ফাল্গুনের এক সন্ধ্যা


ফাল্গুনের এক সন্ধ্যা । আমি আর সানি হাঁটছি নদীর পার ঘেঁষে ।
হাল্কা বাতাস বইছে । আমরা যে পথ ধরে হাঁটছি তার চার পাঁচ কদম সামনে একটা জারুল গাছ ।
সানি আর আমি ওখানটাতে বসলাম ।
আমি হাতে একটা বড় দূর্বা ঘাস নিয়ে ছিরি । সানি আমায় বলে, তুমি কি কোন কারণে অস্থির !
আমি মাথা নেড়ে না বলি ।
তাহলে এতো চুপ কেন ? সানি আমার বাম কাঁধে হাত রাখে ।
আমি সানির চোখে তাকিয়ে বলি , বাবা মা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে । তুমিত জানো আমি একমাত্র ছেলে ।
সানির বুক থেকে একটা শ্বাস বের হয় । ও কিছু বলে না ।
আমি নদীর বুকে চলা ছোটো ছোটো নৌকো দেখি । দূরের ঘরগুলোতে একটা দুটো আলোর রেখা ।
আমাদের জীবনটা এমন কেন ? আমি সানিকে বলি ।
জানি না । এর উত্তর আমার কাছেও নেই । সানি বলে।
আমি চোখে চোখ রাখি । কি অদ্ভুত একটা মায়া । ওর ভ্রুগুলো ঘন ।
আমার ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে ওখানে হাত বুলিয়ে বলি , তুমি থাকতে পারবে আমায় ছেড়ে ? তুমি কারো সাথে ভাগ করে নিতে পারবে আমাকে ?
সানির চোখ ছলছল করে উঠে । হাল্কা জল । আমায় বলে, তুমি কি পারবে কাওকে বুকে নিয়ে ঘুমাতে ?
আমি নিশ্চুপ ।
আমি দাঁত দিয়ে আমার ঠোঁট কামড়ে ধরি । বেশি ইমোশনাল হয়ে গেলে আমি এমনটা করি ।
সানি আমায় বলে, চল । রাত হয়ে যাচ্ছে । হোটেলে ফিরি ।
আমি বললাম, আরেক টু বসি প্লিজ ।

সানি আমার কোলে মাথা রেখে তার পা ছড়িয়ে দেয় ।
আমি বলি, এই যে হাবলু । এই যে এখানে শুলে পরে কিন্তু তোমার শরীর চুলকাবে ।
সানি বলে, তুমি তুমি আদর দিয়ে দিও । তাতেই হবে ।
আমি ওর মাথায় হাত বুলাই । ওর চুলের গন্ধ নিই । ওর ঠোঁটে আঙ্গুল ছুঁয়ে বলি, তুমি এমন কেন ? এতো আদুরে কেন ?
সানি বলে, আমি তোমার পাগল । তাই !
আমি সানির চিবুকে হাত বুলিয়ে বলি, তোমার আমার প্রথম দেখার সময় তোমাকে আমার ভীষণ অহংকারি মনে হয়েছিল । অথচ সেই ছেলেটাকেই কিভাবে মনের ঘরে বসিয়ে ভালবাসলাম । সব স্বপ্নের মত লাগে ।
সানি হা হা করে হাসে । বলে, তুমিও কি কম যাও নাকি ? ফেসবুকে ১০ বার নক করলে একবার আন্সার দিতে ।
আমি মুচকি হাসি । বলি, অথচ একটা সময় আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করা শুরু করি ফেসবুকে ।
তোমার স্ট্যাটাস, কমেন্ট, লাইক সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতাম ।
সানি বলে, তাই বুঝি ?
আমি বলি, জি । খুব রাগ হতো যখন দেখতাম তুমি কোন সুন্দর ছেলের পিকচারে কমেন্ট করতে । মনে হত আমার বুকটা জ্বলে যাচ্ছে ।
সানি হাসে । বলে, আমিও বুঝতে পারতাম তুমি দিন দিন আমার প্রতি দুর্বল হচ্ছ । কিন্তু সিউর ছিলাম না ।
আমি বললাম, কবে শিওর হলে ।
সানি এবার শোয়া থেকে উঠে বসে । আমার বুকে হাত ছুঁয়ে বলে, যেদিন রাগ করে তুমি তোমার আইডি ডিএকটিভেট করেছিলে ।
আমি বলি, হুম । সেদিনই তুমি আমাকে ফোন করে সরি বলেছিলে । হুট করে সেদিনই আমরা দেখা করি । অবশ্য প্রপোজটা কিন্তু তুমিই করেছিলে ।
সানি আমার দিকে তাকিয়ে বলে, এই খোটাটা সারা জীবন দিয়ে গেলে আমায় । দাও দাও । কি আর করব ? আসলে তোমার মত একটা খরগোশকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছিল না । তাই ।
আমি এবার সানির হাত আমার হাতে রাখি । বলি, কোনদিন ছেড়ে যেও না। আমাকে তোমার আদর দিয়ে এভাবে আগলে রেখ ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s