কোন এক ফেস বুক বন্ধুর গল্প……

images0
Bangla Gay Golpo পেজ চালু হবার পর থেকেই সবার কাছ থেকে ভীষণ সাড়া পাচ্ছি । অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতা আর ভালোবাসার কাহিনী আমাকে মেসেজ করে পাঠাচ্ছেন । সেখান থেকেই একে একে গল্প লিখে পোস্ট দিচ্ছি । জানি না সবার কাছে কেমন লাগছে ? তেমনই এক বন্ধুর ভালোবাসার গল্প………………………………………………………………

ভোরের কুয়াশা এখনও কাটে নি । আমি পা রাখলাম সিলেটের মাটিতে । অনেকদিন পর আসলাম এখানে । তোমায় দেখতে । এক মাস ধরে কথা বলি তোমার সাথে । পরিচয় ফেসবুকে । তুমি আমায় সাদা পাখি ডাক । আমি তোমার সাদা পাখি গত রাতে সিধান্ত নিলাম তোমায় দেখতে সিলেট যাব । তোমাকে জানালাম মুঠোফোনে । তুমি অনেক খুশি । আমাকে একটু পর পর ফোন করে জেনে নিচ্ছিলে আমি কতদূর আসলাম । আমার কাছে ঢাকা টু সিলেট বাস যাত্রার পুরোটা সময় স্বপ্নের মত লাগছিলো । মনে হচ্ছিল কখন তোমায় দেখব । কখন তোমায় ছুব ?

আমি বাস থেকে নেমে তোমায় ফোন দিলাম । তোমার ছবি এর আগে আমি ফেসবুকে দিয়েছিলাম । কিন্তু সামনাসামনি দেখিনি তোমায় । তুমি আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসলে । আমার দিকে তাকিয়ে হাসলে। আমি দেখলাম আমার রাজকুমার আমার সামনে । তুমি এসেই আমার হাত ধরলে । আমার ঠাণ্ডা হাত । আমি তোমার গরম হাত ছুঁয়ে ওম নিচ্ছিলাম । কেমন একটা ভাললাগা মন ছুঁয়ে যাচ্ছিল । আমার রাজপুত্র এখন আমার সামনে ।
তোমার গাড়িতে উঠলাম । তুমি ড্রাইভ করছ আর একটু পর পর আমার দিকে তাকাচ্ছ ।
আমি বললাম, ভালো করে দেখলেই হয় ।
তুমি একটু লজ্জা পেলে ।
আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম তোমার মত একজন পুরুষও লজ্জা পায় ।
গাড়ি ১৫-২০ মিনিট পর তোমার বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল ।
আমি নামলাম । তুমি আমাকে সরাসরি তোমার শোবার ঘরে নিয়ে বললে, এটা তোমার ঘর ।
আমি আনন্দে আত্মহারা । এতদিন ফেসবুকে চ্যাট করার সময় তুমি বার বার তোমার ঘরের বর্ণনা দিতে আর আমি কল্পনা করতাম । আজ আমি আমার ভালোবাসার মানুষের ঘরে ।
আমি তোমার বিছানায় বসলাম ।
তুমি আমায় বললে, ফ্রেস হয়ে নাও । আমি কফি করে আনছি ।
আমি বললাম, তুমি কেন কষ্ট করবে ? বাসায় আর কেও নেই ?
তুমি হাসলে । বললে, এটা শুধু তোমার জন্য । তাই আমি বানাচ্ছি ।

আমি টাওয়েল নিয়ে বাথরুমে গেলাম । আয়নায় মুখ ধুয়ে নিজেকে দেখলাম । আসলেই আমি কত সুখি !
ওর মত একজন কে পেয়েছি । যে আমাকে এতটা ভালবাসে ।
ওর মত পুরুষকে যে কেউ বুকে আগলে রাখতে চাইবে ।
আমাকে প্রতিদিন কত না কবিতা কত না সুন্দর সুন্দর মেসেজ পাঠায় সে । তার কোন হিসেব নেই ।
আমি বাথরুম থেকে হাফ প্যান্ট আর টি শার্ট পরে বের হলাম ।
ও এর মাঝেই ট্রে তে করে কফি আর বিস্কিট নিয়ে আসল ।
আমি সোফায় গিয়ে বসলাম, ওর গা ঘেঁষে । ওর কাঁধে ইচ্ছে করে মাথা রাখলাম ।
বললাম, ভালবাসি তোমায় ।
ও আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না । আমার সাদা পাখি আমার কাঁধে মাথা দিয়ে আছে ।
আমি বললাম, ছুঁয়ে দেখ জান ।
ও আমার ডান হাত ওর বাম হাত এ নিয়ে বলল, সাদা পাখি কফিটা খেয়ে নাও ।
আমি হাত এ কফি নিলাম ।চুমুক দিয়েই আবেশে মাথাটা ঝিম ঝিম করে উঠলো ।
ও আমার দিকে চেয়ে আছে ।
আমি হালকা লজ্জা পেলাম ।
কফি খাওয়া শেষে ও বলল, তুমি শুয়ে রেস্ট নাও । আমি পাশের রুমে আছি । কিছু লাগলে ডাক দিও ।

আমি একটু রাগ করে বললাম, আমি এখানে থাকব আর তুমি পাশের রুমে থাকবে কেন ?
ও হাসল । বলল, ঠিক আছে ।
আমি বিছানায় শুয়ে ওর দিকে কাত হয়ে শুলাম ।
কিসের ঘুম ! আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি । ওর জোড়া ভ্রু । আমি আমার হাতের আঙ্গুল বুলাই ওর চোখে । ছুঁয়ে দেখি ওর চোখ । অনুভব করি । আমার হৃদয় দিয়ে ।
ও আমার মাথা ওর বুকের কাছে টেনে নেয় , মাথায় হাত বুলায়। বলে, সোনা পাখি , তুমি ঘুমাও । সারা রাত জার্নি করে এসেছ ।
আমি বললাম, তুমি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও ।
ও আমার মাথার চুল এলোমেলো করে দেয় ।
আমি আমার ঠোঁট ওর বুকে ঘষি । বুকের গন্ধ নিই । আমার পুরুষের বুকের গন্ধ । আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হল । আমার চাইতে সুখি আর কেও নেই ।
ও আমাকে ওর শক্ত বাহু দিয়ে আরও শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে । বলে, পাখি তুমি এভাবেই আমার বুকে থাকবে ।
আমি বললাম, আমি কোথাও যাব না তোমায় ছেড়ে ।
একটু পর বুঝলাম। দুজনেরই শরীর জেগে উঠছে ।
ও আমার কোমরে হাত বুলায় । আমি শিউরে উঠি ।
ওর বুকে হাত রাখি । আমার অস্থির আঙ্গুল তার শক্ত বুক ছুঁয়ে যায় । ওর নাভিতে এসে নামে । তারপর কখন যে ওর প্যান্টের ভেতর হাত দিয়েছি !
ও বলে উঠলো, তুমিত ভারি দুষ্ট পাখি !
আমি বললাম, তোমার পাখিটাও দুষ্ট ।
তুমি বললে, ওটাকে আদর দাও । তাহলে আর দুষ্টুমি করবে না ।
আমি আরও সাহসি হলাম । তোমাকে নিচে রেখে তোমার উপরে উঠে বসলাম। দুজন আদিম মানুষের দুটি উষ্ণ শরীর আদরে আদরে ভিজে যাচ্ছে ।
তুমি আমার বুকে মুখ রাখতেই আমি শীৎকার দিয়ে বলি, জান আমাকে আরও আদর দাও ।
তুমি আমার পাখিটাকেও আদর করতে থাক তোমার শক্ত হাত ।
আমি তখন মাতাল হাওয়ায় উড়ছি ।
কখন যে তুমি আমার ভেতর প্রবেশ করলে তা বুঝতে পারি নি । যখন বুঝলাম তখন ব্যথায় মরে যাচ্ছি ।
তুমি একটু ভয় পেলে । থেমে গেলে ।
আমি বললাম, তুমি আদর করো আমায় । থেমে যেও না প্লিজ ।
এভাবে কতক্ষণ জানি না ।

দুইটা ক্লান্ত স্রান্ত শরীর একজনের বুকে আরেকজন । আমি এর আগে অনেকের সাথে শরীর মিলিয়েছি । কিন্তু তোমার ভালোবাসা আর শরীরী আদর আজ আমায় ভরিয়ে দিয়েছে ।

কখন যে দুপুর হয়ে গেছে জানি না । তোমার দাকে ঘুম ভাঙল । তুমি বললে, সোনা উঠে খেয়ে নাও । বিকেলে ঘুরতে যাব ।
আমি উঠি না । তুমি এসে আমার কপালে চুমু দাও । বল, অনেক টায়ার্ড লাগছে ?
আমি বললাম, হুম ।
তুমি আমার ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে বললে, এনার্জি দিলাম।
আমি উঠেই তোমার কোলে বসে তোমায় জড়িয়ে ধরলাম ।
দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে তোমার বাইকে করে ঘুরতে বের হলাম ।
আমার অনেক দিনের স্বপ্ন আমার লাভার বাইক নিয়ে আমাকে নিয়ে ঘুরবে ।
তুমি সেটা জানতে ।
তাই আজ আমাকে বাইকে নিয়ে বেশ হয়েছ ।
বাইরে হালকা শীত আছে । আমি কালো জ্যাকেট পরেছি । তুমি নীল রঙ্গা একটা টুপি ওয়ালা সোয়েটার পরেছ ।
আমি তোমায় পেছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরেছি । তুমি চিৎকার করে গান গাচ্ছ । আমি তোমাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে আছি । রাস্তার কেও কেও আড় চোখে তাকাচ্ছে । তাকাক ।
আজ আমি আমার সব ভালোবাসা উজার করে দিব ।

তুমি যেদিকটাতে বাইক চালাচ্ছ সেদিকটাতে ছোটো ছোটো চা বাগান । একটা ছোটো পাহাড়ের কাছে বাইক রেখে বললে, সোনা পাখি চল পাহাড়ে শুয়ে আকাশ দেখি ।
আমি বললাম, তোমার মনে আছে ? ও গড ! আমি যে তোমায় বলেছিলাম !
ও বলল, তোমার সব কথা আমার মনে আছে ।
বাইক টা এক কোনায় রেখে আমি আর ও পাহাড়ের ঢালের ঘাসে শুয়ে আকাশ দেখি ।
শীতের সন্ধ্যা । তাই আধার খুব তাড়াতাড়ি নেমে আসে । আকাশে দুই একটা তারা ।
আমার কাছে সব স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হচ্ছিল । ইস ! সময়টা যদি থেমে যেত !
তুমি বেসুরো গলায় গান ধরলে, আজ ফিরে না গেলেই কি নয়, সন্ধ্যা নামুক না, জোনাকি জলুক না । নিরজনে বসি আরও কিছুটা সময়, কিছুটা সময় ।
আমিও গলা মেলালাম।

তখন ৭ তার বেশী বেজে গেছে । তুমি বললে, চল বাসায় যাই । রাত হয়ে যাবে ।
আমিও বললাম, চল ।
তুমি অনেক জোরে বাইক চালাচ্ছ । মনে হচ্ছে আমি হাওয়ায় ভাসছি । আমার স্বপ্নের কুমারের সাথে পংখিরাজ ঘোড়ায় ।
বাসায় আসতে আসতে ৯ টার বেশী বেজে গেল । হাত মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে বসলাম দুজন ।
তুমি আমাকে খাবার বেরে দিচ্ছিলে ।
আমি খাচ্ছি আর তোমায় দেখছি ।
খাবার খেয়ে রুমে আসলাম । তুমি তোমার বাবার সাথে ফোনে কথা বলতে লাগলে । তোমাদের ফেমিলির সবাই লন্ডন থাকে । বেশিরভাগ সিলেটীদের যা হয় আর কি ?
আমি রুমে এসে আমার সেল ফোন হাত এ নিলাম । দেখি একটা মেসেজ …………… “তুমি আজ যার সাথে সুখের সময় কাটাচ্ছ গতকাল আমি সেটা কাটিয়েছি, হা হা হা ।”
আমি একটু অবাক হলাম। আমি সিলেট এসেছি এটা আমি আর ও ছাড়া কেউ জানার কথা না ।
আমি সাথে সাথে কল বেক করলাম । ওপাশ থেকে কেও একজন বলল, কেমন লাগছে সিলেট ?
আমি বললাম, কে আপনি ?
আমি আপনার পরিচিত । ফেসবুক ফ্রেন্ড ।
আপনি জানলেন কি করে আমি যে এখন সিলেটে ?
হা হা হা । আপনার লাভার গতকাল আমাদের জানাইসে । আর গতকাল আমি আর আমার এক ফ্রেন্ড আপনার লাভারের সাথে সুইসি ।
আমি একটু রেগে গেলাম, এসব কথা আমাকে বলছেন কেন ?
ওপাশ থেকে হাসি, আপনার লাভার কে জিজ্ঞেস করুন! উত্তর পাবেন ।
আমি রাগে ফোন টা কেটে দিলাম ।

তুমি রুমে আসার পর দেখলে আমি শুয়ে আছি । আমার মাথায় হাত রাখলে । আমি চুপচাপ । কোন কথা বলছি না । তুমি বললে, কি ব্যপার সাদা পাখি । মন খারাপ নাকি টায়ার্ড ?
আমি বল্ললাম, একটা সত্যি কথা বলবে ?
হুম, বল ? কি কথা ?
কাল এখানে কে এসেছিল ? আর আমি সিলেটে এটা কে জানে ?
তুমি চুপ । কোন কথা বল না ।
আমি আবার বললাম, কি হল ? বল ?
তুমি এবার মুখ খুললে, হুম । কাল আমার একটা বন্ধু এসেছিল ।
আমি বললাম, কেমন বন্ধু ? আর কেও আসে নি ?
তুমি বললে, ফেস বুক ফ্রেন্ড । ওর সাথে ওর একটা ফ্রেন্ড ছিল ।
আমি হাসলাম, বললাম, বাহ বাহ ! দারুন । বাকি গল্প বল। শুনি !
তুমি বললে, আসলে কাল এক্সিডেন্ট লি কি সব হয়ে গেল !
আমি বললাম, হোয়াট ? তুমি কি বলছ তুমি জান ?
তুমি মাথা নিচু করে বসে আছ ।
আমার সারা শরীর রাগে কাঁপছে ।
আমার মনে হচ্ছিল আমি কার জন্য ঢাকা থেকে সিলেট এসেছি । এতো আমাকে লাভ করে না । এতো আমার সাথে সেক্স করতে চায় । এর চাইতে বেশি কিছু না ।

সারা রাত কোন কথা হয় নি দুজনের মাঝে । সকালে উঠে আমি ব্যাগ গুছালাম । তুমি অপরাধির মত আমার কাছে এসে বলল, সাদা পাখি, প্লিজ মাথা গরম করো না । আমায় ক্ষমা করো ।
আমি তখন বললাম, তুমি কি মানুষ নাকি অন্য কিছু ! একজনের সাথে সেক্স করলে না হয় বুঝতাম এক্সিডেন্ট , তুমি পর পর দুজনের সাথে!
তুমি কথা বললে না ।
আমি বললাম, আমাকে বাস স্ট্যান্ড দিয়ে আস ।
তুমি আমাকে বার বার আটকাতে চাইলে ।
কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা । আমি এখনি ঢাকা রওনা দিব ।
তুমি তোমার বাইকে করে আমাকে নিয়ে বাস স্ট্যান্ডে আসলে ।
টিকেট কাটলাম। অপেক্ষা করছি বাসের জন্য ।
একটু পর বাস ছাড়বে । একে একে সব যাত্রীরা বাসে উঠছে । আমি উঠতে যাচ্ছি ।
তুমি আমার হাত ধরে বললে, সাদা পাখি । আমায় ক্ষমা করে দিও ।
আমি কিচ্ছু বললাম না ।
বাসে উঠলাম ।
ড্রাইভার গাড়ি ছেড়ে দিল । আমি জানি জানালার বাইরে তুমি দাঁড়িয়ে আছ । আমার স্বপ্ন কুমার । আমার পুরুষ প্রেমিক । যাকে দেখার জন্য এতো দূরে ছুটে আসলাম আমি । আর বিনিময়ে কি পেলাম !!!
ততক্ষণে বাস ছেড়ে দিয়েছে ।
আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না । ডুকরে চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম । আসে পাশের সবাই আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে ।
সবার চোখে বিস্ময় , যে আমার মত একটা স্মার্ট ছেলে ভেউ ভেউ করে কাঁদছে ।
সারাটা রাস্তা কিভাবে এসেছি জানি না । ঢাকা এসে প্রথমেই আমার ফেস বুক আইডি ডি একটিভেট করলাম আর নম্বরটাও চেঞ্জ করলাম ।
টানা পাঁচদিন খাই নি কিছু । সব বমি করে দিতাম । মা-বাবা সবাই চিন্তায় পরে গেছিল । আমাকে নিয়ে ।
আমি এর পর থেকে বদলে যেতে থাকলাম। নিজের ভেতর গুটিয়ে যেতে থাকলাম।
একটা ভালোবাসা আমার সব শেষ করে দিল ।
আমারত কোন দোষ ছিলনা । তবে আম্য কেন এই শাস্তি পেটে হল ?
আমি এখন একাই হাঁটি পথ ধরে । মাঝে মাঝে ভালবাসতে ইচ্ছে হয় । তখন নিজেকে বুঝাই ভালবাসলে আবারও কষ্ট পেতে হবে ।
একবারের কষ্ট সহ্য করেছি । কিন্তু দ্বিতীয়বার কষ্ট পেলে আর সহ্য করতে পারব না । এর চাইতে একাই ভালো ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s