে গেলে তার শরীর থাকে নিস্তেজ।
অপর দিকে একটা ছেলে সাথে রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে,
একটু ধাক্কা খেলেও পিয়ালের শরীর নেশা ধরে যায়।
ব্যাপারটা নিয়ে সে অনেক চিন্তিত।
তার কোন সমবয়সী বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারে না।
এখনে পরিবার বলতে তো শুধু মা আর বাবা।
কিন্তু তাদের সাথে শেয়ার করা অসম্ভব।
তাই মাঝে মাঝে খুব মন খারাপ থাকতো পিয়ালের।
কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়েছে অনেক বার।
কিন্তু এই অদ্ভুত ধরনের অনভুতির কোন সমাধান সে খুঁজে পেলো না।
মনে মনে ভাবতে লাগলো, হয়তো এইটা একটা মানসিক রোগ।
পিয়াল থিক করলো, একটা মানসিক ডাকতর এর কাছে যাবে।
দিনে দিনে তার মাঝে ব্যাপারটা বিশাল আকার ধারণ করতে লাগলো।
অন্য আট দশ জনের মত, তার ও তো সুন্দরী একটা গার্ল ফ্রেন্ড থাকতে পারতো।
অন্য সবার মত সে কেন স্বাভাবিক নয়?
ঘুণ পোকার মত তার ভীতরে কুড়ে কুড়ে খেতে লাগলো প্রশ্ন গুলো।
২০০৮ সালে সতের বছরে পা রাখলও পিয়াল।
স্কুল জীবন শেষ।
উচ্চতর পড়া লেখার জন্য জামিল সাহেব ইতিমধ্যে,
ইউনিভার্সিটি গুলোতে খোঁজ লাগিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু পিয়াল কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছে না।
সে একজন মানসিক ডক্টরের কাছে গেল।
ডাকতর তাকে বুঝাতে লাগলেন সমকামিতা কোন রোগ নয়।
অনেকের মাঝে সমকামিতা আছে।
এবং সমকামী হয়েও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়।
তারপর ও পিয়াল স্বাভাবিক হতে পারলো না।
পিয়ালের দূরসম্পর্কের এক মামাতো ভাই থাকতো ফ্লোরিড়াতে।
তার নাম মনসুর, পিয়ালের চেয়ে ৫ বছরের বড় মনসুর।
তারপর ও পিয়ালের সাথে ভালো একটা সম্পর্ক।
তার সাথে সব কিছু শেয়ার করতো পিয়াল।
কিন্তু আজ অবধি ঐ একটা ব্যাপারে কিছু বলতে পারলো না।
বড় দিনের ছুটিতে মনসুর আসলো পিয়ালদের বাসায় বেড়াতে।
এক দিন পিয়াল তার ঘরে বসে কাঁদছিল।
এমন সময় মনসুর পিয়ালের ঘরে প্রবেশ করে।
পিয়াল মনসুর কে দেখে নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করল।
কিন্তু মনসুর দেখে ফেলে পিয়ালের চোখে পানি।

-কিরে কাঁদছিস কেন, কি হয়েছে?
-না কিছু হয়নি মনসুর ভাই।
-তাহলে কাঁদছিলি কেন?
-এমনি ভাইয়া। তুমি দাঁড়িয়ে কেন, চেয়ারটায় বস।
-না কিছু একটা তো হয়েছে। তা না হলে তোর চোখে পানি কেন? দেখ পিয়াল আমি তোর বড় হলেও তোর বন্ধুর মত। আমাকে খুলে বল। দেখবি মনটা হালকা লাগবে।
-বললাম না ভাইয়া কিছু হয়নি।
-আচ্ছা কোন মেয়ের প্রেমে পড়ছিস নাকি। আর ছ্যাঁক খাইলেও বলতে পারিস। আমি কিচ্ছু মনে করবো না।

পিয়াল মনে মনে ভাবতে লাগলো আসলে ও তাই।
ব্যাপারটা নিয়ে মনসুর ভাইয়ের সাথে কথা বললে কেমন হয়।
নিশ্চয় সে কোন সমাধান দিতে পারবে।
কিন্তু সে যদি মা বাবাকে বলে দেয়। না থাক বলবো না।
-কি রে বলবি না?
বলতে পারি আগে কসম কেটে বলতে হবে।
তুমি ঐ ব্যাপারটা নিয়ে কারো সাথে কথা বলতে পারবা না।
এমন কি বাবা মার সাথে ও না।
-আচ্ছা প্রমিস করলাম এইবার বল।
সত্যি বলবা নাতো?
-বললাম-তো না।
মনসুর ভাই একটু আগে তুমি বলেছিলে না কোন মেয়ের প্রেমে পড়েছি কিনা।
আসলে ভাইয়া আমার কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক নেই।
কারণ আমার মেয়েদের ভালো লাগে না।
কোন মেয়েকে দেখলে আমার কোন যৌন অনুভূতি কাজ করে না।
কিন্তু ছেলেদের প্রতি আমার অন্য রকম একটা আকর্ষণ।
যেটা আমি ছোট বেলা থেকে আমার মাঝে টের পাই।
-কি? তুই গে?
এই যে দেখ তুমিও ।।
এই জন্য এই আমি বলতে চাইনি।
আমি জানি তুমি এখন আমাকে ঘেন্না করবে।
মনসুর ভাই দয়া করে বাবাকে বলে দিও না। প্লীজ।
তুমি আমার কথা শুনে দাঁড়ীয়ে গেলে কেন?
আমি জানি আমি খারাপ কারণ আমার মাঝে সমকামিতা আছে।
ভাইয়া প্লীজ আমাকে দয়া করো।
-আচ্ছা বলবো না। তুই কাঁদিস না। আর শুন এইটা এক প্রকার মানসিক রোগ।
মাথা থেকে জেরে ফেলতে চেষ্টা কর। তোর ভালোর জন্যই বলছি পিয়াল।
এই ঘটনার দুই দিন পরের কথা।
বড় দিনের ছুটি শেষে মনসুর চলে যাচ্ছে। বাসার সবাই সামনের রুমে বসে আছে।
মনসুর সোপার এক কণে দাঁড়ানো, জামিল সাহেব আর পাপিয়া বসে আছে চুপ করে।
এমন নিস্তব্ধ হয়ে আছে রুমটা মনে হচ্ছে একটা পিন পরলে ও শব্দ হবে।
পিয়াল কিছু বুঝে উঠার আগে, জামিল সাহেব তাকালেন পিয়ালের দিকে।
-কিরে কি শুনছি এগুলো?
পিয়াল বুঝতে পারছে না মনসুর আমন কেন করল।
ইচ্ছা করছে এক দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে।
চোখের টল মল জল নিয়ে তাকালও বেঈমান মনসুরের দিকে।
পিয়ালের চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরেয়ে নেয় মনসুর।
জামিল সাহেব এবার গলার শ্বর উঁচু করে চিৎকার দিয়ে বলল।
-কি রে কথা কানে যায়না? কত দিন ধরে ভুগছিস এই রোগে। বেয়াদব ছেলে এক থাপ্পড় দিয়ে তোর সব রোগ ছুটিয়ে দিবো।
-এই তুমি থামো। তাকে যা বলার আমি বলবো।
পাপিয়া পিয়ালের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলেন।
পিয়াল এক দৌড়ে নিজের ঘরে ঢুঁকে দরজা আঁটকে দিল।
পাপিয়া ছেলের পিছন পিছন এসে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলো।
এ দিকে একরোখা জামিলের সাহেব আরও জোরে চিৎকার দিয়ে বলছে।
-এই নির্লজ্জ ছেলের মুখ আমি দেখতে চাই না।
তাকে আমার বাড়ী থেকে বের হয়ে যেত বল।
মনসুর চলে গেল, জামিল সাহেব ও বাড়ীর বাহীরে।
পাপিয়া পিয়ালের ঘরের সামনে এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
পিয়াল দরজা খুলে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।
-মা আমাকে তুমি বাঁচাও। আমি এই যন্তনা থেকে মুক্তি চাই।
-কি বলছিস পাগলের মত। আমি আছি তোর পাশে বাবা।
তুই নিশ্চয় ভালো হয়ে যাবি।
জামিল সাহেব পিয়ালের সাথে এক টেবিলে খেতে বসে না।
পিয়ালের সাথে কথা বন্ধ করে দিয়েছে সেইদিন থেকে।
নিজের ঘরের মানুষ গুলোকে আজ কাল অচেনা লাগতে শুরু করলো।
ধম বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো পিয়ালের।
এই কারাগার থেকে বের হবার চেষ্টা করতে লাগলো পিয়াল।
শেষ পর্যন্ত ঠিক করলো নিউইয়র্ক গিয়ে থাকবে।
ওখানটার কোন একটা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার নাম করে,
পিয়াল নিউইয়র্কে চলে আসলো।
একা একা কষ্টের কঠিন বাস্তবতার মুখামুখি হয়ে দিন পার করতে লাগলো পিয়াল।
নিজের জীবনের প্রতি নিজেরই ঘেন্না চলে আসলো।
ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হল পিয়াল।
আগের মত ক্লাসমেটদের সাথে কথা বলা থেকে বিরত রাখতো নিজেকে।
পিয়ালের কথা বার্তা চালচলনে কিছুটা মেয়েলী ভাব ছিল।
তাই ক্লাস এ সবাই তাকে গে বলে রাগাত।
কিন্তু তমাল ছাড়া। তমালের বাড়ী কুষ্টিয়াতে,
গত বছর স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে পড়তে এসেছে নিউইয়র্কে।
কিছুদিনের মাঝে তমালের সাথে ভালো সম্পর্ক হয়ে যায় পিয়ালের।
দুজন মিলে এক সাথে সময় কাটাত।
পিয়াল বুঝতে পারতো তমাল গে না।
তারপর ও কেন যেন তমালের কাছাকাছি আসতে লাগলো পিয়াল।
আস্তে আস্তে জেগে উঠে পিয়ালের মাঝে ঘুমিয়ে থাকা প্রথম প্রেম।
খুঁজে বেড়াতে লাগলো ভালোবাসার আশ্রয় তমালের মাঝে।
এক রাতে তমাল পিয়ালকে তার বাসায় নিয়ে যায়।
রাতে মুভি দেখে আর ড্রিঙ্ক করছিল দুজনে।
মাতাল অবস্থায় এক পর্যায়ে তমাল পিয়ালকে জড়িয়ে ধরে কিস করে।
পিয়ালের সমকামী জীবনের প্রথম কিস।
ড্রিঙ্ক করে কিছুটা মাতাল হয়ে গেছে পিয়াল।
তমাল সে সুযোগটা নিলো।
পিয়ালকে জড়িয়ে ধরে অনবরত কিস করে যাচ্ছে সারা শরীরে।
পিয়াল প্রথম কাম বাসনায় নিজেকে উৎসর্গ করে দিল তমালের হাতে।
পিয়াল জীবনের প্রথম সমকামিতার স্বাদ নিয়ে বাসায় ফিরল অনেক রাত করে।
তাই সকালে ক্লাস এ যেতে দেরী হয়ে গেল।
ক্লাস এ প্রবেশ করে একটু অবাক হল।
কারণ সবাই চিড়িয়াখানার জন্তু দেখার মত করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
হাসির শব্দে ক্লাসরুম ফেটে যাওয়ার মত অবস্থা।
পিয়াল কিছুই বুঝতে পারছিলো না।
সবাই মোবাইল দেখে আর তার দিকে তাকিয়ে হাসছে কেন। একটু পর এক জন বলল।
-বাহ বেশ সেক্সি পাছা তো তোর পিয়াল।
আরেকজন বলে।
-কিরে সমকামী আমাকে খাওয়াবি নাকি এক বেলা।
এক জন কাছে এসে বলল কিরে তুই তো ইউটিউব হিট হয়ে গেলি।
তোর সেক্স ভিডিও এখন ফেসবুক ইউটিউবে।
পিয়ালের পৃথিবীটা তার চারদিকে ঘুরতে লাগলো।
অন্ধকার দেখতে লাগলো সব কিছু।
ধিক্কার দিতে ইচ্ছা করলো নিজেকে।
ব্যাগটা হাতে ধরে এক ছুট, ছুটতে বাসায় চলে এলো পিয়াল।
দরজা বন্ধ করে কাঁদতে লাগলো।
ভাবতে লাগলো কি অপরাধ করেছিলাম তমালের কাছে।
কেন সে কাল রাতের সব কিছু ভিডিও করে অনলাইনে দিয়ে দিল।
মানুষ এত খারাপ হতে পারে জানা ছিল না।
পিয়াল নিজের জীবনের একটা সোজা হিসাব কষার চেষ্টা করলো।
কিন্তু কিছুই মিলাতে পারলো না।
পিয়াল নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলো, সমকামী হওয়াটা সত্যি কি অপরাধ?
আমিতো সমকামী ইচ্ছা করে হয়নি।
আমার মাঝে এই অনুভূতিটা কে দিল?
ছেলেবেলা থেকে প্রতিটা পদে পদে অপমান, অবহেলা আর কষ্ট ছাড়া কি পেয়েছি জীবনে।

পিয়ালের হাতে ১ গ্লাস পানি, সাথে মুঠো ভর্তি ঘুমের ওষুধ।
বন্ধ চোখ দুটিতে পানির অজর বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
মায়ের মুখটা মনে পড়ছে খুব।
কিন্তু এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে কষ্টের পাহাড় নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে,
পিয়াল বেছে নিলো অন্য এক জীবন।
ঘড়িতে ঠিক সকাল ৯ টা দরজায় কলিং বেলের আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেল জামিল সাহেবের।
দরজা খুলে দেখল পুলিশ একটা বক্স হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বক্সে রাখা আছে পিয়ালের ব্যবহিত জিনিষ পত্র আর জামা কাপড়।
পিছনের কফিনে রাখা আছে পিয়ালের লাশ।

কয়েক দিন পরের ঘটনা।
অস্বাভাবিক আচরণ করতে লাগলো এক মাত্র ছেলেকে হারিয়ে পিয়ালের মা।
গভীর রাতে পিয়ালের রুমে বসে,
তার ব্যবহিত জামা কাপড় গুলো বুকে নিয়ে নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে।
ঐ বক্সের ভীতরে ছিল পিয়ালের লেখা ডাইরি।
প্রতি রাতে পিয়ালের মা ঐ ডাইরি পড়ে আর বুকে চেপে ধরে রাখে।
শেষ পাতাটায় লেখা ছিল এমন।
“আমার জন্ম যেন আজন্মের পাপ।
যে মায়ের রক্ত শিরায় নিয়ে বেঁচে আছি সে জন্মদায়ী মা নিজেই চিনতে পারলো না আমাকে।
মা, কি দোষ করেছিলাম আমি? কেন সমকামী ছেলে জন্ম দিলে তুমি।
আমিতো ইচ্ছা করে সমকামী হই নি মা।
মাগো, ক্ষুদ এ জীবনে কষ্ট ছাড়া কি পেয়েছি পৃথিবী থেকে।
মা পারলে পৃথিবীর সব মাকে বলে দিও তারা যেন সমকামী ছেলে জন্ম না দেয়।
আর যদি দেয়, তাহলে তারা যেন গ্রহণ করতে শিখে তাদের সন্তানকে”।

পিয়ালের মা চোখ মুছে উঠে দাঁড়ালো।
ইন্টারনেট এ খুঁজতে লাগলো গে সংগঠন গুলার ওয়েব সাইট।
সিদ্ধান্ত নিলেন, সবার মাঝে সচেতনতার কাজে নিজেকে নিয়জিত রাখবেন বাকীটা জীবন।
অনাদরে অবহেলায় আর কোন তাজা প্রান পৃথিবী থেকে হারিয়ে না যায়।
সন্তান গে হোক আর যাই হোক সে সন্তান। সে মানুষ।
স্বাভাবিক ভাবে জীবন ধারণের অধিকার সবার থাকা উচিৎ।
নিজের এক মাত্র সন্তানকে হারিয়ে বুঝতে পারলেন তিনি। সন্তান হারানোর বেদনা কি?
যেন কোন বাবা মা কিংবা পরিবার তাদের সন্তান সমকামী বলে অবহেলা না করে।
নতুন করে হোক অন্য এক জীবনের সূচনা…।

টীকা: পিয়ালের মত নিজের জীবন শেষ করে দেয়ার মানে কোন সমস্যার সমাধান নয়।
তাই কেউ ঐ ধরনের চিন্তা মাথায় আনবেন না।
সমকামী হলেও আপনি, আমি, আমরা সবাই মানুষ।

বাসে একদিন

বার বার ঘড়ি দেখছি ।
ইস ! সাতটা বেজে গেছে । এখনও বাস পাইনি । বাসায় কখন পৌছব কে জানে ।
অফিসের কাজে আজ ঢাকার বাইরে আসতে হয়েছিল ।
এর মাঝে শুরু হল বৃষ্টি । তাই এই বেহাল অবস্থা ।
গায়ের শার্ট অর্ধেক ভিজে গেছে ।
অস্বস্তিকর অবস্থা ।
রাগ লাগছে ।
এমন সময় একটা বাস পেলাম ।
তাড়াতাড়ি দৌড়ে উঠলাম ।
বাসের লাস্ট সিটটা ফাঁকা ।
যাক বাবা । বসা যাবে তাহলে ।
বাসের সিটে বসেই একটা ঝিমুনি ভাব চলে আসল ।
কানে হেড ফোন লাগিয়ে চোখ বন্ধ করলাম ।
সারাদিনের ক্লান্তি শরীর জুড়ে ।
তাই কখন ঘুমিয়ে গেছি । টের পাই নি ।
শরীর জুড়ে একটা শিরশিরে অনুভূতি নিয়ে ঘুম ভাঙল ।
আধো ঘুম জড়ান চোখে হালকা তাকিয়ে যেটা দেখলাম তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না ।
আমার প্যান্ট এর জিপারের উপরের দিকটাতে একজন হাত বুলাচ্ছে । চাপ দিচ্ছে ।
বাসে লাইট নেই ।
তাই পাশে বসা লোকটার অবয়ব দেখতে পারলাম না ।
তবে বুঝতে পারলাম সে অনেক সময় ধরে মনের আনন্দে আমার পেনিস চাপাচাপি করে যাচ্ছে ।
৫ দিন হল মাল বের করি নি ।
তাই আমিও মোটা মুটি হট হয়ে আছি ।
আর এমন বৃষ্টি ভেজা আবহাওয়ায় কোন ২৭-২৮ বছর বয়সী যুবকের ধোন ধরে কেউ যদি চাপাচাপি করে তাহলে সে নিশ্চয়ই বসে থাকবে না ! আমিতো কোন সন্ন্যাসী নই যে নিজেকে কন্ট্রোল করব ।
মনে হচ্ছিল আমার পুরুষাঙ্গ ফেটে প্যান্ট থেকে বের হয়ে যাবে ।
আমি আস্তে করে আমার জিপারের উপর রাখা পাশের লোকটার হাতের উপর হাত রাখলাম ।
জোরে হাতটা আমার প্যান্ট এর পুরুসাঙ্গের সাথে আটকে ধরলাম ।
এবার লোকটা বুঝল আমার সম্মতি আছে ।
লোকটা আমার একটা হাত নিয়ে তার পেনিসের উপর দিল ।
আমি লোকটার পেনিস চটকাতে লাগলাম । ময়দা মাখার মত ।
এর মাঝে লোকটা আমার প্যান্ট এর জিপার খুলে আমার আন্ডার ওয়্যার এর উপর দিয়ে ধোন বাবাজিকে চাপাচাপি করতে লাগল ।
আমি উত্তেজনায় হাঁসফাঁস করছি ।
ইচ্ছে করছে প্যান্ট খুলে লোকটার পাছায় ঢুকিয়ে দিই ।
বুঝিয়ে দিই আমার পেনিসে কেমন জোর আছে ।
ভাগ্যিস আমার সিটটা বাসের শেষ প্রান্তে ।
আর বৃষ্টির কারণে সবাই ঘুমাচ্ছে ।
রাতের বেলা । তাই বাসের লাইট টাও অফ ।
লোকটা এবার আমার পুরুষাঙ্গটা খেচতে লাগল । আন্ডার ওয়্যার ভিজে যাচ্ছে । কাম রসে ।
আমি ডান হাতে লোকটার পেনিস পাম্প করতে করতে তার প্যান্ট এর জিপার টাও খুলে ফেললাম ।
আমার আন্ডার ওয়্যার টেনে নামিয়ে ধোন টা বের করে আনতেই লোকটা অস্থির হয়ে খেচতে লাগল ।
আমার কাম রসে পুরো ধোনে ভিজা ভিজা অবস্থা । লোকটা পাকা খেলোয়াড় বুঝা গেল ।
সে তার বুড়ো আঙ্গুলের ডগা দিয়ে আমার ধোনের মাথায় সুরসুরি দিচ্ছে ।
আমি কাম ঝড়ে কি করব বুঝতে পারছি না ।
লোকটা এবার নিচু হয়ে আমার পেনিসের মাথা চুষতে লাগল ।
আমার তখন কিছুই মাথায় নেই ।
বাইরে ঝুম বৃষ্টি ।
জানালা র কাঁচ বেয়ে বৃষ্টি পড়ছে ।
আর সেই অবস্থায় মধ্য বয়স্ক একজন লোক আমার ধোন চুষছে ।
লোকটা যখন আমার সোনার পুরোটা মুখের ভেতর নিল । লোকটার মুখের গোঁফ আমার ধোনের গোঁড়ায় ঘষা লাগছিল । সে যে কি অনুভূতি ! আহ ।
আমি লোকটার মাথাটা ঠেশে ধরলাম । আমার পুরুষাঙ্গ যতটা পারি ঢুকিয়ে দিলাম ।
বাস ছুটে চলেছে । দুরন্ত বেগে ।
আমিও দুরন্ত বেগে থাপাচ্ছি লোকটার মুখে ।
লোকটা মাঝে মাঝে শ্বাস নিতেও পারছিল না ।
আমি এবার সিট থেকে কোমর আলগা করে মাঝে মাঝে নিচ থেকে পেনিস ধাক্কা দিতে লাগলাম ।
আহ কি যে সুখ লাগছিল । লোকটার গরম মুখের ছোঁয়ায় আমার পুরুষাঙ্গটা আরও ফুলে ফেঁপে মোটা হয়ে যাচ্ছিল ।
বেশিক্ষণ আর নিজেকে সামাল দিতে পারব মনে হচ্ছে না ।
আস্তে করে লোকটাকে বললাম, মুখেই দিব ?
লোকটা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল ।
আমি এবার লোকটার মাথায় হাত দিয়ে ঠেশে ধরে শেষ বারের মত ধাক্কা দিলাম ।
মাল বেরিয়ে আসল । ছিরিক ছিরক করে ।
লোকটার মুখ ভরে গেল ।
লোকটা সাথে সাথে মাল গিলে ফেলল । আমি পুরাই অবাক । লোকটার কাণ্ড দেখে ।
পকেট থেকে টিস্যু বের করে আমার ধোন মুছলাম ।
লোকটা এবার ইশারায় আমাকে তার ধোন খেচতে বলল ।
মাল বের হওয়াতে আমার তেমন ইচ্ছা করছিল না ।
কিন্তু কৃতজ্ঞতার কারণে রাজি হলাম ।
হাতের মুঠোয় লোকটার ধোন নিয়ে খেচতে লাগলাম ।
বেশিক্ষণ খেচতে হল না ।
২ মিনিটের ভেতর গল গল করে মাল বেরুতে লাগল ।
কিছু মাল বাসের মেঝেতে পড়ল । কিছুটা আমার হাতে লাগল । টিস্যু দিয়ে আমার হাত মুছলাম । লোকটাও তার পেনিস মুছে নিল ।
এর মাঝেই লোকটা বলল, ভাই । আপনার ধোন চুষে অনেক মজা পাইসি । আমি সামনে নেমে জামু । যদি আপনার ফোন নম্বরটা দেন । ভাল হইত ।
আমি বললাম, সরি । ভাই । আমি নম্বরটা দিতে চাচ্ছি না ।
লোকটা নেমে গেল ।
বাস আবার ছুটে চলেছে ।
আমি বাসের জানালা খুলে দিয়েছি ।
সেক্স করাতে শরীরটাও ফুরফুরে লাগছে ।
মনে হচ্ছে আমি হাওয়ায় ভাসছি ।
মনে মনে ভাবলাম, জীবন কি অদ্ভুত ! শেষ পর্যন্ত বাসের ভেতর মধ্য বয়স্ক লোকের সাথে এমন ভাবে সেক্স করব সেটা আমি স্বপ্নেও ভাবি নি ।
আসলেই সেক্স উঠলে মাথা খারাপ হয়ে যায় সবার । আজকের ঘটনাই এটার প্রম

“রেড বার্ড এবং একা একজন”

আমি আকাশ ।
এটা আমার বাবা মার দেয়া নাম নয়, আমার নিজের দেয়া নাম।
আমি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বি.বি.এ পড়ছি ।
সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে আমি একজন নিসঙ্গ মানুষ ।
প্রতিটা নিসঙ্গ মানুষের তার নিজস্ব একটা পৃথিবী থাকে ।
আমার সেই পৃথিবীতে বাবা, মা ও আমার বড় বোন ছাড়া উল্লেখ করার মতো কেউ নেই। বাবা মাকেও যে খুব কাছে পেয়েছি তাও না !
বাবা বিজনেসের জন্য ঢাকা- চিটাগং করতেন ! বাসায় কখন আসতেন বা যেতেন আমি দেখতাম না !
১ বৎসর আগে হার্ট অ্যটাক করেছেন বাবা ।
ডাক্তার সম্পূর্ণ রেস্টে থাকতে বলেছেন তাই এখন বিজনেস বন্ধ ।
আর আমার মা হচ্ছেন ওয়ার্ড কমিশনার।
একজন নিসঙ্গ মানুষ যা হয় আর কি। আমি ও সেই রকম। প্রচণ্ড রকমের বই প্রীতি।
সারা দিন রাত বই পড়তে পারি। বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ বলতে গেলে ভার্সিটিতে যাওয়া, আপুর সাথে সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখা ও মাঝে মাঝে শপিং। কিন্ত আপুর বিয়ের পর আমি আরও নিসঙ্গ হয়ে পড়ি। এই হচ্ছে আমার অবস্থা ।এবার আমার গল্প শুরু করা যাক ।
পহেলা মে ২০১৩ ।
ফেসবুকে হাজার হাজার ফেক মানুষের ভিড়ে আমি প্রথমবারের মতো সত্যিকারের একজন কে খুঁজে পাই। যায় সাথে চ্যাট করে আমার মনে হয়েছে আমার নিসঙ্গ দুনিয়ার অবসান হবে তাকে পেলে ।
তার নাম আনন্দ ।
আনন্দ কে আমার অন্য সবার থেকে একটু আলাদা মনে হয়েছে । প্রথম দিনই আমি তার প্রেমে পরে যাই। কিন্ত তাকে সে কথা বলার সাহস পাই না ! আমি সারারাত ব্যপারটা নিয়ে চিন্তা করি, আমি ঠিক করছি তো? আমি যদি আনন্দকে আমার লাইফ পার্টনার করি তাহলে অনেক প্রব্লেম এর মুখোমুখি হতে হবে। আমি কি সেগুলো ফেস করতে পারবো ? আমার ফ্যামিলি, সোসাইটিকে জবাব দিতে পারবো ?
এক সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, না! আমি পারবো ।
পরের দুই ও তিন তারিখ তার সাথে অনেক চ্যাট হয় এবং খুবই ভালো একটা রিলেশন হয়।
আমি তার রিয়েল আই.ডি নেই। তার ছবি দেখি। তার চোখ গুলো অস্বাভাবিক সুন্দর। লাল পাঞ্জাবিতে তাকে ভয়ংকর রকমের সুন্দর লাগছিলো।

আমি আনন্দকে পছন্দ করি সেটা আমার অন্য এক এফ.বি ফ্রেন্ড কে বলি।
তার কথা মতো আমি আনন্দকে চার তারিখ বিকালে ফেসবুকে চ্যাটে প্রপোজ করি।
কারন আমি না বললে তো আনন্দ কখনো জানবে না যে, আমি তাকে ভালোবাসি।
সে খুবি অবাক হয়, হঠাৎ আমার প্রপোজ শুনে।
আনন্দ আমাকে একটু একটু লাইক করতো সেটা আমি বুঝতে পারতাম। কিন্ত সেটা অনলি ফ্রেন্ড হিসেবে। আমি তাকে বলি, প্লিজ গিভ মি এ চান্স। আমি তোমাকে কতটা লাভ করি সেটা প্রমান করতে চাই এবং আমি তোমার এই লাইককে লাভে টার্ন করবো ।
ও আমাকে বলে, জাস্ট ক্লোজ ইউর আইস । থিংক এবাউট ইউর লাইফ পার্টনার। অ্যান্ড টেল মি দা হোল থিঙ্কস হোয়াট এভার ইউ থিংক।
আমি আমার চোখ বন্ধ করলাম।
দেখতে পেলাম, আমাদের সমুদ্রের পাশে ছোট্ট একটা বাড়ি।
আমাদের ছোট্ট একটা বেবি(adopt করা) সে কান্না করছে। আমি বেবিটার জন্য দুধ বানাচ্ছি, এবং আনন্দ তার কান্না থামানোর চেষ্টা করছো।
সে আমাকে বলে আর কিছু দেখনি? তোমার লাইফ পাটনার দেখতে কেমন? তুমি তার কাছে কি চাও এই সব কিছু?
আমি তাকে বলি আমি সত্যি বলছি, এর বেশী কিছুই দেখিনি।
আনন্দ বলে ঠিক আছে, আমি কাওকে হার্ট করতে চাই না! কিন্ত আমি এত তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত নিবো না! আমি তোমাকে দেখবো তুমিও আমাকে দেখ। ফেসবুকের হচ্ছে ভারচুয়াল ওয়ার্ল্ড। এখানে রিলেশনসিপের কোন ইম্পরট্যান্ট আমার কাছে নেই। আমরা দেখা করবো তখন রিয়েল ওয়ার্ল্ড এ সিদ্ধান্ত নিবো কি করবো। আনন্দ আমাকে তার ফোন নাম্বার দেয়।
আমি রেড বার্ড নামে সেটা সেভ করি।
পরে ৫ ও ৬ তারিখ হারতাল ও অবরোধ থাকার কারনে আমরা শুধু ফোনে ফোনে কথা বলতাম।
অনেক কথা হত। রাত ৩.৩০-৪ টা পর্যন্ত কথা বলতাম। পরে ৭তারিখ সকালে আমার মাই গ্রেন এর পেইন ওঠে। আমি শুয়ে ছিলাম।
ঠিক ১১ টায় আনন্দ আমাকে ফোন করে বলে, বেইলি রোডে দেখা করতে। আমি এখনি আসতে চাইলে ও আমাকে আস্তে-ধীরে বিকালে আসতে বলে।
কিন্ত আমি ওকে রিকোয়েস্ট করি এক সাথে লাঞ্চ করার জন্যে। ও রাজি হয়। আমি রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হই (আমার বাসা ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে।)
অবাক হয়ে লক্ষ্য করি আশ্চর্যের ব্যাপার আমার মাথা একটুও ব্যথা করছে না! যাই হোক।
আমার দুপুর দুইটায় কে.এফ.সি সামনে থাকার কথা। কিন্ত আমি ভয়ানক জ্যাম ও এর সাথে ছিল বৃষ্টির কারনে দুই ঘণ্টা লেট করি!
আমি যখন প্রথম ওকে দেখলাম আমার কি যে ভালো লাগলো বলে বুঝাতে পারবো না!
কারন আমি ওকে বলেছিলাম রেড কালারে ওকে অনেক ভালো লাগে।
আনন্দ ওই দিন রেড টি-শার্ট ও রেড স্নিকারস পরে ছিল।
কিন্ত ও অনেক রেগে ছিল লেট করাতে, পরে ওর রাগ ভাঙিয়ে এক সাথে লাঞ্চ করি।
আনন্দ আমাকে বলেছিল চকলেট ওর অনেক ফেবারিট তাই আমি ওর জন্য এক বক্স কেটবেরী চকলেট নিয়ে যাই। প্রথমে ও নিতে চায়নি। পরে অনেক জোর করে দেই। লাঞ্চ এর পর আনন্দ এর স্কুল লাইফ এর বেস্ট ফ্রেন্ড জিতু(ছদ্ম নাম) আমাদের সাথে জয়েন করে।
জিতু straight হলেও চিন্তা ভাবনায় অনেক আধুনিক ছিল।
ও আনন্দ এবং আমার ব্যপারটা জানতো।
বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা এই ৪ ঘণ্টা আমি আনন্দের সাথে কাটাই।
নিঃসন্দেহে এই ৪ ঘণ্টা আমার লাইফের বেস্ট টাইম বলা যায়।
আমরা বেইলি রোডের এক মাথা থেকে আর এক মাথা হাটি।
সোডিয়াম লাইট এর আলো, সাথে হালকা হালকা বৃষ্টি।
এক কথায় অসাধারণ পরিবেশ ছিল।
যখন আমরা বেক করবো তখন রাস্তা পার হয়ার সময় আনন্দ আমার হাত ধরে, সেটা খুবই অল্প সময়ের জন্য হলেও আমার লাইফের বেস্ট মোমেন্ট ছিল সেটা ।

পরে আমরা রিক্সা নেই।
রিক্সা কিছুখন এক সাথে চলার পর দুই রিক্সা দুই দিকে চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনি আমার চোখে পানি চলে আসে।
কারন আমি দেখি আনন্দ আমার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে এবং ও তাকিয়ে থাকলো যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে দেখা যায় ।
এর মাঝে দুই দিন যায়। ফোনে অনেক কথা হতে থাকে।
পরেড় শুক্রবার আমরা ঠিক করি বসুন্ধরা সিটিতে দেখা করবো ।
আনন্দ কথায় কথায় আমাকে বলেছিল তার ওয়েব কেমটা নষ্ট হয়ে গেছে !
আমি ওর জন্য একটা ওয়েব কেম কিনে সকাল সকাল ওর বাসার সামনে যাই এবং ওখান থেকে রিক্সা নিয়ে দুই জন এক সাথে বসুন্ধরাতে পৌছাই যাতে অনেকটা সময় দুইজন রিক্সা করে ঘুরতে পারি।
ওখানে যেয়ে আমি ওকে ওয়েব কেম টা গিফট করি।
ও নিতে চায়নি। বার বার বলছিল কি দরকার ছিল ? আমি জোর করে কেমটা ওর হাতে দেই।
ওই দিন আমরা টেলিভিশন মুভি টা দেখি।
পুরো মুভি চলার সময় আমরা দুই জন, দুই জনের হাত ধরে থাকি।
দুপুরে এক সাথে লাঞ্চ করি। বিকাল দিকে ধানমণ্ডি লেকে যাই।
তখন ও জিতুকে কল করে আসার জন্যে।
জিতু আসতে আসতে ও জিতুকে নিয়া কথা বলতে থাকে।
জিতু খুবি মেধাবী, সবাইকে মেনেজ করে চলতে পারে, গুড লুকিং ।
আমি তখন ওরে জাস্ট এমনি কথাটা বলি যে, জিতু straight না হলে ভালো হতো। তুমি ওর সাথে রিলেশন করতে পারতা।
ও তখন বলে জিতু আমার ভালো ফ্রেন্ড। আমি ওকে নিয়ে এই সব চিন্তা করতে পারি না। হঠাৎ কেন এই কথা বল্লা ?
আমি বললাম, জাস্ট এমনি বললাম কারন সবাই তো এক জন পারফেক্ট পার্টনার চায়।

ব্যাপারটা নর্মাল হয়ে যায় ও কিছু আস্ক করেনি!
ওই দিন বাসায় এসে রাতে নর্মালি কথা হয়।
সমস্যা শুরু হয় পরের দিন থেকে ! ও নর্মালি কথা বলছিল না !
আমি বুঝতে পারি সামথিং ইজ রং !
অনেক আস্ক করার পর বলে, আমি জিতুকে নিয়ে এমন কথা কেন বললাম ?
ও আমার চোখে মুখে জিতুকে নিয়ে জেলাস দেখতে পেয়েছে !
জিতু ওর বেষ্ট ফ্রেন্ড তাই ব্যাপারটা ও ভুলতে পারছে না !
আমি ওরে অনেক সরি বলি। অনেক মাফ চাই এবং অনেক বার বলি যে আমি জিতু কে নিয়ে জেলাস না !
আমি জাস্ট এমনি কথা গুল বলেছি । এত কিছু চিন্তা করে বলিনি।
কিন্তু ও আমাকে বিশ্বাস করে না !
পরের দিন ও বাসা থেকে একা একা বের হয়, কারন তার নাকি মন অনেক খারাপ লাগছিল।
আমি আসতে পারছিলাম না কারন হরতাল ছিল। আমি ওকে বার বার ফোন করছিলাম এবং ওকে বাসায় যেতে বলচ্ছিলাম কিন্ত ও যাচ্ছিল না!
ও আমাকে বলছিল রিলেসন নিয়ে কি করবে বুঝতে পারছে না।
আমি কেন জিতু কে নিয়ে এই কথা বললাম।
তখন আমার নিজের অনেক খারাপ লাগছিল।
বার বার মনে হচ্ছিল ও আমার উপর রাগ করে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছে।
তাই নিজেকে অপরাধী লাগছিলো।
একটা পর্যায় আমি কান্না করে দেই।
তখন ও কিছুটা নরলাম হয় এবং আমাকে শাওয়ার নিয়ে লাঞ্চ করতে বলে।
পরে রাতে ও পরের দিন সকালে নরলাম কথা হয়।
আনন্দ আমাকে মামাস বয় বলতো কারন আমি এখন ও আম্মুর হাতে খাই বলে।
আমি বলতাম হু এখন আম্মুর হাতে খাচ্ছি।
পরে যখন আমরা এক সাথে থাকবো তখন তোমার হাতে খাবো ও ফাজলামি করে বলতো না!
ওরেই খাইয়ে দিতে হবে, আমি না খাইয়ে দিলে ও ফেসবুক থেকে অন্য কাউকে খুঁজে নিবে।
আনন্দ দেখতে অনেক সুন্দর।
ও বলতো ওর বডি গার্ড রাখবে।
আমি তখন বলতাম আমি আছি না! আমি তোমার বডি গার্ড।
ও বলতো না থাক পরে তোমার কিছু হলে কমিশনার আন্টি আবার আমাকে জেলে ঢুকাবে।
ফেসবুকে যেয়ে বললে অনেকে চলে আসবে বডি গার্ড হতে।
এমন করে ভালোই চলছিল।

আবার সমস্যা শুরু হয় ১৪ তারিখ সকালে !!
আমি সব সময় ঘুম থেকে উঠেই আগে ওকে কল দিয়ে গুড মর্নিং বলতাম।
তখন আমি ওকে বলি সিনেপ্লেক্সে ইউরোপিয়ান ফিল্ম ফেষ্টিভল শুরু হবে চলো দেখতে যাবো।
কিন্ত ও না করে। মুভি দেখবা না।
তখন আমি বলি ওকে থাক তোমার যেহেতু দেখতে ইচ্ছা করছে না সো দেখবো না!
পরে আমি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে ফেসবুক ওপেন করে দেখি ও এক জায়গায় বলেছে ও সিঙ্গেল, এবং ওর একটা ছবিতে দেখি অনেক কমেন্ট দেয়া।
ছবিটা বসুন্ধরাতে তোলা।
ওর এক ফেসবুক ফ্রেন্ড এর সাথে হেং আউটে গিয়েছিল তখন তুলে দিয়েছে।
ব্যাপারটা আমার কাছে খুব খারাপ লাগে!
আমি তখন ওকে চ্যাটে বলি আমার সাথে যেতে ভালো লাগে না ?
কিন্ত ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এর বন্ধুর সাথে তো ঠিকি যাও।
চ্যাট এ ও কিছুই বলেনি!
দুপুরে আমি যখন ওরে ফোন দেই তখন বুঝতে পারি ও আনেক রেগে আছে!!
আমাকে বলে কি সমস্যা ? তুমি একই কাজ দুই বার করলা। তোমার মধ্যে জেলাসি ভরা! তুমি আমার ক্যারেক্টার নিতে প্রশ্ন তুলো? আমি কার সাথে কোথায় যাবো সেটা আমার ব্যাপার।
আমি তখন বলি আনন্দ এত রেগে আছ কেনো? আমি তো ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এ কথা গুলা বলছি, তুমিত বলেছ ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এর কাথার কোন মূল্য তোমার কাছে নেই!

তখন ও আরও রেগে যায় এবং আমাকে বলতে থাকে, তুমি আমার কথা আমার বিরুদ্দধে ব্যবহার করছো? আমার কাছে আমার লাইফ, ফেমিলি ফ্রেন্ডের ইম্পরট্যান্ট অনেক বেশী! আমি কি করবো না করবো সেটা আমার ব্যাপার। আমি কারোটা খাই না! পরিও না। তুমি জানতে চাচ্ছিলানা আমি তোমার সাথে রিলেসন রাখবো কিনা? সেটার জবাব এখন দিচ্ছি। না আমি তোমার সাথে রিলেসন করবো না! তোমাকে আমি আলাদা ভেবেছিলাম। কিন্ত তুমি ফেস বুকের অন্য ৮-১০তা টিপিকাল মানুষের মতই। আমি এখন জিতু কে ফোন দিবো, তুমি ওরে নিয়ে খারাপ চিন্তা করছো এর জন্য ওরে সরি বলবা।

পরে ও জিতুকে ফোন দেয় কিন্ত জিতু কথা বালে না!
জিতু নাকি ওরে বলছে সরি বলতে হবে না। ও কিছু মনে করেনি এবং ও আমাকে দেখা করতে বলে কারন আমি যে গিফট গুলো দিয়েছি সেগুলো ব্যাক করবে !
আনন্দ এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে যায়।
আমি এতটাই অবাক হই যে একটা ওয়ার্ড ও মুখ থেকে বের হয় না!

আমার কিছু কথা বলার ছিল কিন্ত বলতে পারিনি…… সেগুলো হচ্ছে
…………………………………………………………………
আনন্দ কি ভাবে কি বলবো জানি না !
আমার বলার ভাষা নেই !
আর বলেও তো লাভ নেই ! কারন সবতো শেষ!
কিন্ত তার পরেও শেষ কিছু কথা বলি। হ্যাঁ আমি আজ জেলাসি হয়েছি ! কারন এই তোমাকে ফিল্ম ফেস্টিবলের কথা যখন বলেছি তখন তুমি বলেছ যেয়ে কি করবো? কিন্ত যখন দেখলাম তুমি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এর ফ্রেন্ড এর সাথে হেং আউট করেছো ।
হ্যাঁ আমি জেলাস হয়েছি যখন তুমি বলো আমাদের মধ্যে ফ্রেন্ডসিপ ছারা কিছু নেই (তাহলে সিনেপ্লেক্স কি ফ্রেন্ড এর হাত ধরে বেসে ছিলে ?
হ্যাঁ আমি জেলাস হয়েছি যখন কেউ তোমাকে বলে বয় ফ্রেন্ড নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে এবং তুমি বলো তুমি সিংগেল।
হ্যাঁ আমি জেলাস হয়েছিলাম যখন তুমি বলো তোমাকে খাইয়ে দেয়ার জন্য তুমি ফেস বুক থেকে কাউকে খুজবে !
হ্যাঁ আমি জেলাস হই যখন তুমি বডি গার্ড রাখার কথা বলো!!
আনন্দ তুমি শুধু আমার জেলাসি দেখেলে, কিন্ত তার পিছনে কিতখানি ভালোবাসা কাজ করেছে সেটা দেখলেনা ! খুব সুন্দর ভাবে বলে দিলে আমি ফেস বুকের অন্য টিপিকেল মানুষের মতো !
কিন্ত এই টিপিকেল মানুকে এক বারও বুঝতে চেষ্টা করলানা।
আর একটা কথা আমি তোমাকে ২০০% বিশ্বাস করেছি ও করবো ! সে ক্ষেত্রে তোমার চরিত্রে উপর আঙুল তোলা প্রশ্নেই আসে না ! আমি তোমাকে যে ভালোবাসি সেই ভালো বাসার প্রতিজ্ঞা করে বলছি। আমি জিতুকে নিয়ে কখনো জেলাস হইনি। কিন্ত তুমি আমাকে বিশ্বাস করলে না!
শেষ কথা! আনন্দ জোর করে কাউকে ভালোবাসা যায় না ! কিন্ত আমি অপেক্ষা করবো যদি কখনো তোমার ভুল ভাঙ্গে !

টিনের চালে প্রথম সমকামিতার খেলা

543703_357185377718991_1683575185_n
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
আমার নাম রনক।
ঢাকার একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বি.বি.এ ৩য় বর্ষে পড়ছি।
আমার ঘটনাটা ঘটে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর।
ছেলেবেলা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত আমি গ্রামে ছিলাম।
গ্রামে বেশি ঘুরা ফিরা করার অভ্যাস আমার ছিল না।
হতে পারে আমার বন্ধু বান্ধব কম ছিল বলে।
কাছের বন্ধু বলতে ছিল দুইটা আর বাকি সব কলেজ ফ্রেন্ড।
পরীক্ষা শেষ, হাতে অজস্র সময়, তাই প্রতিদিন আমার ঐ বন্ধুদের পাড়াতে আড্ডা দিতে যেতাম।
ঐ পাড়াতে যাবার পথে পড়তো এক বড় ভাই এর বাড়ি।
বয়সে তিনি আমার ৩ বছরের বড় হবেন। উনার সাথে দেখা হলে সবসময় খোঁজ খবর নিতেন আমার।
কথা হত তবে তেমন কিছু না, এই কেমন আছি , কি করছি কেমন যাচ্ছে জীবন।
এই সব নিয়ে কথাবার্তা হতো আমাদের। কিন্তু আমি খেয়াল করতাম।
উনি যখন আমার সাথে কথা বলতেন, আমার হাতে হাত রাখতেন।
শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করতেন যদি ও আমি এইটা স্বাভাবিক ভাবেই নিতাম।
ভাবতাম হয়তো ওভাবে কথা বলা উনার অভ্যাস।
যাই হোক এই ভাবে কাটতে থাকে আমার অবসর সময় গুলো।
সময়টা ছিল বর্ষা কাল, মাঝে মাঝে চারদিক কালো করে বৃষ্টি নামতও মুষলধারে।
আমাদের বাড়ীটা ছিল বেশ বড় কয়েকটা ঘর নিয়ে আমাদের বসতি।
বাড়ীতে প্রবেশদ্বারে ছিল একটা বিশাল ঘর। যদিও ওটা তেমন একটা ব্যাবহার করা হত না।
ও ঘরে মাঝে মাঝে দুপর বেলায় খাবার পর আমি গিয়ে শুয়ে থাকতাম।
এক দিন বিকেল বেলায় সবে মাত্র হাল্কা বৃষ্টি নামছে, আমি শুয়ে আছি ও ঘরটায়।
একটু পরে দেখলাম ঐ ভাইয়াটা তাড়াতাড়ি করে ঘরে ঢুকলও।
কিছুটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম আরে ভাইয়া আপনি এ সময়?
ভাইয়া বলল যাচ্ছিলাম একটা কাজে, দেখ না বৃষ্টিটা নামার আর সময় পেলো না।
আমি আবার ছাতা ও আনলাম না সাথে।
তাই বাদ্য হয়ে তোমাদের ঘরে এসে উঠতে হল আমায়।
কি কোন অসুবিধা নাই তো তোমার?
আরে না না কি যে বলেন ভাইয়া। আপনি বসুন বৃষ্টি থামলে যাবেন।
উনি বসলেন কিন্তু আমার শরীর ঘেঁষে।
উনার অভ্যাস বরাবর এর মত খোঁজ খবর নিতে লাগলেন।
আজও শরীরে হাত বোলাতে ভুল হল না উনার।
আজ উনার স্পর্শে আমার শরীর উত্তেজিত হতে লাগলো।
হতে পারে আবহাওয়াটার জন্য ও রকম টিন ছালে বৃষ্টির মাতল করা শব্দ, ঠাণ্ডা একটা পরিবেশ।
আর সাথে আমিতো নূতন যৌবন প্রাপ্ত টগবগে যুবক।
সবমিলিয়ে অন্যরকম একটা অনুভূতি বয়ে যাচ্ছিলো আমার শরীরে।
আর মজার বিষয় হল আমাদের দুইজনের পরনে ছিল লুঙ্গি।
এক পর্যায়ে উনার হাত আমার পেনিসের উপর চলে গেল।
আমি বুজতে পেরে ও শুয়ে আছি না বুজার বান করে।
দেখতে চাচ্ছিলাম উনি আর কি করে, যদিও আমার খারাপ লাগছিলো না।
এই প্রথম কেউ আমার পেনিস ধরল। উনার হাতের ছোঁয়াতে আমার পেনিস পুরাপুরি উত্তেজিত হয়ে গেলো।
আমি লজ্জা পেয়ে তার হাতটা সরিয়ে দিলাম। কিন্তু উনি জোর করে আবার ধরল।
এইবার হেঁচকা টান মেরে আমার লুঙ্গী খুলে ফেলল।
আমি বললাম ভাইয়া এমন করছেন কেন?
উনি বলে বাহ খুব ভালো সাইজ বানিয়েছ-তো।
এত বড় পেনিস আগে দেখিনি আমি।
তোমার পেনিসটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে বলে, আমার ঠোঁটে কিস করতে লাগলেন।
প্রথমে একটু অনীহা লাগছিল কিন্তু বুজতে পারলাম আমার ভিতর থেকে ভালো লাগা শুরু হল।
আস্তে আস্তে আমার সারা শরীরে কিস করতে লাগলেন।
এক পর্যায়ে আমার পেনিসটা মুখে নিয়ে চুষতে লাগলেন।
যেন উনি একটা বাচ্চা আর আমার পেনিস টা ললিপপ।
আমি তাকে বললাম ভাইয়া কি করছ আমার পেনিস মুখে নিলে যে।
এই গুলা তো মেয়েরা করে, ব্লু ফ্লিম এ দেখেছিলাম।
সে একটু হেসে বলে, একটা মেয়ে পারলে আমি পারবো না কেন।
শুনো আজ আমি তোমাকে বুজাবো একটা মেয়ে, একটা ছেলেকে যা দিতে পারে।
আমি তার চেয়ে ও বেশি দিতে পারবো।
এই বলে আমার পেনিসটা আবার চুষা শুরু করলেন তিনি।
আমি আনন্দে আহ আহ শব্দ করতে লাগলাম।
এদিকে বাহীরে বৃষ্টিটা তেড়ে আসলো।
তিনের ছালে বৃষ্টির শব্দের সাথে আমাদের কামনার শব্দ মিশে,
পরিবেশটা কামনার নিশাটা বাড়িয়ে দিল কয়েক গুণ।
ভাইয়া পেনিসটা মুখ থেকে সরিয়ে বলে, তোমার পেনিস আমার পাছায় নিবো।
আমি হেসে বললাম ভাইয়া পাগল হয়েছ তুমি।
আমার এত বড় আর মোটা পেনিস নিতে পারবে তো?
ভাইয়া বলে খুব পারবো। আমার ভয় হচ্ছিলো জানি না কি দশা হয় তার পাছার।
এইবার উনি আমাকে বলে রেডি হও তোমার এই বিশাল বাঁশটা আমাকে ঢুকিয়ে দাও।
এই বলে উনি আমার পেনিস এর উপরে এসে বসলেন।
তার দুই পা দুই দিকে চড়িয়ে পোজ টা ঠিক করে নিলেন।
উনার মুখ থেকে কিছু লা লা নিয়ে আমার পেনিসটাকে পিচ্ছিল করে নিলেন।
খানিকটা উনার পাছার ফুটোতে মাখলেন।
বুজতে পারলাম আমার কামানটা রেডি করে নিলেন।
উনি আস্তে আস্তে আমার পেনিসের মাথায় বসে চাপ দিতে লাগলেন।
আমিতো উত্তেজনায় পাগল প্রায়, এক পর্যায়ে দেখলাম,
আমার বিশাল পেনিসটা উনার পাছার মাঝে হারিয়ে গেলো।
আমিতো পুরাই থ হয়ে গেলাম। বুজতে পারলাম উনার বিশাল গঙ্গার মাঝে আমার চোট তরী কিছুই না।
আমিও পাকা খেলোয়াড় যদিও আগে কক্ষনো সেক্স করিনি।
কিন্তু ব্লু ফ্লিম এর সব গুলা স্টেপ মুখস্থ আমার।
উনি আমার পেনিসের উপরে উঠা বসা করতে লাগলেন।
আমি ও নীচ থেকে ঠাপ মেরে যাচ্ছিলাম অবিরত।
এভাবে দুই মিনিট চালালাম তারপর বললাম ভাইয়া ডগি স্টাইল এ মারবো উনি তো রেডি।
উনি ডগের মত তার পাছাটা আমার দিকে তাক করে রাখলেন।
আমি আমার পেনিসে আরও থুথু লাগিয়ে মারতে লাগলাম রাম ঠাপ।
তার পাছাটাকে দু হাতে ছেপে ধরে আমার পেনিসটাকে পুরা পুরি ঢুকাতে আর বাহীর করতে লাগলাম।
উনি মুখ থেকে শব্দ করছে আমিও করছি আহ হু সাথে বৃষ্টির শব্দ।
আগে জানতাম না ছেলেদের পাছায় এত সুখ।
আমার সতের বছরের উপোষ থাকা পেনিসটা আহার খুঁজে পেলো ঐ পাছার মাঝে।
এইভাবে চলতে থাকলো ৫ মিনিট এর মত।
এইবার বললাম ভাইয়া চলো পজিশনটা পরিবর্তন করি।
উনার দুই পা আমার কাঁদে তুলে নিলাম।
পাছার নীচে দিলাম একটা বালিশ এই বার খেলা পুরাপুরি জমছে।
আমার মোটা পেনিসটা ঢুকছে আর বের হচ্ছে।
তার পাছার একটা গরম ভাব অনুভব করছিলাম।
আমি ঠাপ মারতে লাগলাম মনের দুখে।
এইবার আমার ঠাপানোর গতি বাড়িয়ে দিলাম।
বুজতে পারলাম আর ধরে রাখতে পারবো না।
ভাইয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম উনি কাম সুখে পাগল আমি ও তাই।
মাল বের হয়ে যাচ্ছে আমি আরও জোরে মারছি ঠাপ।
উনিও বলতে লাগলেন জোরে আরও জোরে আহ উ আহ।
আমিও আহ উ করে উঠলাম।
হেঁচকা টান মেরে আমার পেনিসটা বের করে নিলাম তার পাছা থেকে।
তারপর হাতে মেরে তার বুকের উপরে আমার সাদা ধব ধবে মাল ছেড়ে দিলাম।
মুখে একটা প্রশান্তির নিঃশ্বাস ছাড়লাম।
এইবার উনিও হাত মেরে মাল বের করলেন।
এর পর থেকে ২ এক দিন পর পর আমরা সেক্স করতাম।
কত জায়গায় যে সেক্স হয়েছে আমাদের বলে শেষ করা যাবে না।
পুকুর পাড়, পাট ক্ষেত নদীর ধারে যেখানে সুযোগ পেতেম।
সেখানেই মেতে উঠতাম কাম বাসনাতে।
সত্যি কথা বলতে কি আমি তখনো জানতাম না ছেলে ছেলে সেক্স করতে পারে।
তাদের সমকামী বলে, তাদের আলাদা একটা জগত আছে।
ঢাকায় আসার পর জানলাম, তারপর থেকে শুরু হল আমার সমকামিতার ১৬ কলা পূর্ণ।