ভালবাসি প্রতিদিন

O

শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে তোমার দিকে তাকালাম । তুমি এখনও বেঘোরে ঘুমচ্ছ । শিশুর মত । সব পুরুষই কি ঘুমের মাঝে শিশু হয়ে যায় ! অথচ এই তোমার বুকেই বনবেরালের মত সারা রাত উষ্ণতা নিয়েছি আমি । তোমার সাথে থাকলে বালিশে ঘুমাইনা আমি । এটা আমার অভ্যাস হয়ে গেছে । সপ্তাহের একটা রাত তোমার সাথেই থাকি । দুজনই জব করি । থাকি শহরের দুপ্রান্তে । কিন্তু ভালোবাসার কিন্তু একটুও কমতি হয় না । তোমার সাথে আমার সম্পর্কের এক বছর চলছে । অনেকেই বলে সমকামীরা সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে না । অন্তত এখন পর্যন্ত আমরা একে অপরকে প্রান দিয়ে ভালবাসি ।বুকে হাত দিয়ে এটা বলতে পারি ।
আমি বিছানার দিকে এগিয়ে গেলাম । তুমি উপুড় হয়ে শুয়ে আছ । আমি বিছানায় বসে তোমার পিঠে ঠোঁট ছুয়ালাম । তুমি একটু কেঁপে উঠলে ।

উম ! গুড মর্নিং জানু ।
গুড মর্নিং প্রান্ত ।
আমি ওর কাঁধে ঠোঁট বুলালাম ।
এই যে দুষ্ট । সাতসকালে কি করছ?
আমার ভালোবাসার পরশ নিচ্ছি । আমার হাত তোমার লোমশ বুক ছুঁয়ে যাচ্ছে ।
তুমি এক লাফে উঠে বসে আমার মাথা তোমার কোলে তুলে নিলে ।
তোমার মাথাটা নুয়ে আমার ঠোঁটের কাছে তোমার ঠোঁট নিয়ে আসলে ।

একটা চুমু । আমি চোখ বুজে ফেললাম । কিছু কিছু আদর চোখ বুজে নিতে হয় ।
তুমি আমার মাথার চুলে হাত বুলিয়ে বললে , টোনা। আমার টোনা ।
আমি চোখ খুলে বললাম, বুঝছি । চল উঠি । রান্না করতে হবে দুজনে ।
তুমি বললে, আমি কিন্তু হেল্পার ।
আমি হাসলাম ।

তোমাকে নিয়ে বাথরুমে গেলাম । তোমার ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দিলাম ।
তোমার হাত আমার থুতনির দাড়ি ছুঁয়ে গেল । আমায় বললে, এত আদর করো কেন ?
তুমি আমার ডালিম কুমার । তাই ।
আমার কোমর জড়িয়ে ধরে বেসিনের আয়নায় দেখলে এক পলক । বললে, এই আয়না কে বেশি সুন্দর ! বলত ?
আমি হেসে বললাম, তুমি ।
তুমি বললে, উহু । আমার জানু সবচাইতে সুন্দর । এই শোন ! আমরা একটা বেবি দত্তক নিব ।
হইসে ! এক বেবিরে নিয়াই পারি না ।
হা হা হা । তুমি হাসলে ।
আমি বাথরুম থেকে বের হয়ে আসলাম । চুলায় চা এর পানি বসালাম ।

বাথরুমে বেসুরো গলায় গান শুরু করেছ তুমি – আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে……………… একটু পর চিৎকার । জান, টাওয়েলটা দিয়ে যাও ।
আমি ইচ্ছে করে রাগ দেখিয়ে বলি, জীবনেও টাওয়েল নিতে মনে থাকে না তোমার !
জান!সপ্তাহের একটা দিনই মনে থাকে না ।
আমি তোমার ভেজা নগ্ন শরীরের দিকে তাকাই।। তোমার ভেজা লোমশ বুক, চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ছে । ভেজা উরু , ভেজা পেট । আমি প্রান ভরে দেখি । বিধাতার কাছে কৃতজ্ঞতায় মাথা নুয়ে আসে । তুমি আমার পুরুষ । শুধু আমার ।

তুমি কোমরে টাওয়েল পেঁচিয়ে বের হোলে । আমায় পেছন দিক থেকে জড়িয়ে ঘাড়ে ঠোঁট রেখে বললে,
আমি অনেক পাগল ! তাই না !
আমি হাসি । আমার হাত তোমার ভেজা চুলে রেখে বলি, পাগল বলেইত ভালবাসি তোমায় ।
আমি তোমার চুল আঁচড়ে দিই , তোমার গায়ে লশন লাগিয়ে দিই । তুমি অবাক হয়ে আমায় দেখ ।

আমি বলি , কি দেখছ ? অমন করে ?
আমার টোনা কে । তুমি আমার কোমর জড়িয়ে আমার পেটে মাথা রেখে বল ।
অদ্ভুত একটা ভাললাগায় মন ভরে যায় ।
এই রে চুলায় চা এর পানি বসিয়ে এসেছি । আমি এক দৌড়ে রান্না ঘরে যাই ।
তুমি ততক্ষণে হাফ প্যান্ট আর টি শার্ট পরে হাজির ।

তারপরে আমি কি করতে পারি ?
কিছু করতে হবে না । আপাতত গতকালের প্লেট গুলো ধুয়ে রাখ ।
ওকে ওকে । তুমি প্লেট ধুচ্ছ । আমার চা বানানো শেষ ।
দুইটা ডিম পোচ করলাম । সাথে টোস্ট । এই যে আসেন । নাস্তা করেন।
তুমি ছোটো বেবিদের মত দৌড়ে নাস্তার টেবিলে বসলে ।
ইয়াম্মি । খুব খিদে পাইসে । কাল রাতে অনেক ধকল গেসেত তাই !
আমি রাগের ভান করে বললাম, ও তাই ! আমি কি আপনাকে ধকলের কাজ করতে বলেছিলাম ! হেসে বললাম, যাও আজ খাওয়া বন্ধ ।
এই এই ! না না না ! সরি ! শোন ! ধকলের কাজ করে খুব আরাম !
আমি তোমার পিঠে একটা কিল দিয়ে বললাম, তুমি একটা জংলি পোলা ।

আমি তোমার পাশের চেয়ার টাতে বসলাম । তোমার মুখে টোস্ট তুলে দিলাম ।
বললাম, অনেক ভালবাসি তোমায় ! অনেক !
তুমি টোস্ট মুখে দিলে না । চেয়ার থেকে উঠে আমার কোলে মাথা রেখে বললে, কোনদিন ছেড়ে যেও না । সত্যি মরে যাব ।
আমি তোমার মাথায় হাত বুলাই । বলি, হাদারাম ! ছেড়ে যাওয়ার জন্য কি ভালবেসেছি ! এখন খেয়ে নাও । দুপুরে খেয়ে আজ চোরাবালি দেখতে যাব ।
ওহ ! রিয়েলি ! ইয়াহু !
তোমার ছেলেমি স্বভাব, পাগলামি আমি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখি । তুমিত আমার পাগল ।

দুপুরে খিচুড়ি রাঁধলাম । ডিম ভুনাটা তুমিই করলে । ওটা তুমি বেশ ভালো রাঁধ । দুপুরে খাওয়ার পর রেডি হচ্ছি । আমি ব্লু কালারের একটা টি শার্ট পরলাম । পায়ে কনভারস। তুমি আমায় জিজ্ঞেস করলে, সোনামণি আমি কি পরব ?
আমি তোমার ওয়্যার ড্রব খুলে একটা ব্ল্যাক কালারের শার্ট বের করে বললাম , এটা পর ।

দুজন রিকশায় করে যাচ্ছি । ঠাণ্ডা এখন তেমন নেই । আমি তোমার বাম হাতের বাহু জড়িয়ে ধরে আছি । তুমি মাঝে মাঝে এটা ওটা দেখছ আর আমার সাথে কথা বলছ । আমি কথা বলি, মাঝে মাঝে অবাক হয়ে তোমায় দেখি । স্রস্টা আমায় সব দিয়েছেন, তোমায় পেয়ে আমি সত্যি পূর্ণ ।
আমার অন্য সমকামি বন্ধুরা আমার কথা শুনে মাঝে মাঝে বলে,তুই একজনকে নিয়ে কেমন করে থাকিস বাবা ?
আমি ওদের কথা শুনে হাসি। বলি , কি করব বল ?ও যে আমায় ভীষণ ভালবাসে ! ভাগ্যিস ওকে পেয়েছিলাম ! নাহলেত হাত বদল হতে হতো তোদের মত !

বসুন্ধরা সিটির সিনে প্লেক্স এর সামনে আজ প্রচণ্ড ভিড় । ছুটির দিন তাই বোধয় । তার উপর রেদয়ান রনির চোরাবালি মুভিটা এর মাঝেই বেশ নাম কুড়িয়েছে । ও লাইনে দাঁড়াল । আমি এপাশে দাঁড়িয়ে আছি । হথাত দেখি রুমেল । রুমেল আমার স্কুল জীবনের বন্ধু । সেও সমকামী ।
রুমেল আমাকে দেখেই চিৎকার, এই শালা কেমন আছিস ?
আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম । রুমেলের সাথে একটা ছেলে হেংলা মত । রুমেল বলল, এটা আমার বয় ফ্রেন্ড আবির ।
আমি আবির কে হাই বললাম । এরপর রুমেল রাজ্যের গল্প শুরু করল । আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, প্রান্ত একটু রাগ আমার উপর । রুমেল একটু পর চলে গেল ।

প্রান্ত টিকেট নিয়ে এসেছে । সবাই একে একে সিনে প্লেক্স এ ঢুকতে শুরু করেছে । প্রান্ত এক প্যাকেট পপ কর্ণ আর পেপসি নিল । ও আমার সাথে কথা বলে না । চুপ ।
আমি বললাম, আমার জানুটার কি হইসে ! কথা কয় না কেন ?
ও এবার মুখ খুলল, তুই ওই বেটারে জড়াইয়া ধরলি কেন ?
আমি হা হা করে হেসে বললাম , ও গড ! এই কথা ! ও আমার নেংটা কালের বন্ধু ! তুমি এত ছেলেমানুষ কেন ? বলতো ?
প্রান্ত আমার হাত শক্ত করে ধরে বলল, খুব ভয় হয় সোনা ! যদি হারিয়ে ফেলি তোমায় ?
আমি ওর চোখের দিকে চেয়ে বললাম, যেদিন হারানোর সময় আসবে দুজন একসাথে হারাব । আমার ভালোবাসা এতো ঠুনকো নয় ।
তোমার চোখ ছলছল করে উঠলো । তুমি শুধু আমার দিকে চেয়ে বললে, জান, আই লাভ ইউ! আই লাভ ইউ ! আই লাভ ইউ! ! !!
আমি মৃদু হাসলাম, বললাম, ভালবাসি, অনেক বেশী । অনেক বেশি ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s