চল শ্লোগান দিই

হ্যালো, কি কর ?
কিছু না ।
তাহলে শাহবাগ চলে আস । এক সাথে আন্দোলন করি ।

ওর কথা শুনে এক লাফে বিছানা থেকে নামলাম। দৌড়ে তাড়াতাড়ি রেডি হলাম । কোনোরকমে কেডস জোড়া পায়ে গলিয়েই দে ছুট । তাড়াতাড়ি একটা রিক্সা নিয়েই সোজা শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে । তুহিন ওখানে দাঁড়ানোই ছিল । ওর মাথায় একটা পতাকা বাঁধা । আমি একটু রাগ করে বললাম, আমার পতাকা কই ?
ও হাসল । কাঁধের ব্যাগ থেকে আমার জন্য রাখা পতাকা বের করল । বলল, ঘুরে দাঁড়াও ।
আমি ঘুরে দাঁড়ালাম । তুহিন আমার মাথায় পতাকা বেঁধে দেয় ।
আমি অনুভব করি আমার বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম শব্দ হচ্ছে । পতাকার অনেক শক্তি । আর আমার খুব গর্ব লাগছিলো যে আমার ভালোবাসার মানুষ আমার মাথায় এটা বেঁধে দিয়েছে ।
ও ওর ব্যাগ থেকে ওর ক্যামেরা বের করে পট পট করে আমার কয়েকটা ছবি তুলল ।
আমি হাসলাম ।
তুহিন বলল, সোনামণি ! বেশী হেসো না । আশে পাশের মানুষ জন তোমাকে চেয়ে দেখছে ।
আমি একটু লজ্জাই পেলাম ।

দুজন মিলে শাহবাগের কেন্দ্রীয় গন সমাবেশ চত্বরের দিকে এগুলাম । কত মানুষ জেগে উঠেছে ।
কেউ মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে , কেওবা ড্রাম বাজাচ্ছে , কেও হাত মুঠি করে আকাশের দিকে মুখ তুলে বলছে, জয় বাংলা ।
আমার বুকটা ভরে যাচ্ছে ।
তুহিন আমকে বলল, দিপ্ত ! চল শ্লোগান দিই ।
আমি তুহিনের হাত ধরে শ্লোগান দিই ।

তুহিন চারপাশের ছবি তুলে । আমাকে বলে, দিপ্ত, এতদিন আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। আজ জেগেছি । দেখ আমরা ঠিক পারব !
আমি ওর হাতে হাত রাখি । বলি, আমার খুব ভালো লাগে তোমার মুখে এসব শুনতে । খুব গর্ব হয় তোমার মত কাওকে পেয়েছি যে দেশের জন্য ভাবে, আমার স্বপ্ন ছিল আমি যাকে ভালবাসব সে এমন হবে ।
তুমি আমার মাথার চুলে হাত বুলিয়ে বললে, তুমিও আমার মত । পাগল । বেখেয়ালি । হা হা হা ।
এই যে বাবারা !
পাশে তাকিয়ে দেখি এক মহিলা একটা বক্স নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ।
আমি বললাম, কি খালাম্মা । বলেন ?
ওই মহিলা আমাকে বলল, বাবা । আমি কিছু বিস্কিট নিয়ে এসেছিলাম । যদি তোমরা একটু দিয়ে দিতে সবাইকে ।
আমি আর তুহিন হেসে বললাম , অবশ্যই ।
তুহিন আমার কাছে তার ব্যাগ আর ক্যামেরা দেয় । ও বক্স খুলে বিস্কিট এর প্যাকেট ছুড়ে ছুড়ে দেয় ।
আমিও হাত বাড়াই ।
বক্স খুলে বিস্কিট দিই ।
ভদ্র মহিলা খুশিতে ছোট্ট বাচ্চার মত বলে, ওরা আমাদের সোনার ছেলে । আমার ছেলেটা বিদেশ থেকে আমাকে বলেছে আমি যেন প্রতিদিন ওদের এভাবে খাবার দিই ।
আমি আর তুহিন তার দিকে তাকালাম শ্রদ্ধায় ।

গণজাগরণ মঞ্চ থেকে আমরা এগুই জাতীয় জাদুঘরের সামনের পথ ধরে ভার্সিটির দিকে ।
রাস্তার পাশের স্ক্রিন এ তখন মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে ।
তুহিন আমাকে বলে , তাকিয়ে দেখ ।
আমি স্ক্রিন এর দিকে তাকাতেই ভয়ে আঁতকে উঠলাম। রক্তাক্ত লাশ , গলিত লাশ ভেশে যাচ্ছে নদীর পার ঘেঁষে ঘেঁষে ।
আমি তুহিন কে আঁকড়ে ধরে বলি, ওহ গড ! আমি আর দেখতে পারছি না । এখান থেকে চল ।
তুহিন আমায় বলে, এখন চিন্তা করো , কি জঘন্য রাজাকাররা ।
আমরা এগিয়ে চলি পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে দিয়ে ।
ওখানে ঢাকা ভার্সিটির নাট্যকলার ছাত্ররা নাটক করছে ।
আমি আর তুহিন দাড়াই ।
আমি তুহিন কে বলি, সারা বিশ্ব জেনে যাক । বাঙ্গালির ভেতর কি আগুন লুকিয়ে আছে ?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s