ফাঁদ

আমার ফেসবুক আইডিটা খুলেছিলাম ২০১২ সালের প্রথম দিকে ।
শুরু থেকেই হাবিব নামের একজনের সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয় আমার ।
বন্ধুত্বটা এতই ভালো ছিল যে প্রতিদিন রাতে ওর সাথে চ্যাট না করলে আমার ভালো লাগত না ।
ঘুমও আসত না ।
বেশিরভাগ সময়ই আমাদের ভালো লাগা আর মন্দ লাগা নিয়ে আলাপ আলোচনা হতো ।
যৌনতা নিয়ে আলাপ আলোচনা আমাদের মাঝে তেমন একটা হতো না । এভাবে পুরো এক মাস কেটে গেল । তখনও তার সাথে আমার কোন ধরনের কথা হয় নি ফোনে । ভাবলাম এবার ওর সাথে কথা বলা দরকার ।
হাবিব আমাকে আগেই তার মুঠো ফোনের নম্বর দিতে চেয়েছিল । কিন্তু আমি আমার নম্বরটা দেব দেব করেও দিই নি । যাই হোক । অবশেষে নম্বর আদান প্রদান হল দুজনের মাঝে । কথা বলাও শুরু হল ।
আমি টের পেলাম । কথা বলতে বলতে ওর জন্য একটা ভালো লাগা কাজ করছে আমার বুকের ভেতর ।
আমি এতো দিনেও ওর সম্পর্কে বেশী কিছু জানি না ।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার বয়স কত?
ও বলল, তুমি শুনলে পালাবে ।
আমি হেসে বললাম, দেখ তুমি আমার বন্ধু । তোমার বয়স শুনে পালানর কি আছে ?
অনেক জোরাজুরি করার পর ও বলল, আমার বয়স ২৯ বছর । তারপর আমাদের কথা বার্তা ভালই চলছিল ।

এরপরের ঘটনা মার্চ এর শেষের দিকে ।
একদিন সে বলল, কাল আমার দাদুর মৃত্যুবার্ষিকী । বাসায় মিলাদ মাহফিল হবে । তুমি কি আসবে ?
খুব খুশি হব তুমি আসলে ।
আমি বললাম, ঠিক আছে । আমি আসব । তোমার বাসার ঠিকানা দাও ।
হাবিব বলল, রাস্তার মোড়ে এসে ফোন দিলেই হবে । আমি তোমাকে নিয়ে আসব ।
আমি ফোন রেখে রেডি হয়ে বেরুলাম ।
ঘণ্টা খানেকের ভেতর ওর বাসার কাছে গিয়েও পৌঁছলাম ।
ওকে ফোন দিলাম।
হাবিব ফোন ধরে বলল, ডিয়ার ! বাসায় অনেক গেস্ট । আমি খুব ঝামেলায় পরেছি । তাই আসতে পারছি না । তবে চিন্তা করো না । আমার এক বড় ভাইয়াকে পাঠাচ্ছি তোমাকে নিয়ে আসার জন্য । তুমি অপেক্ষা করো প্লিজ ।
আমি দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করছি । হাবিব এর পাঠানো বড় ভাই আমাকে এসে ফোন দিলেন ।
আমি তার বাইক এর কাছে এগিয়ে গেলাম ।
হাবিব এর বড় ভাই আমাকে দেখে মুচকি মুচকি হাসেন ।
আমি ভাবলাম হয়ত এমনিই ।
সত্যি কথা বলতে কি উনাকে দেখে আমার হালকা হাসি পাচ্ছিল । উনার বয়স হয়ত ৩৮ হবে । একে উনার মোটা ভুঁড়ি । তার উপর উনি একটা টাইট টি শার্ট পরে এসেছেন ।
মনে হচ্ছে টি শার্ট যে কোন মুহূর্তে ফেটে যেতে পারে ।
যাই হোক । উনার সাথে বাইকে উঠলাম ।
বাসায় পৌছার পর উনি নিজেই চাবি দিয়ে দরজা খুললেন ।
আমি ঘরের ভেতর ঢুকে দেখি ভেতরে কেও নাই ।
আমি উনাকে বললাম, হাবিব কই ?
উনি তখন হেসে বললেন, আমিই হাবিব ।
আমি তখন পুরাই চুপ মেরে গেলাম । আমার মুখ দিয়ে একটা কথাও বের হচ্ছে না ।
হাবিব আমার কাছে খুব সরি বলল ।
আমি ওকে বললাম, ওকে ঠিক আছে । কিন্তু আর মানুষ জন কই ?
তুমি না বললে মিলাদ হবে ?
হাবিব আবারও হাসে । বলে আমি মিথ্যা বলেছিলাম। আজ বাসায় কোন প্রোগ্রাম নাই ।

রাগে আমার সারা শরীর জ্বলতে লাগলো । ইচ্ছে করছিল এই মুহূর্তে বাসা থেকে বের হয়ে যাই ।
আমি চলে আসতে চাইলাম । কিন্তু হাবিব অনেক অনুনয় করে আমাকে আটকাল । ফ্রিজ থেকে আমার প্রিয় মেঙ্গো ফ্লেভারের আইসক্রিম আনল । বলল, প্লিজ । খাও । তোমার জন্য আনছি ।
আমি মেজাজ ঠাণ্ডা করে বসলাম। আইসক্রিম খেলাম ।

হাবিব আচমকা বলল, চল আমার বেডরুমে যাই ।
আমি বললাম , কেন ? এখানেইত ভালো আছি ।
হাবিব আমার চোখে চেয়ে বলল, প্লিজ । ট্রাস্ট মি । আই এম নট অ্যা ব্যাড বয় ।
আমি জানি না । আমিও কেমন ঘোরে পরে ওর পিছু পিছু ওর বেডরুমে গেলাম ।

কিন্তু বেডরুমে যাওয়ার পরই ওর চেহারা পাল্টাতে লাগলো । আমার পরনে লাল রঙের টি শার্ট ছিল ।
ও বলল, টি শার্ট খুল ।
আমি না করলাম । কিন্তু ও জোড় করে খুলতে চাইল ।
আমি বাধা দিলাম । তখন হাবিব আমাকে বলে, বাধা দিলে টি শার্ট ছিরে ফেলুম । তখন কিন্তু ছেঁড়া টি শার্ট পরে যাইতে হইব ।
আমি খুব ভয় পেলাম ।
আমি নিজেই আমার টি শার্ট খুলে চেয়ারে রাখলাম ।
হাবিব কেমন জানি পাগল হয়ে গেল । আমার বুকের বোঁটায় কামর দিতে লাগলো । চুমু দিতে লাগলো ।
সুরসুরি দিতে লাগলো জিব দিয়ে ।
আমি বুঝতে পারছিলাম, আমার ভালো লাগছে এসব । ধীরে ধীরে বাধা কমিয়ে দিচ্ছিলাম ।
হাবিব তার টি শার্ট আর প্যান্ট খুলে ফেলল ।
আমিও মোহের মত আমার প্যান্ট এর বেল্ট খুলতে লাগলাম ।
তখনই খেয়াল করলাম হাবিব তার মোবাইল এর ভিডিও ক্যামেরা অন করেছে ।
আমি ভয় পেলাম । ওকে বললাম, এটা কি করছ ?
হাবিব বলে, তোমায় আদরের চিহ্ন রাখার জন্য ।
আমি ভিডিও করতে মানা করলাম ।
ও আমার উপরে উঠে আমার ঠোঁট চুষতে লাগলো । আমার নিচের ঠোঁট সে এতো জোরে কামড়ে ধরল যে আমি বুঝতে পারছিলাম আমার ঠোঁটের ভেতর একটা নোনা স্বাদ ।

ও আবার ভিডিও করা শুরু করল ।
আমার আবার মানা করলাম ।
হাবিব বলল, ট্রাস্ট মি । আমি শুধু এটা আমার কাছেই রাখব ।
যখন তোমার কথা মনে হবে তখন শুধু দেখব ।
আমি বুঝতে পারছিলাম যে আমি ফাঁদে পা দিয়েছি ।
এমন সময় হাবিব এর দরজার কলিং বেল বেজে উঠলো ।
হাবিব আর আমি তাড়াতাড়ি কাপড় পরে নিলাম ।
ও দরজা খুলতে গেল । আমিও হাবিবের পিছু পিছু গেলাম ।
গিয়ে দেখলাম বিদ্যুৎ বিল দিতে লোক এসছিল ।
আমি এবার কোন কিছু না ভেবে চিন্তে দৌড়ে বের হয়ে গেলাম ।
গেইট এর কাছে দাঁড়িয়ে থাকা দারোয়ান আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ।
রাস্তায় এসেও মনে হল লোকজন আমার দিকে তাকাচ্ছে ।
আমি বুঝতে পারলাম আমার নিচের ঠোঁট টা অস্বাভাবিক লাল আর ভীষণ ফুলে আছে ।
মাথার ভেতর কিছু কাজ করছিল না ।
পাগল পাগল লাগছিলো নিজেকে । ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি তখন ৪ টা বাজে ।
সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এলোমেলো ভাবে ঘুরে বেড়ালাম সিলেট শহরে ।
কই কই ঘুরেছি মনে নেই নিজেরও ।
সন্ধ্যার অনেক পর বাসায় আসলাম।
নিজেকে খুব ছোটো মনে হচ্ছিল ।
বাথরুমে গিয়ে সাওয়ারের নীচে দাঁড়ালাম । মনে হচ্ছিল আমার পুরো শরীরটা অপবিত্র হয়ে গেছে ।
আয়নায় তাকিয়ে দেখি আমার নিচের ঠোঁট ফুলে ঢোল হয়ে আছে ।
ঠোঁট উলটে দেখি আমার ঠোঁটের ভেতরের দিকে দাঁত বসে গেছে ।
ভয়ে ভয়ে ছিলাম । কেউ যদি জিজ্ঞেস করে ঠোঁটের কথা ! কি বলব ?
ভাগ্য ভালো । কেও কিছু জিজ্ঞেস করল না ।
এরপর মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম । আর না জেনে শুনে প্রথম পরিচয়ে কারো বাসায় যাব না !
আমি যৌনতাকে খারাপ বলি না । কিন্তু যারা এটাকে খারাপ ভাবে নিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলতে চায় , বিপদে ফেলতে চায় । তাদেরকে আমি ঘৃণা করি ।
আশা করি বন্ধুরা আমার ঘটনা পরে কিছুটা হলেও সচেতন হবেন ।

One thought on “ফাঁদ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s