জীবন গল্প

আমার ফেসবুক বন্ধুর জীবনের গল্প । ও অনেকদিন থেকেই বলছিল ওর গল্পটা পেইজে পোস্ট করার জন্য । আমি সময় করে উঠতে পারছিলাম না । আজ লিখলাম ……………………………………

****************************************************************
আমি ইয়ামিন । বয়স ২২ । বাড়ি সিলেট শহরে । তবে এখন ঢাকাতেই থাকি ।
আমাদের পরিবার খুবই ধার্মিক আর প্রভাবশালী এই শহরে । পরিবারে আমরা ৪ ভাই আর ২ বোন । আর বাবা আছেন । মা নেই । আমার বয়স যখন ৭ বছর তখন মা মারা যান । আমি ভাই বোন দের মাঝে সবার ছোটো ।
আমি যখনকার কথা বলছি তখন আমার বয়স ১৭ বছর । এইচ এস সি প্রথম বর্ষে পড়ি । ছেলেদের প্রতি আমার একটা আকর্ষণ ছিল , কিন্তু কারও সাথে তেমন কোন অভিজ্ঞতা তখনও হয় নি ।
আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য অনেকেই পাগল ছিল । কিন্তু আমি চাইতাম আমি যাকে ভালবাসব তার সাথেই শারীরিক সম্পর্ক হবে ।
একদিন বন্ধুদের সাথে পিকনিক এ গেলাম । মাধব কুণ্ডে । সবাই খুব মজা করলাম । কিন্তু কষ্টের বিষয় আমি সাতার জানি না । তাই পানিতে নামলাম না । পারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের মজা করা দেখছি ।
খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম ওদের সাথে সাতার কাটতে পারছি না তাই ।
একসময় খেয়াল করলাম একটা হ্যান্ড সাম ছেলে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
ছেলেটা অনেক স্মার্ট । ব্লু জিন্স আর টি শার্ট পরা । চোখে সান গ্লাস ।
আমি একটু ভয় পেলাম । ছেলেটা আমার দিকে একটু এগিয়ে আসল ।
আমার সামনে এসে বলল, এক্সকিউজ মি । একটু কথা বলতে পারি ?
আমি বললাম , জি বলুন !
ও বলল, আমি নাফিজ । কানাডা থাকি । তবে আমাদের বাড়ি সিলেটে ।
আমি বললাম , ও আচ্ছা ! আমিও সিলেটেই থাকি ।
ও একটু হেসে বলল, তাহলেত ভালই হল । তা আপনি একা এসেছেন নাকি ?
আমি বললাম , না ভাইয়া । আমার বন্ধুদের সাথে এসেছি । পিকনিক করতে । ওরা সাতার কাটছে । আমি সাতার পারি না তাই দাঁড়িয়ে দেখছি ।
এই কথা শুনে নাফিজ হা হা করে হাসল ।
আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম ওর দিকে ।
মানুষ এতো সুন্দর হয় কেন! বুকের ভেতর কেমন জানি মোচড় দিয়ে উঠলো !
আমার খুব ভালো লাগছিলো ওর সাথে কথা বলতে ।
হথাত বন্ধুরা চলে আসল ।
ওকে বললাম, আমি যাই এখন !
খেয়াল করলাম ওর মনটা খারাপ হয়ে গেছে ।
নাফিজ বলল, তোমার সেল নম্বরটা দেবে ?
আমি বললাম, কেন নয় ?

সারা রাস্তা অনেক মজা করলাম বন্ধুদের সাথে । বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল । খুব ক্লান্ত ছিলাম । তাই কখন ঘুমিয়ে গেছি বলতে পারি না । হথাত ঘুম ভাবগ্ল ফোন কলের সব্দে ।
হাই, আমি নাফিজ । কেমন আছ ?
এইতো ভালো । তুমি কেমন ?(আমার বুকটা দুরু দুরু কাঁপছিল )
ভালো, তোমাকে খুব মিস করছি ।
আমি বুঝতে পারলাম আমি বোধয় আমার স্বপ্নের রাজকুমারকে পেতে যাচ্ছি ।

এরপর থেকেই তার সাথে প্রতিদিন কথা হতো । একদিন হথাত করেই সে আমাকে বলল, আমি তোমাকে ভালবাসি ।
আমি তার প্রতি যথেষ্ট দুর্বল ছিলাম, বললাম, ভালবাসি ।
পরদিন দুজনে একটা পার্কে দেখা করলাম । দুজন পার্কের নিরব জায়গায় বসলাম । ও আমাকে জড়িয়ে ধরল । আমার খুব ভালো লাগছিলো ।
আমার ঠোঁট ওর ঠোঁট ছুঁয়ে গেল । আমার চোখে জল চলে আসল ভাললাগায় ।
আমি কেঁদে ফেললাম।
বললাম, আমাদের সম্পর্ক সমাজ মেনে নিবে না ।
ও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, বলল, সোনা ! তোমাকে আমি কানাডা নিয়ে যাব ।
আমি তখনও কাঁদছি ।
নাফিজ ওর পকেট থেকে একটা গোল্ডের রিং বের করল । আমার হাতে পরিয়ে দিল ।
আমার সারা শরীর কাঁপছিল । ভাললাগায় নাকি ভয়ে ! বুঝতে পারছিলাম না ।

বিকেলে বাসায় আসলাম । মনে হচ্ছিল আমি বার বার ওর কাছে ছুটে যাই । ওকে একপলক দেখি ।
ফোনে কথা বললাম ওর সাথে । ও বলল, চল আজ রাতে আমরা বাসর করব ।
আমি এই কথা শুনে রাজি হলাম । বাবা কে বললাম, বাবা ! আজ রাতে এক বন্ধুর বাসায় থাকব ।
বাবা রাজি হলেন ।

ওকে ফোন দিলাম । ও বলল, সিলেটের একটা নামকরা হোটেলে আমরা আজ রাতে থাকব ।
আমি রাত ১০ টার দিকে গেলাম হোটেলে । আমার খুব ভয় লাগছিলো ।
হোটেল রুমে ঢুকে আমি জড়সড় হয়ে বিছানায় এক কোনে বসে আছি ।
ও এসে আমার পাশে বসে । আমার হাত ধরে চুমু খায় । বলে, তোমায় আজ অনেক আদর দিব জান ।
আমি কিছু বলি না ।
ও আমার পরনের টি শার্ট খুলে ফেলে । আমি শিউরে উঠি ।
ওর ঠোঁট আমার চোখ, ঠোঁট ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় ।
হোটেল রুমের তীব্র আলোয় আমি লজ্জা পাই । বলি, লাইটটা নিভিয়ে দাও না !
ও একটা নীল রঙ্গা ডিম লাইট জালায় ।
নীল আলোয় দেখলাম ও ততক্ষণে ওর টি শার্ট আর জিন্স খুলে ফেলেছে ।
ওর পরনে শুধু একটা সাদা আন্ডার ওয়্যার । ওকে দেখতে হলিউডের নায়কদের মত লাগছিলো ।
আমি চোখ বুজি । ওর ভালো বাসা নিই । আমার মন জুড়ে । আমার শরীর জুড়ে ।
ও আরও অস্থির হয়ে যায় ।
আমার বুক খামচে ধরে । চুমু খায় । আমি ব্যথায় শিহরনে চিৎকার দিই । ওর মাথার চুল আঁকড়ে ধরি ।
প্রথম কেও আমায় এভাবে আদর দিচ্ছে ।
অনভিজ্ঞ আমি বুঝি না কি করব !
ও আমায় সিখিয়ে দেয় । শরীরের খেলা ।
আমার হাত ওর শরীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে নীচে নামে ।
আমি মুঠোয় ধরি ওর পুরুষত্ব ।
ও এবার পাগল হয়ে যায় ।
আমাকে উপুড় করে শুইয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার ভেতরে ওর পেনিস ঢুকায় ।
আমি সাথেই চিৎকার দিয়ে অচেতন হয়ে যাই ।
যখন সজাগ হলাম দেখলাম ও আমার চোখে মুখে পানির ছিতা দিচ্ছে ।
আমি দেখলাম বিছানায় রক্ত । আমার নিতম্ব বেয়ে রক্ত পড়ছে ।
ওকে ভালবাসি । তাই সব দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করলাম ।
সেই রাতে দুবার ও আমার শরীর নিয়ে খেলে ।
আমি বাঁধা দিই না । কারণ আমি ওকে ভালবাসি ।

আদর করা শেষে ও আমাকে বললে, সোনা আমি দুঃখিত । তোমায় অনেক কষ্ট দিলাম আজ ।
আমি হাসলাম , বললাম, ভালোবাসার জন্য আমি সব পারি ।
১ মাস পর ও কানাডায় চলে যায় ।
এর কিছুদিন পর আমিও কানাডায় যাই । ওই সব ব্যবস্থা করে ।
কাগজ পত্র রেডি করে ।

আমার মেজ ভাই কিভাবে জানি আমার সব ঘটনা জেনে ফেলে তা আমি আজও জানি না। তবে সে আমার বাবা কে কিছুই বলে নি।
কানাডায় যাবার পর মেজ ভাইয়ার সাথে ফোনে কথা বলি । ভাইয়া আমাকে অশ্রাব্য ভাসায় গালি গালাজ করেন । ভাইয়া ফোন রেখে দেয় আর বলে আমি যেন তাদেরকে আর কোনদিন ফোন না দিই , তাদের সাথে যেন কোন সম্পর্ক না রাখি ।
আমি কি করব বুঝতে পারি না । বোকার মত হাউমাউ করে কাঁদি ।
ভালই চলছিল সব কিছু । কিন্তু বেশ কয়েক মাস পর খেয়াল করলাম নাফিজ বদলে যাচ্ছে । ও যেন আমার সাথে কেমন আচরন করে । বুঝতে পারছিলাম আমি বোধয় কিছু হারাতে যাচ্ছি ।
আমার সাথে দিনের পর দিন সে খারাপ ব্যবহার করত ।
এক সময় জানতে পারি ও একটা মেয়েকে ভালবাসে ।
আমি কিছু বলি না । চুপ করে থাকি । দিন দিন মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ি । আমি এখন কোথায় যাব ?
যাকে ভালবেসে সব ছেড়ে চলে এসেছি সেই আজ আমায় ছেড়ে যাচ্ছে ।
চোখের সামনে দেখি সব , বুক ছিরে যায় । কাওকে বুঝাতে পারি না ।

তারপর একদিন নাফিজ আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেয় ।
আমার শরীর টা দেশে আসে কিন্তু মন টাকে আমি কানাডায় কবর দিয়ে আসি ।
ঢাকা বিমানবন্দরে পা রাখার পর থেকেই দু চোখ জুড়ে অন্ধকার দেখি । আমি কন মুখে সিলেট যাব ।
আমারত যাওয়ার কোন জায়গা নাই !
তারপরেও লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে দুরু দুরু বুকে সিলেট যাই।
কিন্তু এখানেও আমার জন্য বিস্ময় অপেক্ষা করছিল ।
বাসার সামনে এসেই দেখি বাসায় তালা ।
পাশের বাড়ির একজন কে জিজ্ঞেস করলাম । ওরা বলল, আমার পরিবারের সবাই লন্ডন চলে গেছে ।
পরে শুনেছি বাবা লন্ডন গিয়েই মারা যান ।

আমি জানি । আমার কথা গুলো কেও বিশ্বাস করবে না । অনেকেই হয়ত হাসবে ! কিন্তু এতাই আমার জীবন । এতাই বাস্তবতা ।
ভালবেসে এমন উপহার কেউ যেন না পায় । মাঝে মাঝে যখন খুব কষ্ট হয় তখন আকাশ দেখি । অজস্র তারা দেখি । বুকের ভেতর এক চিলতে দীর্ঘশ্বাস জানান দেয়, আমি ওকে সত্যি ভালবাসতাম !!!!

One thought on “জীবন গল্প

  1. Hmm….keu bodle gele kichu korar thakena… Bodle jawai niyom, nijekeo bodle nite hoy. Life is beautiful, never look behind d closed door…more doors r waiting for us, jus look forward….

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s