mitthe valobasa


খুব ইচ্ছে ছিল সাগর দেখব । ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে । ভালোবাসার মানুষই পাই নি । সাগর দেখাও হয় নি । আমি একা একা সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাই না । সবসময় মন চাইত কাওকে যদি ভালবাসতে পারতাম । পাই নি । যাদের পেয়েছি তারা বেশির ভাগই ভণ্ড । আজ এক ভণ্ডের গল্প শুনাব তোমায় …………।। আমি আনিসের কথা শুনছিলাম সেল ফোনে । আনিসও আমার ফেস বুক বন্ধু (ছদ্মনাম ) । আমার গে বাংলা গল্পের ভক্ত সে । তাই আজ তার গল্প লিখতে বসা ।

আমি আনিস । থাকি ঢাকার শান্তিনগরে । এখন জব করি । যখনকার কথা বলছি তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি । থাকি মহসিন হলে । মোটামুটি ভালো ছাত্র । কথা বার্তা এমনিতেই কম বলি । আমি মানুষের সাথে তেমন মিশতেও পারি না । অনেকেই আমাকে ভাবুক আনিস বলত । যাই হোক । আমার ছেলেদের ভালো লাগত অনেক আগে থেকেই । কিন্তু মনের মত কাওকে পেতাম না । সবাই শুধু শরীর শরীর করত । আমি চাইতাম একটা রাজকুমার আমায় ভালবাসবে । একদিন পেয়েও গেলাম । অনলাইনে ।
ওর সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতাম । আমি বদলে যেতে থাকলাম । যে আমি কারও সাথে কথা বলতাম না সে আমিই অনেক হাসিখুসি হয়ে গেলাম । সবাই আমাকে বলত, কিরে তুই কি প্রেমে পড়েছিস ?
আমি শুধু বোকার মত হাসতাম কিছুই বলতাম না । টানা ১৫ দিন কথা বলার পর আমারা দেখা করলাম ।
আমিই গেলাম ওর সাথে দেখা করতে । ও মিরপুর থাকত । পড়ত জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে । ও থাকত ওর মা আর বোনের সাথে । ওর কোন ভাই ছিল না । বাবা আগেই মারা গেছেন । এখানে মামা আর মামিও ওদের সাথে থাকে । আমি ওদের বাসায় যাবার পর ও আমাকে তার রুমে নিয়ে বসাল ।
হরেক রকমের খাবার নিয়ে আসল আমার জন্য । আমি পুরাই অবাক । এতো আয়োজন দেখে । ওর মা আর বড়বোন আসল । আমার সাথে অনেক কথা বলল । রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি হলে ফিরে আসতে চাইলাম । ও বলল আমায় সে বাসে তুলে দিবে । আমিও খুশি ।
অন্ধকার রাস্তায় ওকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলাম ।
আমার মনে হচ্ছিল আমি স্বর্গের সুখি মানুষ । ভালোবাসার মানুষটাকে অনেকদিন পর কাছে পেলাম ।
ও আমাকে জোরে জড়িয়ে ধরল । বলল, কোনদিন ছারব না তোমায় । আমার দু চোখে জল চলে আসল ।
বাসে যখন উঠছিলাম মনে হচ্ছিল আমি যেন কি ফেলে যাচ্ছি !

হলে এসেই ওকে ফোন দিলাম । অনেকক্ষন কথা বললাম । আমার সেল ফোনের টাকা শেষে ও ওর বড় বোনের ফোন থেকে আমাকে ফোন দিল । সেদিনের মত ঘুমিয়ে গেলাম ।
ওকে নিয়ে প্রায় সময়ই ঘুরতাম । শাহবাগ, টি এস সি, মিরপুর স্টেডিয়াম, ধান মণ্ডি লেক, গুলশান লেক । উত্তরার খোলা মাঠ । কত সুন্দর দিন ছিল !
এর মাঝেই ওর সাথে আমার একদিন সেক্স হয় । আমি একটু অবাক ছিলাম কারণ ওর পেনিস টা একটু অস্বাভাবিক ছিল । সামনের দিকটা মোটা আর পেছনের দিকটা খুব সরু । আরও একটা জিনিস খেয়াল করলাম ওর অণ্ডকোষ গুলো সেক্স করার সময় ফুলে ফুলে যেত । আমি একটু ভয় পেলাম । কিন্তু ওকে কিছু বললাম না । ও খুব বেশি সেক্স চাইত । যখনই বাসা ফাঁকা হতো । আমাকে যেতে বলত । আমিও রাজি হতো । আমার এতো সেক্স ভালো লাগত না । দাঁতে দাঁত চেপে সব মেনে নিতাম । ভাবতাম সব ঠিক হয়ে যাবে ।

কিছুদিন পর রোজা চলে আসে । আমাদের মাঝে দেখা খুব কম হতো । আমিও রোজার মাঝে হলে ছেড়ে দেশের বাড়িতে গেলাম । প্রায় এক মাস ওর সাথে কোন সেক্স হয় নি । ও খুব ধার্মিক ছিল । পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত । ঈদের পর ঢাকায় আসলাম । ওর সাথে দেখা করলাম । ও আমার জন্য ঈদের সব খাবার রেখে দিয়েছিল । আমি খুব খুশি এমন লাভার পেয়ে ।
এর দুইদিন পর ওর বার্থ ডে ছিল । আমি ওর জন্য ২ টা টি শার্ট কিনলাম । আজিজ সুপার মার্কেট থেকে । ও খুব পছন্দ করল । আমি ওকে পিজা হাটে খাওয়ালাম । দুপুর ৩ টার দিকে ও আমাকে বলল ওর সন্ধ্যায় কাজ আছে । আমিও ওকে ছেড়ে হলে আসলাম ।
বিকেলে একটু ঘুমিয়ে সন্ধ্যায় পড়াতে গেলাম টিউশনিতে । রাত ৮ টার দিকে হলে ফিরছি । এমন সময় চারুকলার দিকে দেখি আমার দেয়া টি শার্ট পরে ও হেঁটে যাচ্ছে , পাশে একটা ছেলে । দুজনের হাত দুজনের হাত এ ।
আমি লুকিয়ে গেলাম। দূর থেকে ওকে দেখছিলাম । বুকটা জ্বলে যাচ্ছিল ।
আমি তারপরেও ওকে কিছু বলি নি । ভাবলাম হয়ত টার কাজিন তাজিন হবে ।

এর বেশ কয়েকদিন পর আমি ওর বাসায় যাই । রাত হয়ে যাবার কারণে আমাকে তার বাসায় থাকতে হয় ।
একটা জিনিস খেয়াল করলাম । ঘুমানোর আগে ও তার সেল ফোন অফ করে দিল । আমি জিজ্ঞেস করলে বলে, তুমি আমার সাথে থাকা অবস্থায় আমায় কেও বিরক্ত করুক তা আমি চাই না ।
ও একটু পরই ঘুমিয়ে গেল ।
আমার ঘুম আসছিল না । আমি চুপি চুপি উঠে বাথরুমে গেলাম । ওর বালিশের পাশ থেকে ওর সেল ফোন টা নিলাম । অন করলাম । সাথে সাথে ৭-১০ টা মেসেজ আসল । আমি অবাক হয়ে দেখলাম বিভিন্ন নাম্বার থেকে সেক্সুয়াল মেসেজ আর লাভ এর মেসেজ ।
আমি ওর সেন্ট মেসেজগুলাও চেক করে দেখি সেও ওদের কে বিভিন্ন সময় মেসেজ করেছে ।
আমি একটা নাম্বারে মিস কল দিতেই সাথে সাথে কল ।
কি ব্যপার, জান কেমন আছ ?
আমি ভরকে গেলাম । আমি আমার গলার স্বর পরিবর্তন করে কথা বলতে থাকলাম ।
ও পাশ থেকে বিভিন্ন সেক্সুয়াল কথা বলতে লাগলো ।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আমার সাথে সেক্স করতে তোমার কেমন লাগে ?
ও বলল, সবি ভালো । কিন্তু তোমার পেনিস টা একটু কেমন জানি ।
আমি ওকে আবার বললাম , আচ্ছা বলত আমার সাথে তোমার কবে লাসট সেক্স হইসে ।
ও পাশ থেকে বলল, কেন ? রোজার মাঝেত তোমার সাথে ৩ বার সেক্স হইসে ।

আমি সব বুঝতে পারলাম । ফোন টা রেখে বেশ কিছু নাম্বার ওর ফোন থেকে আমার মোবাইলে সেভ করে নিলাম ।
পরদিন সকালে উঠেই ও আমাকে চুমু দিল । আমার কাছে সব মেকি মেকি মনে হচ্ছিল । ছি ! মানুষ এতো অভিনয় পারে ?
সকালে ফ্রেস হয়ে আমি বেরুতে চাইলাম । ও বলল, সোনা নাশ্তা করে যাও ।
আমি বললাম, আমার খিদে নেই ।
ও বলল, ও নাকি খাবে না আমি না খেলে ।
আমি হেসে বললাম, তুমি অনেক নাটক জান । অভিনয় করলে নাম করতে ।
ও যেন আকাশ থেকে পরল এমন ভাব করল ।
এসব তুমি কি বলছ জান ?
আমি বললাম, আমাকে জান বল না প্লিজ । তুমি রোজার মধ্যে কার সাথে কি করছ সত্যি করে বলতো ?
ও বলল , তুমি আমাকে সন্দেহ করো ?
আমি বললাম, হ্যাঁ ।
ও বলল, তুমি জান আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরি । আমি কেন রোজার মধ্যে সেক্স করব ?
আমি বললাম, সেটা তোমার ব্যপার । আমি যা জানতে চাইসি তার উত্তর দাও ।
এই কথা বলার পর সে বলল, আমার মায়ের কসম । আমি রোজায় কারও সাথে সেক্স করি নি । আমি তোমাকে লাভ করি ।
আমি হাসালাম। ওর সেল ফোন নিয়ে ওর নিজের লেখা মেসেজ আর ইনবক্সের মেসেজ গুলো দেখালাম ।
আমি বললাম, যে ছেলের সাথে তুমি রোজায় সেক্স করেছ তার সাথে আমার রাতে কথা হইসে । এখন বল, কোনটা সত্যি !
ও আমার পা জড়িয়ে ধরল । কান্না করে দিল । বলল, আমি স্যরি । আমার ভুল হয়ে গেছে ।
আমি ঘৃণায় ওর পা ছরিয়ে নিলাম ।
বললাম, আমি তোমাকে কোনদিন ক্ষমা করব না , তুমি ভালোবাসার অভিনয় করো সবার সাথে । আই হেই ট ইউ ।
ও ওর দোষ স্বীকার করে বলল, প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেও না । তাহলে আমি আত্মহত্যা করব । এই বলে সে দৌড়ে খাবার টেবিলের উপর থেকে ছুরি নিয়ে আসল ।
ছুরি টা নিয়ে আমাকে ভয় দেখাল যে সে তার কব্জিতে ছুরি চালাবে আর এজন্য আমি দায়ি থাকব ।
আমিও হাসলাম আর বললাম, তোর মত কুত্তা আর রাস্তার হারামিরা আত্মহত্যাও করতে পারবি না ।
কারণ এতেও সাহস লাগে । তুই একটা ভণ্ড, হারামি। তোরে রাস্তায় ফালাইয়া দশ বার পাছা মারা উচিত ।
আমি আর কিছু না বলে দরজা খুলে বের হয়ে আসলাম ।

সোজা হলে এসে বিছানায় শুলাম । ছাদের ফেন টার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকালাম । আমার বুকের ভেতর ঝড় হচ্ছিল । তবে এই ভেবে সান্তনা পেলাম যে আমি এখন আর কোন ভণ্ড কে ভালবাসি না ।
এর পরে ই ওর ফোন দেয়া শুরু হল । প্রতিদিন অসংখ্য ফোন মেসেজ । আমি কোন উত্তর দিই না । আমি এমনই । আমার অনেক অভিমান। অনেক রাগ । আমি সব সহ্য করতে পারি কিন্তু ভালোবাসার নামে মিথ্যা আর অভিনয় মেনে নিতে পারি না । যারা এসব করে তারা বেশ্যাদের চাইতেও খারাপ ।
এরপর আর কাওকে ভালবাসিনি । এখন কেও যখন আই লাভ ইউ বলে তখন ভায় পাই । ওই ভণ্ডটার ছবি চোখে ভেসে উঠে ।
*******************************************************
আমি ফোনের এ প্রান্তে এতক্ষণ আনিসের কথা শুনলাম । বললাম, আমাদের গে দের সবার জীবনেই এমন কিছু না কিছু ঘটনা থাকে । তাই আপ সেট হবেন না ।
আনিস বলল, ভাই ! এখন আর মনই নাই ! আপ সেট হব কেমন করে ।
আমিও হাসলাম । আসলেই বোধহয় সবাই এখন মনবিহিন হয়ে যাচ্ছে । কিন্তু মন ছাড়া কি মানুষ হয় ? কে জানে এর উত্তর !

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s