বিশ্বাস


আমি শুভ । থাকি সাতক্ষীরাতে । সমকামিতা নিয়ে আমার তেমন কোন ধারনাই ছিল না । এমনকি আমি যে সমকামী তা আমি নিজেই জানতাম না । ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে আমি ফেসবুকে নিয়মিত হই । তখনই প্রথম সমকামিতা আর সমকামীদের সম্পর্কে জানতে শুরু করি ।
তেমন একজনেরই প্রোফাইলে দেয়া ইনফরমেশান পরে আমি তার প্রতি কিছুটা দুর্বল হয়ে যাই । ওর নাম ছিল রানা । থাকে ঠাকুরগাঁওয়ে । আমি আমাদের দুজনের মাঝে দূরত্বের কথা না ভেবেই ওর প্রেমে পরে যাই ।
প্রথম যেদিন ওর সাথে চ্যাট করি সেদিনই তার ফোন নম্বর নিই । ওর সাথে কথা বলি । ওকে প্রপোজ করি ।
শুরু হয় দুজনের ভালোবাসার গল্প ।
এভাবে বেশ কিছুদিন গেল ।
প্রতিদিন অনেক কথা বলতাম দুজনে ।
নিজেকে তখন স্বপ্নের রাজকুমার মনে হত ।
মনে হতো আমি অনেক সুখি ।
আমার মত সুখি বোধয় খুব কম মানুষ আছে ।
কিন্তু আমরা দুজনই খুব অস্থির হয়ে গেলাম । দুজনকে দেখার জন্য । অবশেষে দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা রাজশাহীতে দেখা করব । তাহলে দুজনেরই কষ্ট কম হবে । যেহেতু আমি থাকি সাতক্ষীরায় আর ও থাকে ঠাকুরগাঁও ।
আমি ওকে পাগলের মত চাইতাম । ভালবাসতাম । আমি তখন ছাত্র । তাই হাতে খুব বেশী টাকা থাকত না । যে টাকা হাতখরচের জন্য পেতাম তার পুরোটা রানাকে ফোন দেয়ার জন্য খরচ করতাম । কখনও কখনও ফেক্সি করতাম ওর মোবাইলে ।
আমাকে শেষ পর্যন্ত বাবার পকেট মারতেও হয়েছিল ভালোবাসার জন্য । কি করব ! হাতে টাকা নেই । অথচ যেতে হবে রাজশাহী ।
যাই হোক । প্রস্তুতি নিলাম । বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। এই প্রথম দূরে কথাও যাচ্ছি । কিন্তু বাসায় মিথ্যে বললাম । বললাম আমি বন্ধুর বাসায় যাচ্ছি ।
২০১২ সালের ৯ই মে । আমি রাজশাহীতে পৌঁছলাম । অচেনা জায়গা । ওর অপেক্ষায় স্টেশনে বসে আছি । একটু ভয় ভয় লাগছিলো । কিন্তু ভালোবাসার মানুষ কে দেখতে পাব এটা ভেবে আনন্দ লাগছিল ।
আমি খুব ব্যকুল ছিলাম ওকে দেখার জন্য ।
একটু পর রানা ট্রেন থেকে নেমে আমায় ফোন দিল ।
আমি ওকে খুঁজতে লাগলাম । ওকে যখন পেলাম আমি অবাক হয়ে ওকে দেখছিলাম । আমি অনেক আবেগে কেঁদে ফেললাম ওকে জড়িয়ে ধরে ।
ও আমার দিকে তাকিয়ে রইল আমার কাণ্ড দেখে ।
আমরা দুজনে একটা হোটেলে রুম ভাড়া করলাম ।
রুমে ঢুকেই ওকে কিস করলাম ১০ মিনিট ধরে ।
ওর ঠোঁটে ঠোঁট রাখতেই আমার শরীর ঝিম ঝিম করে উঠলো ।
আমি ওর ঠোঁটের মাঝে সুখ খুঁজে পাই ।
আমার শরীর জেগে উঠে । টের পাই ভেতরে ভেতরে আমার পুরুষত্ব জেগে উঠছে ।
আমি ওর সারা শরীরে আদর দিতে যাই ।
এমন সময় ওর একটা কল আসল ।
রানা বলে, আমার এক এক আত্মীয় ফোন দিয়েছে । তাদের বাসায় যেতে বলছে ।
আমি বললাম, যাবে ? কখন যেতে বলছে ?
ও বলল, এখনই ।
আমি বললাম, একটু পরে যাও ।
ও বলল, না । এখনই যাব ।
আমি বললাম, ঠিক আছে । যাও । তবে তাড়াতাড়ি এস ।
ও চলে যাওয়ার পর আমি অপেক্ষার পালা শুরু ।
রাত ৯ তা বেজে গেল । কিন্তু ও আর আসে না ।
আমি ফোন দিলাম । দেখি ওর মোবাইলে কল যায় না । মোবাইল অফ । আমি টেনশনে ঘেমে গেলাম ।
অবশেষে রাত ১১ টায় ফিরল সে ।
সেই রাতে ওকে অনেক আদর করি আমি ।
ওর সারা গায়ে চুমু দিই । ও আমার পেনিসে আদর করে ।
হাত দিয়ে । ঠোঁট দিয়ে ।
আমি আরও পাগল হয়ে যাই ।
আমি ওকে বলি, আমি তোমার ভেতরে আমার ওটা ঢুকাতে চাই ।
ও রাজি হয় না ।
আমাকে বলে, আমার অনেক কষ্ট হয় নিতে ।
আমি বলি, প্লিজ একবার করতে দাও । আমি ব্যথা দিব না ।
ও রাজি হয় না কিছুতেই ।
আমি এবার আর ওকে জোর করি না ।
ওর নাকি অনেক কষ্ট হয় । তাই আর জোর করিনি ।
পরদিন আমরা চলে আসি যার যার বাড়িতে ।
এরপর আস্তে আস্তে ও বদলে যেতে থাকে । কেমন যেন দূরে সরে যায় ।
ফোন ধরে না আগের মত । মিস কলও দেয় না ।
আমার খুব কষ্ট হত ।
শেষে একদিন রানা আমাকে ফোন দিয়ে বলে, সরি ।
ও আমাকে বলে, আমি আরও ৩ জনকে লাভ করি । আমাকে ভুলে যাও ।
তুমি খুব ভালো । আমি তোমাকে ঠকাতে চাই না ।
আমি বলি, রানা প্লিজ । মাথা গরম করো না । আমার দোষটা কি তা একবার খুলে বল ?
ও বলে, তোমার কোন দোষ নেই ।
আমি ওকে ফেরানোর চেষ্টা করি । পারি না ।
এর দুইদিন পর আমি বিষ খাই ।
সবাই আমাকে নিয়ে হসপিটালে নিয়ে যায় । বাবা মা অনেক কান্নাকাটি করে ।
আমি নিরবাক চেয়ে থাকি । মনে হয় আমার যেন কি নেই । আমি নিঃস্ব । রিক্ত ।
কিছুই ভালো লাগে না । মনে হয় সব ছেড়ে কোথাও পালিয়ে যাই ।
আমিতো কারো কোন ক্ষতি করিনি । তাহলে আমার সাথে এমন কেন হল ।
একটু সুস্থ হলে ওকে ফোন দিই । সব কথা বলি । কিন্তু ওর কোন ফিলিংস নেই আমার জন্য ।
রানা আবারও বলল, আমি তোমাকে ভালবাসি না । আমি কাওকে চাই ।
আমি খুব কেঁদেছি ওর কথা শুনে । খুব ।
এরপর আস্তে আস্তে বদলে যেতে থাকলাম । সবার কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে শুরু করলাম ।

পরে একটা সময় জানতে পারি রাজশাহীতে আমাকে হোটেলে রেখে সে ঐদিন ২ টা ছেলের সাথে মিট আর সেক্স করতে গিয়েছিল । এটা জানার প্রতি ওর প্রতি আমার ঘেন্না হয় । নিজের প্রতি করুনা হয় যে ওর মত একটা ফালতু ছেলের জন্য আমি বিষ খেয়েছিলাম । ওর জন্য এতদূর ছুটে গিয়েছিলাম । আমার সত্যিকারের ভালোবাসা ওর পায়ে লুটিয়ে দিয়েছিলাম ।
এরপর থেকেই আমি একা একা থাকি ।
কিন্তু এখন আমি আর বোকা নই । আমি এখন অনেক স্মার্ট হয়ে গেছি ।
আমি এখন কারো জন্য কাদি না ।
অনেক ছেলেই আমার প্রেমে পরে অহরহ ।
এরপর অনেক সমকামী ভালোবাসার অফার পেয়েছি । কিন্তু আমি এখন কাওকে বিশ্বাস করি না । কাওকে না ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s