দুঃস্বপ্ন দেখি তোমাকে নিয়ে

ভয়ঙ্কর কাঁপুনিতে ঘুম ভাঙল আজ । ঈদানিং অনেক বেশি দুঃস্বপ্ন দেখি তোমাকে নিয়ে । সব ভালবাসার পরিনিতি কেন একি রকম হই ? পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ মনে হই বিরহ বেদনাই ভোগে । নাকি এটা শুধু আমর চিন্তা- চেতনা ? তা কেন হবে ? আমি তো কখনও এমন ছিলাম না !! সবাই আমাকে রুক্ষ মেজাজের মানুষ বলে চিনতো । সেই রুক্ষ ধুলা বালিতে ভালবাসার ফুল ফুটালে তুমি । শক্ত পাথরকে নরম কাদামাটি বানিয়ে দিলে । সেই কাদামাটিতে অনেক ফুলের গাছ লাগিয়েছি । শুধু ফুল ফোটানোর সামর্থ্য বোধই আমার নাই ।
ছোটবেলা থেকে একটু দেমাগি বলতে পারেন । এই জিনিস টা এমনিতে কারো মাঝে গড়ে ওঠে না । আব্বু আম্মু সব সমই যা চাইছি তাই দিয়েছে আমাকে । সম্পদশালীর একমাত্র সত্তান হলে যা হই । দেখতে আমি যে বেশ ভাল সেটা বেশ ভালভাবে টের পাই । অনেক মানুষ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে । মানুষের সাথে চলাফেরা খুব কমই বলতে পারেন । খুব মুডি । বন্ধু বান্ধব একদমই নাই । আব্বুর অনিচ্ছা শর্তে ও মেডিকেল এ ভর্তি হয়েছি । প্রথম তিন মাসে ও কারো সাথে ভাল সম্পর্ক হইনি । বাসা থেকে গিয়ে ক্লাস করা আবার বাসাই ফেরা । ক্যান্টিন এ বসে চা খাচ্ছি । সমস্ত টেবিল ২-৪ জন করে বসা । আমার টেবিল এ আমি একা । হটাত চেয়ার টানার শব্দ
>বসতে পাড়ি ?
অনিচ্ছা শর্তে ও বললাম , বসুন
>সরি , আসলে লাঞ্চ টাইম তো , কোথাও বসার জায়গা নাই
>ওকে , নো প্রব্লেম , বসুন
>আপনি করে বলছ কেন ? আমরা তো একি ক্লাস এর । অবশ্য তুমি আমাকে দেখনি হইত । ফাঁকিবাজ তো । ক্লাস খুব একটা করি না
মনে মনে ভাবলাম মানুষ এত কথা বলে ক্যামনে । আমি বললাম
>আসলে অভ্যাস নাই তো । কিছু মনে করবেন না ।
>মনে করব । আচ্ছা তোমার নাম তো মুহিদ ?
আমি একটু অবাকই হলাম । নাম জানল কিভাবে ?
>জি , আপনার ?
>উহহ , আবার আপনার !!! আমি ইভান
>আচ্ছা আজ যাই । আমার গাড়ি চলে আসছে ।
>ওকে । গুড বাই । তোমার ফোন নম্বর টা পেতে পাড়ি ? সামনে এক্সাম । কোন দরকার হলে জ্বালাবো । কোন প্রস্তুতিঈ নাই ।
অনিচ্ছা শর্তে ও নম্বর টা দিলাম । ওঠার আগে ওর চোখের দিকে তাকালাম । এত আদ্ভুত সুন্দর আর চঞ্চল চোখ আগে দেখিনি । নিজের মধ্যে কি হোল জানি না , বলে ফেললাম
>তুমি বাসাই যাবা না ?
>হুম । আমার মেস সামনে । হেঁটে ৩০ মিনিট লাগে ।
>কি বল !! চল তোমাই নামিয়ে দিব ।
>তুমি করে যখন বলছ তখন কি আর না বলতে পারি । হি হি হি
কি অদ্ভুত সুন্দর হাসি । এত সাধারন মানুষের মধ্যে কি যেন একটা মায়া লুকানো আছে । হইত সাধারন মানুষগুলো এমনই হই । কিছুক্ষণের পরিচয়ে মানুষটাকে আপন লাগতে লাগলো ।
রাতে হটাত ফোন এল ।
>আমি ইভান , চিনছ ?
>হুম বল । কি খবর ? এমনি ফোন দিলাম । তোমাকে ধন্যবাদ দেয়াটা ও একটা কারন ছিল বলতে পারও। ড্রপ করার জন্য ধন্যবাদ ।
এভাবে প্রাই ফোনে কথা হতো , যে ছেলে বাড়ি আর কলেজ ছাড়া কিছু চিনতো না সে এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্যান্টিন এ আড্ডা দেয় । জীবনের প্রথম কাউকে বন্ধু হিসাবে আবিস্কার করলাম । ওর খাতিরে আরও কয়েকজন জুটে গেল ।জিবনের আমূল পরিবর্তন আমার । নিজেকে এখন নিজেই চিনতে পারি না । প্রাই ওর মেসে আড্ডা হই সবাই মিলে। মেসে মানুষ কিভাবে থাকে অবাক লাগে আমার । তারপর ওরা আমার থেকে অনেক আনন্দে আছে । খুব হিংসা হই এদের দেখলে । টার্ম ফাইনাল এর আগে ওর মেসে এলাম নোট দিতে ওর অনুরধে । নোট গুলা ভালভাবে বুঝাই দিতে দিতে বেশ রাত হোল । ও বলল
> আজ রাতে থেকে যা । বাড়িতে ফোন করে দে
>আব্বু রাজি হবে না রে
>আর এ বল হল আছি , খুব ইম্পরট্যান্ট এক্সাম কাল
>মিথ্যা বলব!!
>বলবি , আমার জন্য বলতে পারবি না ?
>তুমি আমার কে ? যে তমার জন্য মিথ্যা বলতে হবে
>আমি তোমার ময়না পাখি । হা হা ছছা
>আচ্ছা বলতেছি ।
ফোন দিয়ে থাকার বেবস্থা হোল । ওর সাথে যে থাকতো সে আজ ফেরেনি । যে কারনে থাকা হল তার কিছু ই হল না । সারারাত এটাসেটা গল্প । একসময়ই ও বলল
>তোকে কেন থাকতে বলেছি জানিস ?
>কেন ?
>তোকে কিছু কথা বলব
>বল
>তোকে আমি খুব পছন্দ করি ।
আমি অবাক হয়ে ওর চোখের মায়াবী চাহনি দেখছি । কি দেখছে আমাকে এত ? আমার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উটছে কেন ? তাহলে আমি কি তার প্রতি দুর্বল হয়ে পরেছি ? হ্যাঁ হয়েছি । আমি ও যে মনে মনে এটাই ভাবি এত দিনে । আমি কি ওর হাত ধরবো । ওকে কিভাবে বলব আমার মনের কথা । ওকি ব্যাপারটাই সেরিওউস ,নাকি মজা করতেছে ?? এমন সব চিন্তা যখন ঘরপাক খাচ্ছে তক্ষনি আমার হাত ধরে চুমু দিলো ও । ওর ভারি নিঃশ্বাস আমি উপলব্ধি করছি হাতের শিহরণে । আমার চারিদিকে এত আলো কিভাবে এল । এটা কি ভ্রম ?? ও বলল
>আমি কি কিছু ভুল করলাম । যদি করি প্লিজ আমার সাথে কথা বলা বন্দ করিস না ।
তোর সাথে দেখা না হলে আমি ঘুমতে পারি না ।
আমি অনেকটা সাহস পেলাম । ওকে বুকে জড়িয়ে ধরার খুব ইচ্ছা শর্তেও আলতো করে কপালে একটা চুমো দিলাম । বললাম,
> আমি ও যে তোকে ছাড়া বাঁচবো না রে বোকা ।
আমার ইচ্ছাটা ও ই পূর্ণ করল । আমাকে জ্বরিয়ে হাউ মাউ করে কান্না শুরু !! আমি মনে হই ওই মুহূর্তের সব থেকে সুখী মানুষ ।
সকালে ঘুম থেকে পাস ফিরে ওকে পেলাম না । দরজা খুলে বাইরে দেখলাম , ওখানে ও নেই । শীতের কুয়াশা পরতে শুরু করেছে । দূরের কিছু ভালভাবে দেখা যাই না । এর মধ্যে এত ভরে ও গেল কোথাই । একটু ভয় ও কাজ করছে ভেতরে । দূর থেকে কেউ একজন আসছে মনে হই !! চাদরে গা ঢাকা । হুম ও ই তো । দৌড়ে কাছে গেলাম । ওর হাতে তাজা এক গাঁদি টকটকে গোলাপ !! কিছু বলার আগেই ও বলল
>উঠে গেছো । প্লান টা মাঠে মারা পড়লো । পাশে এক লোক ফুল বিক্রি করে । সকাল করে তাজা ফুল আনে । তোমার জন্য আনতে গেসিলাম। তুমি গোলাপ অনেক ভালোবাসো আমি সেটা জানি । তাই রাতেই প্লান করেছিলাম । সকালে তোমাকে উপহার দিবো । মুহূর্ত টা দেখার ইচ্ছা ছিল , তুমি কতটা অবাক হও ।
>আমি গোলাপ ভালোবাসি , তাই তো পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর গোলাপ সৃষ্টিকর্তা আমাকে পাইয়ে দিয়েছে ।
>সেটা কি , কোথাই ?
>এই যে আমার সামনে কিছু নকল গোলাপ নিয়ে দাড়িয়ে আছে
>হা হা হা …তুমি তো আসল নকল কিছু ই চিনো না । ধুতরো ফুল কে গোলাপ বানিয়ে দিলে ।
ফাইনাল ইয়ার শেষ হতে অল্প কিছু দিন বাকি । আব্বুর এক্তাই কথা আমাকে higher education এর জন্য বাইরে যেতে হবে । তার ছেলে ক্ষুদে ডাক্তার হয়ে দেশে পরে থাকবে এটা মানা যাই না । ওকে সব কিছু বললাম । ও নাকি এইরকম ই চাই ।
যাবার সমই আব্বু আমাকে উঠাই দিতে এল । এসে দেখি ও সেই পুরনো চরিত্রের মত একগাদি গোলাপ আর এক রাশি হাঁসি নিয়ে দাড়িয়ে আছে । আমি আব্বুকে বললাম। হাসিটা যে কৃত্রিম বুজতে পাড়ছি ।
চক্ষে হাজার ফোঁটা অশ্রু নিয়ে মুখে হাসি কি কখন ও মানাই । আমি বললাম ,
>কাঁদছ কেন ?
>কোথাই কাঁদছি রে গাধা !!!
>এই যে হলুদ দাঁত গুলা বের করে রেখেছি দেখিস না
>আমি গিয়ে ফোন দিবো । ফোন দয়া করে খোলা রেখো । তোমার ত ফোন শুধু নামে use হই ।
>যাবার সমই আর জ্ঞান দিতে হবে না । তুমি যাও দেড়ি হয়ে যাচ্ছে
ও ঠেলে ভিতরে পাঁঠিয়ে দিল আমাকে । যাবার পর অনেকদিন পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল । জানালে তুমি আর্মড ফরচে জইন করেছো । হটাত করে জগাজগ বন্ধ । ফন , ইমেইল , চিঠি । কন কিছু তে রেপ্ল্য নাই । আমাদের ড্রাইভার কে দিয়ে খোঁজ পাঠালাম সে ও কিছু বলতে পারল না । ৩ মাস কেটে গেছে । আমি দিন গুনি কবে এখানকার দিন সেস হই । শেষ ও হল একদিন । দেশে ফিরে ভেবেছিলাম তোমাকে হইত একগাদি টুকটুকে গোলাপ হাতে দাড়িয়ে থাকতে দেখব । পেলাম না ।পরদিন বের হলাম তোমার সন্ধানে । রাস্তাই মুনির এর সাথে দেখা । মুনির ওর আর আমার ক্লাস ফ্রেন্ড । কিছু বলার আগেই তোমার কথা জানতে পারলাম । ছুটে গেলাম তোমার ওখানে ।
সেই চঞ্চল চোখ থির হয়ে একদিকে চে আছে । সেই মধুর কণ্ঠ নিথর হয়ে আছে । আমাকে দেখে চোখ ফিরেয়ে নিলে । যেন অচেনা মানুষ আমি । Lower respiratory infections তোমাকে আমার কাছ থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে । এত ঘটনা আমাকে জানাও নি ফের যদি আমি সব ছেরে ছলে আসি । আমার এত বর ডিগ্রি ও তোমাকে ফেরানর ক্ষমতা রাখে না । যাবার আগে বলেছিলে তোমার বুকের মাটির উপর যেন একটা গোলাপের চারা আমি নিজ হাতে লাগিয়ে দি । পারিনি আমি । তোমার পাশে গিয়ে দাঁড়ালে হাতটা কেঁপে উঠে । মনে হই তমার সেই নিঃশ্বাসের শব্দও আমি অনুবভ করতে পারছি ।
তবে বেল্কুনিতে অনেকগুলা ফুল ফোটে রোজ । আমি ঘুম ভেঙ্গে যখন ভোর বেলা বেল্কিনিতে দাড়াই , মনে হই তুমি ফুল নিয়ে দাড়িয়ে আছ আমাকে অবাক করে দেবার জন্য ।

One thought on “দুঃস্বপ্ন দেখি তোমাকে নিয়ে

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s