নীল কষ্ট আর একা একজন


গতকাল রাত ২ টা ২৫ মিনিট ।
আমার সেলফোনে একটা ফোন । নম্বর দেখে বুঝলাম এটা দেশের বাইরের কল ।
রিসিভ করলাম । ওপাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠলো, ভাইয়া । আমি হোসাইন । আপনার পেইজের গল্প পড়ে এতো ভালো লাগে যে বলতে পারব না । আজ আমি আমার গল্প বলতে চাই ।
আমি বললাম, ঠিক আছে । বলুন ।
হোসাইন বলতে শুরু করল
****************************************************
আমি আবুধাবিতে থাকি বেশ কয়েক বছর হল । আমিও একজন কে ভালবাসতাম প্রান দিয়ে ।
আমি এখন যে জায়গাটাতে বসে আছি সেই জায়গার নাম করনেস । এটা অনেকটা ঢাকার রমনা পার্কের মত একটা এলাকা যেখানে সন্ধ্যার পর বেশিরভাগ সমকামীরা ভিড় করে ।
জায়গাটা অনেক সুন্দর ।
সাগরকে এখানে নদীর মত করে তৈরি করা হয়েছে ।
নদীর পানি স্বচ্ছ নীল ।
দুপাশে পায়ে চলা পথ । ফুলের বাগান । মাঝে মাঝে বসার জন্য বেঞ্চ আছে ।
এখানকার পরিবেশটা খুব মায়াবি । কখনো ল্যাম্প পোস্টের আলো । কখনও রাতের রহস্যময় আঁধার ।
কেউ কেউ এখানে জগিং করতে আসে । কেউ আসে হাওয়া খেতে ।
এখানে যারা আসে তাদের মাঝে শতকরা ৬০ ভাগ হল পাঠান আর পাকিস্তানি ।
ওরা একটু নোংরা আর একটু আলাদা । তাই এখানকার অধিবাসীরা তাদেরকে একটু বাঁকা চোখে দেখে ।
আমার ঘটনার সাথে ওদের কথাও আসবে । তাই ওদের ব্যপারে একটু বললাম ।

তখন ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল।
আমি এখন ঠিক যেখানটায় বসে আছি । করনেস পার্কে । একটা বেঞ্চিতে ।
ঠিক সেখানেই ওর সাথে আমার প্রথম দেখা ।
আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম । সপ্তাহের একটা দিন আমি এখানে আসি ।
বেশিরভাগ সময়ই সেটা মঙ্গলবার রাতের দিকে হয়ে থাকে । কারণ বুধবার আমার অফ ডে । সেদিনও মঙ্গলবার রাত ছিল ।
কাজ থেকে ফিরে একটু ঘুরি ফিরি আমি । ভালো লাগে ।
সেদিন আমার পরনে ছিল নীল রঙের গোল গলা টি শার্ট । পায়ে কেডস । গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি ।
যাই হোক। আমি হেঁটে যাচ্ছি । আচমকা ওকে বসে থাকতে দেখলাম বেঞ্চে ।
আই ফোনে গেমস খেলছিল সে । ফোনের আলো ওর মুখে চোখে পড়ছিল ।
আমি এক মুহূর্তের জন্য মুগ্ধ হয়ে তাকালাম । কেমন একটা মায়া ওর সমস্ত মুখ জুড়ে ।
মোহের মত ওর পাশের বেঞ্চিতে গিয়ে বসলাম ।
ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে আই ফোনে গেমস খেলছি ।
একটু পরেই ও আমাকে লক্ষ্য করে ইংরেজিতে বলল, আমি কি দেখতে ভূতের মত ! একটু কথা বলা যায় না ?
আমি হেসে ওর দিকে তাকালাম । বললাম, হাই । কেমন আছ ? কোথায় থাকো ?
ও বলল, আমি ডেনি । থাকি কাছেই । জব করি । আমি জার্মান ।
আমি বললাম, আমি বাংলাদেশী । এখানে জব করি । একাই থাকি ।
ওর ফ্যামিলি সম্পর্কে জানতে চাইলাম ।
ডেনি বলল, আমার বাবা মা ডিভোর্সি । মা জার্মান আর বাবা এখানকার । বড় হয়েছি মায়ের কাছেই ।
আমার একটু খারাপ লাগছিলো ওর কথা শুনে । সেই সাথে ওর প্রতি একটা মায়া জন্মে গেল ।
প্রথম পরিচয়ে ওর সরল স্বীকারোক্তি শুনে মনে হচ্ছিল ও খুব ভালো মনের মানুষ হবে ।

ডেনি হথাত করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কি জানো ? এখানে যারা আছে তুমি তার মাঝে সবচাইতে আলাদা । সবচাইতে সুন্দর !
প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে । তাই আমিও একটু লজ্জা পেয়ে হাসলাম ।
বললাম, তুমি একটু বাড়িয়েই বলছ ।
ও বলল, তুমি কি একটু এগিয়ে এসে বসবে ?
আমি একটু এগিয়ে ওর কাছাকাছি বেঞ্চে বসলাম । কিছু বুঝে উঠার আগেই ও আমার ঠোঁটে চুমু খেল ।
আমি কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম ।
আমি বললাম, চল । আমরা হাঁটি ।
ও আর আমি পাশাপাশি হাঁটছি । আমি আমার হাত দুটো প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে রেখেছি ।
ডেনি আমার পাশে হাঁটছে । একটু পর পর আমার হাত ধরার চেষ্টা করছে ।
একসময় ও আমার হাত ধরে হাঁটতে লাগলো । আমার মনে হচ্ছিল আমি ওকে অনেকদিন ধরে চিনি ।

করনেস পার্কের একটা জায়গা আছে ধানমণ্ডির রবিন্দ্র সরোবরের মত ।
ওখানে নিয়ে ও আমাকে চুমু খেল আবার ।
আমি খুব অবাক হচ্ছিলাম আবার ভয়ও পাচ্ছিলাম ।
কেননা আবু ধাবিতে সমকামিতা নিষেধ ।
ঘড়ির দিকে তাকালাম । দেখি রাত ২ টা বাজে ।
ওকে বললাম । ডেনি চল যাই ।
ও বলল, চল । তোমার সেল নম্বর দাও ।
আমি দিলাম ।
ও বলল, তুমি কিভাবে যাবে ।
আমি বললাম, একটা ট্যাক্সি নিয়ে চলে যাব । সেদিন আমি গাড়ি নিয়ে যাইনি । কেননা ওখানে গাড়ি পারকিং করতে ৪০০ দিহরাম দিতে হয় ।
ডেনি বলল, চল । আমি তোমাকে লিফট দিই ।
আমি বললাম, না । লাগবে না ।
সেদিনের মত বিদায় নিয়ে চলে আসলাম ।

তার পরদিনের কথা । আমি তখন ডিউটিতে । সেদিন অনেক বেশি কাস্টমার ছিল । তাই বেশি বিজি ছিলাম ।
আমার আর ডেনির মাঝে কথা ছিল যার টান বেশি সে আগে কল দিবে ।
সারাদিন কাজের মাঝে আমার মনে ছিল না ওকে কল দেয়ার কথা ।
সন্ধ্যা ৬ টায় সেলফোন চেক করলাম । কোন মিসকল কিংবা মেসেজ নেই ।
এভাবে রাত ১০ টা বাজল ।
আমি জব থেকে বের হয়ে ওকে মেসেজ লিখলাম, হাই ।
ও সাথে সাথে রিপ্লাই দিল ,কেমন আছ ? আজ রাতে মিট করতে পারবে ?
আমি বললাম, না । আমি করনেস পার্কে সপ্তাহে একদিন যাই ।
ও বলল, ওকে ।

সেদিন একটু পরেই আমার মামা আমাকে ফোন দেয় । আমাকে বলে, তুই কি একটু আসবি আমার বাসায় ? আমার কম্পিউটারটা কাজ করছে না ।
আমি বললাম, ওকে মামা , আমি আসছি ।
জব থেকে বাসায় গিয়েই কাপড় চেঞ্জ করে টিশার্ট জিন্স পরলাম । পায়ে স্যান্ডেল ।
মামার বাসায় কাজ সেরে বেরুলাম । মামার বাসাটা করনেস পার্কের কাছাকাছি ছিল । তাই ভাবলাম ওকে কল দিই । ও যদি আসে ? তাহলে দেখা করব ।
তখন ১১ টা ৩০ বাজে ।
ওকে ফোন দিলাম ।
ও বলল, ও আসবে । আমি যেন অপেক্ষা করি ।
সেদিন আবহাওয়া ভালো ছিল না । ঝড় বাতাস আর গুরি গুরি বৃষ্টি ।
তার মাঝেই আমি দাঁড়িয়ে আছি । ওর অপেক্ষায় । করনেস পার্কে ।
সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই আমার এক বন্ধুর বয় ফ্রেন্ড জন এর সাথে দেখা ।
আমি জন এর সাথে কথা বলতে লাগলাম ।
জন এর কাছে আমার সেল নম্বর ছিল না । তাই আমার কাছ থেকে নম্বর নিল ।
তখনই দেখলাম ডেনি দৌড়ুতে দৌড়ুতে আমার দিকে আসছে ।
ওর পরনে সাদা চেক শার্ট আর জিন্স ।
ওকে খুব হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছিল । কোঁকড়ানো চুল । জিম করা বডি । সব মিলিয়ে আমার মনের রাজকুমারের মত ।
ও আসলে জনের সাথে ওর পরিচয় করিয়ে দিলাম ।
জন বিদায় নিয়ে চলে গেল ।
বৃষ্টির বেগ বাড়ছিল ।
আমরা দুজন হাতে হাত রেখে দৌড়ে পাশের আন্ডার পাসে গেলাম ।
সেখানে গিয়ে দেখলাম আমাদের মত অনেক সমকামী জুটি দাঁড়িয়ে আছে ওখানে ।
আমরা দুজন হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছি ।
অনেকেই আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল ।
ডেনি এবার আমাকে জিজ্ঞেস করল , তুমি কি আজ আমায় মিস করেছ ?
আমি বললাম, হ্যাঁ ।
ডেনি আমার ডান হাত আঁকড়ে ধরে বলল, আমিও । খুব মিস করেছি তোমায় ।
আচমকা একটা পাঠান ছেলে আমাদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ওর দিকে তাকিয়ে হোঁচট খায় ।
আমি আর ও হা হা করে হেসে দিই ।
তবে আমি একটু কষ্ট পাই । কারণ সেও ওই ছেলের দিকে তাকাচ্ছিল ।
ও আমার কষ্ট বুঝতে পারল । ও বলল, সরি । ভবিষ্যতে এরকম আর হবে না ।
যদি হয় । তুমি যা চাইবে আমি তাই দেব ।
আমি বললাম, ওকে । আমার উইশ তুলে রাখলাম ভবিষ্যতের জন্য ।
ও হাসল । একটু পর ও আমাকে টান মেরে বৃষ্টির মাঝে দৌড়ে গেল ।
আন্ডারপাসের দেয়ালে ঠেসে ধরল আমাকে । আমার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে আদর দিতে লাগল ।
আমার মনে হচ্ছিল বাইরের বৃষ্টির সাথে সাথে আমার শরীর জুড়েও বৃষ্টি হচ্ছে ।
আমার ভেতরের পুরুষ জেগে উথছিল ।
ও কেমন মাতাল হয়ে গেল ।
আমার প্যান্টের উপর দিয়ে হাত বুলায় ।
আমারও সাহস বেড়ে যায় ।
আমিও তার পুরুসত্তের স্বাদ নিই হাত দিয়ে । সেদিনের মত চলে আসি আমি ।

রাতে ও আমায় ফোন দিয়ে বলে, হোসাইন । আজকের রাতটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত ছিল ।
আমি বললাম, আমারও ।
সেদিন রাতেই আমার জ্বর আসে । শরীর এতই খারাপ ছিল যে পরদিন চার ঘণ্টার বেশি ডিউটি করতে পারি নি । বাসায় ফিরে আসি ।
বিছানায় জ্বরের ঘোরে পড়ে থাকি ।
সন্ধ্যার দিকে ওর ফোন পাই ।
আমার জ্বর হয়েছে শুনে সে অস্থির হয়ে যায় ।
ডেনি আমাকে বলে, আমি আসব । তোমার বাসায় ।
আমি আসতে নিসেধ করলাম । ও আমাকে বলে, তোমার কি খেতে ইচ্ছে করে । প্লিজ বল । আমি নিয়ে আসি ।
আমি বললাম, না । এস না ।
ও অবশেষে রাজি হয় ।
এর পরদিনও আমি অসুস্থ থাকি ।
তারপরেও আমি ডিউটিতে গেলাম ।
সন্ধ্যার পর ও বলল, তোমার সাথে দেখা করব ।
সেদিন আবহাওয়া এতো খারাপ ছিল না ।
আমি তাই গেলাম ।
সেখানে গিয়ে আধঘণ্টার মত দাঁড়িয়ে আছি । ওর অপেক্ষায় ।
ও আসল । কাচুমুচু করে আমার কাছে ক্ষমা চাইল ।
আমি বললাম, ওকে ।
ও আমাকে চুমু দিল ।
আমার মনে হচ্ছিল আমার শরীরে এক ফোঁটা জ্বর নেই ।
আমি অভিমান করে বললাম, এতো দেরি করলে কেন ?
ও বলল, প্লিজ । রাগ করো না । বাজি ধরেছিলাম ফ্রেন্ড দের সাথে । মদ খাওয়া নিয়ে । শেষে দেরি হয়ে গেল ।
আমি বললাম, আর কোনদিন এমন করবে না । বুঝলে ? আমি মরে যেতে পারব কিন্তু অপেক্ষা করতে পারব না । অপেক্ষা অনেক কষ্টের ।

সেদিন বাসায় চলে আসলাম ।
ও রাতে ফোন দিয়ে বলল, আমরা নেক্সট কোন রেস্টুরেন্ট এ মিট করব ।
আমি বললাম, ঠিক আছে ।
এর মাঝে ১০ দিন হয়ে গেছে । মাঝে মাঝে হালকা ঝগড়াও হচ্ছে ।
এমনই একদিন ওকে কল দিই ২ বার । ও ধরে না । আমার রাগ উঠে যায় ।
আমিও ও কোন কল ধরি না । ফেসবুকে রেসপন্স করি না ।
এবার ও আমায় মেসেজ দিল, তুমি যদি এমন করে আমায় কষ্ট দাও তাহলে আর কখনও আমায় পাবে না ।
ও বলল, আগামিকাল সকালে আমি গাড়ি নিয়ে তোমার ফ্ল্যাট এর সামনে আসব । ঠিক ৮ টায় । তুমি থাকবে ।
আমি বললাম, ঠিক আছে ।
পরদিন সকালে সে আসল । তার গাড়ি নিয়ে ।
আমার পরনে সাদা টি শার্ট । সাদা শর্টস আর সাদা কেডস ।
অবাক হয়ে দেখলাম । ওর পরনের সব সাদা ।
এতো মিল দুজনের মাঝে !
ও গাড়ির দরজা খুলে হাত বাড়িয়ে দিল আমার দিকে । যেটা সে সবসময়ই করে ।
আমার ভীষণ ভালো লাগছিল ।
দুজন মিলে আবুধাবি মলে গেলাম । এখানকার কফি শপের কফি পৃথিবী বিখ্যাত ।
দুজন মিলে সেখানে বসলাম ।
ও বলল, কি খাবে ।
আমি বললাম, মিল্ক কফি ।
কিন্তু ও বলল, নাহ । আজ আমার পছন্দে খাবে ।
এই বলে সে আমেরিকান ব্ল্যাক কফি অর্ডার করল ।
আমি বিল দিতে চাইলাম । ও বাধা দিল ।
কফি আনার ফাঁকে দুজন গল্প করছি । আই প্যাড এ খবর দেখি ।
ও ওর দেশের কথা বলে ।
আমিও আমার দেশের কথা বলি ।
ও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনে ।
হথাত ওর একটা ফোন আসে ।
ওর পরিবারের কেউ ওকে ফোনটা দেয় ।
আমি তখন শুনতে পেলাম ওকে ফোনে কেউ আবদুল্লাহ নামে ডাকছে ।
আমি রাগ করে ওকে বললাম, তুমি ডেনি নাকি আবদুল্লাহ ।
ও বলল, সরি । আসলে মিথ্যে বলার জন্য ।
আমি বললাম, আমার সাথে কখনও মিথ্যে বলবে না ।
ও বলল , আচ্ছা । এখন কফি খাও ।

ও অনেক দুষ্টুমি করত । যেগুলো আমার ভীষণ ভালো লাগত ।
সেদিন কফি খাবার ফাঁকে সে একটা পেপার নিল সামনের টেবিল থেকে ।
পড়ার ভান করে আমায় ডাকল ।
আমি ওর কাছে যেতেই ওর পত্রিকাটা আমাদের মুখের সামনে নিয়ে আমাকে চুমু খেতে লাগল ।
আমাদের সামনের টেবিলে অনেক মানুষ । আর সে এসব দুষ্টুমি করছে ।
আমার ভালো লাগে ওর দুষ্টুমি ।
এবার ও ওর ফেমিলির কথা বলে ।
ও ছোটবেলা থেকেই মার আদর পায় নি ।
ওর মা ওকে কখনও বুকের দুধ খাওয়ায় নি ।
মা ব্যস্ত থাকে তার লাভার নিয়ে ।
বলে, আমি জন্ম থেকেই একা । খুব একা ।
আমার খুব মন খারাপ হয়ে যায় ডেনির কথা শুনে ।
আমি বললাম, আমি আছি তোমার পাশে ।

কফি শেষ করে দুজন লিফট দিয়ে নামার সময় ও আবার আমার ঠোঁটে চুমু দিল ।
আমরা দুজন এতো চুমু খেতাম যার কোন হিসেব ছিল না ।
ও বলত আমার হাসি নাকি অনেক সুন্দর ।
ওর সাথে মাঝে মাঝে দেখা না করলে ও ভীষণ রাগ করত ।
ও বলত, তুমি কি আমায় ইগনোর করছ ?
আমি হাসতাম । ওকে বলতাম, পৃথিবীতে তোমার চাইতে বেশি কাওকে মিস করি নি ।
সেদিনই ফোন দিয়ে ও আমাকে সেলিন ডিওন এর একটা গান second chances আমাকে ডেডিকেট করে ।
গানটার বাংলা কথা এমন ছিল আমি তোমার পৃথিবী সম্পর্কে জানতে চাই ।
ভালো লাগায় আমার মন ভরে যায় । মনে হয় আমার মত সুখি আর কেউ নাই ।

একদিন ফেসবুকে দেখি ও একটা এরাবিক ফ্রেন্ড এর পিক এ কমেন্ট দিসসে ।
আমি এরাবিক বুঝতাম না । তাই কমেন্ট গুলো কপি পেস্ট করে গুগলে ট্রান্সলেট করে দেখলাম।
ও ওই এরাবিক ছেলেকে লিখেছে , তুমি খুব সেক্সি ।
আমি এটা দেখে খুব রাগ করলাম ।
ওকে মেসেজ পাঠালাম ।
ও এবারো আমায় বলল, প্লিজ রাগ করো না ।
আমি এমন করে মিন করি নি ।
ও সাথে সাথে ইউটিউব থেকে একটা গান আমাকে পাঠাল আর বলল, আই লাভ ইউ ।
এর দুদিন পর আমি ওর সাথে গাড়িতে করে ঘুরতে যাই ।
ও আমাকে গাড়িতে বসে চুমু খায় ।

গাড়িটা একটু নিরজন জায়গায় দাড় করায় ।
আসেপাসে মানুসজন খুব কম ছিল ।
কেমন একটা অদ্ভুত নিরবতা চারপাশ জুড়ে ।
আমি মোহের মত ওর দিকে তাকিয়ে থাকি ।
ও এবার চুমু খায় ।
আমি ভেতরে ভেতরে চরম উত্তেজিত হয়ে যাই ।
ও বুঝতে পারে । আমার প্যান্ট এর সামনের ডিক ফুলে উঠছিল ।
আমি খেয়াল করলাম, ওরও একই অবস্থা ।
যৌনতা খুব অদ্ভুত খেলা । আর যাকে ভালো লাগে তাকে সম্পূর্ণ পেতে কে না চায় ?
আমিও তার বেতিক্রম নই ।
আমি যে নিজের উপর ক্রমশ নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছি টা বুঝতে পারছিলাম ।
ও আমার প্যান্ট এর চেইন খুলে আমার আন্ডার ওয়্যার খুলে ফেলে ।
আমিও হাত চালাই । ওকে নগ্ন করি প্যান্ট খুলে ।
দুজনে তখন সমাজ সংসার ভুলে গেছি ।
মনে নেই যে দুজনেই রাস্তার পাশে পার্ক করা গাড়িতে বসে এসব করছি ।
ও আমার পুরুষাঙ্গ মুখে নেয় । আদরে আদরে ভরিয়ে দেয় ।
এতটা সুখ আমি কখনও পাই নি ।
ওর ঠোঁটের স্পর্শে আমার পৌরুষ পূর্ণতা পাচ্ছিল ।
আমিও কম যাই না । ওর উত্তপ্ত পুরুসাঙ্গের শরীরে আদর দিই ।
ওর শরীর কেপে উঠে ।
একটু পরেই দুজনে ভালোলাগার শেষ বিন্দু টুকু বিসর্জন দিই দুজনের মুখে ।
সেদিনের মত আমরা বাসায় ফিরে আসি ।

পাঁচ ছয় দিন চলে যায় । এর মাঝে একটা ঘটনা ঘটে । আমার শপে আমার এক কলিগ ছিল মিশরিও । সে দেখতে অনেক ফরসা ছিল ।
আমার তাকে ভালো লাগত প্রথম দিকে ।
কিন্তু আমি কাজের জায়গায় এসব করি না ।
তাই ওকে কিছু বলি নি ।
তবে সেদিন ফ্যান করে ওর সাথে অনেক আজে বাজে কথা বলি । কৌতুক করি ।
মিসরিও ছেলেটাও মজা পায় । আমাকে বলে চল দুজনে মিলে কোথাও রাত কাটাই ।
আমিও হাসি এসব কথা শুনে ।
সেদিনের মত বাসায় চলে আসি ।
রাতে ওকে সব ঘটনা বলতেই ও খুব রেগে যায় ।
পরদিন ওর রাগ ভাঙ্গানোর জন্য দেখা করি ।
আমরা দুজন রাস্তার দুপাশে হাঁটছি ।
কিন্তু চুপচাপ ।
ও রাগ করে কোন কথা বলছে না ।
আচমকা সে আমাকে অবাক করে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, আই লাভ ইউ ।

আমি অবাক । এভাবে কেউ আমাকে প্রপোজ করবে টা আমি আশা করি নি ।
মনে হচ্ছিল আমার পৃথিবীটা উড়ছে । সুখের হাওয়ায় ।
আমি বললাম, থ্যাংকস ।
ও বলল, তোমার যেদিন মনে হবে আমি তোমার সেদিন আমায় ভালবাসি বলবে ।
এভাবে ভালই যাচ্ছিল দিন ।
কয়েকদিন পর ঠিক একই জায়গায় আমি তাকে ভালোবাসি বললাম । ও আমাকে জড়িয়ে ধরল ।
আদরে আদরে ভরিয়ে দিল আমার মুখ ।
আমরা দুজন প্ল্যান করি আমরা দুবাই যাব । সেখানে একটা হোটেল ভাড়া নিয়ে আমাদের ফুলসজ্জা হবে ।
ধীরে ধীরে ওর কলের সংখ্যা কমতে থাকে ।
আমি বুঝতে পারি ও বদলে যাচ্ছে ।
এমনকি আমার সামনে এস এম এস আসলেও ও হাইড করে ফেলে ।
আমি কিছু বলি না ।
সেইরকম একদিনের কথা । ডেনি আমাকে বলে, আজ তোমাকে একটা কথা বলব ।
আমি বললাম, বল ।
ও বলে , হোসাইন । আমি বাই সেক্সুয়াল । আমি একটা মেয়েকে লাভ করি । ওর নাম ঈশরা । এখানেই থাকে । আমি ওকে বিয়ে করব ।
এই কথা শুনে কেঁদে ফেললাম ।ওকে বললাম, তুমি কিভাবে এক সাথে দুজনকে ভালবাস ?
ও আমার চোখের পানিতে কিস করে । আমাকে আদর করে ।
হাত জোড় করে আমার মাছে ক্ষমা চায় ।
আমি এবার একটু নরম হলাম । ভেবে দেখলাম আমিও আমার বাবা মার একমাত্র ছেলে ।
একদিন হয়ত আমিও বিয়ে করব । তাই ওকে ক্ষমা করলাম ।
ওকে বুকে জড়িয়ে নিলাম ।

এর মাঝে একদিন ও আমার শপে যায় । যেখানে আমি কাজ করি ।
আমার শপের কাঁচের মাঝ দিয়ে শপের ভেতরের সব দেখা যায় ।
ও দেখতে পায় আমি আমার কলিগদের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে আড্ডা দিচ্ছি । এতে সে রেগে যায় ।
আমাকে কিছু না জানিয়ে সে চলে যায় ।
সেদিন জব শেষে ওর সাথে দেখা করি ।
ও আমাকে বলল, জবে কি করো তুমি ? খালি ঢলাঢলি করো ।
আমি ওর ভুল ভাঙ্গালাম ।
ক্ষমা চাইলাম ।
দুজন মিলে রাতের খাবার খেতে গেলাম । কে এফ সি তে ।
সেখানে গিয়ে ঘটলো আরেক কাহিনী ।
খাবার আনার জন্য আমি কাউনটার যেতেই সেখানে আমার একটা কাস্টমারের সাথে দেখা ।
সে দেখতে অনেক হ্যান্ড সাম ।
আমাকে দেখে হাই হ্যালো করছিল ।
আমিও উত্তর দিছিলাম ।
এটা দেখে ডেনি অনেক রেগে যায় ।
সে বাইরে চলে যায় ।
খাবার নিয়ে এসে আমি দেখি সে বাইরে রাগ করে দাঁড়িয়ে আছে ।
আমি ওকে হাত ধরে নিয়ে আসি ।
আমি একটা বার্গার আর কফি নিলাম ।
আর ও নিল চকোলেট আর ভেনিলা ফ্লেভারের আইসক্রিম ।
আমি দুষ্টুমি করে ওর আইসক্রিমে ভাগ বসালাম ।
ও হাসল ।
একটু পর খেয়াল করলাম ও আমার মুখে খাওয়া চামচ দিয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে ।
ও বুঝতে পারল আমি তাকিয়ে দেখছি ।
ও একটু লজ্জা পেল ।
আমি হাসতে লাগলাম । ওর কাণ্ড দেখে । সেদিন আমার মনে হচ্ছিল ভালোবাসা অনেক মায়াময় ।

এর ঠিক কদিন পর ও বদলাতে থাকে আকাশের রঙের মত ।
নীল থেকে কালো হতে থাকে ।
আমাকে আগের মত সময় দেয় না।
কেমন যেন দূরে চলে যাচ্ছে ।
আমি বুঝতে পারছিলাম কিছু একটা হচ্ছে ।
আমার কিছু পরিচিত বন্ধুদের ওর পিছনে লাগালাম ।
ওর খবর নেয়ার জন্য ।
এর মাঝে একজন আমাকে ফোন করে বলল, তোমার লাভার এখন করনেস পার্কে । সেক্স করছে ।
আমার মাথায় যেন বাজ পরল ।
আমি আমার বন্ধুকে অনেক গালাগালি দিলাম ।
বললাম, এটা হতেই পারে না ।
আমার বন্ধু বলে, তুমি নিজে এসে দেখে যাও ।
আমি ফোন রেখে দিই ।
অস্থির হই ।
একবার ভাবি যাব ।
পরখনেইও সিদ্ধান্ত নিই যাব না । কারন আমি ওকে বিশ্বাস করি । অনেক অনেক বিশ্বাস করি ।

পরদিন আবার ফোন পেলাম বন্ধুর ।
এবার আর স্থির থাকতে পারলাম না ।
গাড়িটা নিয়েই বেড়িয়ে পরলাম ।
পার্কে গিয়ে যা দেখলাম সেটা দেখার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না ।
গিয়ে দেখি ও দুটো পাঠান ছেলের পুরুষাঙ্গ সাক করছে ।
আমি আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ।
বারবার নিজের মনকে বলছিলাম যা দেখছি সব দুঃস্বপ্ন সব মিথ্যে ।
আমি ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম ।
ও আমাকে দেখে উঠে দাঁড়াল ।
আমি ওকে দেখে দৌড়ে চলে এলাম । কোন রকমে বাসায় পৌঁছলাম ।
দরজা বন্ধ করে চিৎকার করে কাদছিলাম ।
স্রষ্টা আমাকে কেন এসব দেখাল ে
কোন পাপের শাস্তি আমি পেলাম ।
ইচ্ছে হচ্ছিল মরে যাই ।
মানুষ কখন মরতে চায় আমি বুঝতে পারলাম ।
ওকে আমি এতটা ভালবাসতাম যে ওর সাথে দেখা করার জন্য আমি প্রতিদিন নতুন নতুন শার্ট, টি শার্ট পরতাম ।
ওকে ইম্প্রেস করার জন্য ।
ওকে ফুল কিনে দিতাম ।
ভেবেছিলাম ওকে নিয়েই বাকিটা জীবন কাটবে ।
আজ কি হল ? সব ভেঙ্গে গেল ।
সেল ফোন বন্ধ করে দিলাম ।
বাবা মা কারো সাথেই ভালো করে কথা বলি না ।
জব এ যাই না।
সবাই ভাবে আমি কোন মেয়েকে ভালবেসে কষ্ট পেয়েছি ।
আমিতো জানি আমার কষ্ট । কাওকে বলতে পারি না । সে যে কি কষ্ট । চোখে দেখা যায় না । বুক পুড়ে যায় ।
এই কদিন সে একটা বারের জন্য কল দেয় নি । মেসেজ পাঠায় নি ।
আমি জেদ করে ওকে ফেসবুকেও ব্লক করে দিয়েছি ।

এর কিছুদিন পর আমি আবার করনেস পার্কে যাই ।
ভাগ্যের কি পরিহাস । ওর সাথে আবার দেখা হয়ে যায় ।
ও আমাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায় ।
আমি কথা বলতে চাইলাম ।
ও বলল, ও চায় না আমায় ।
আমি চলে এলাম ।
২৬ শে জুন ওর জন্মদিন ছিল ।
আমি ওকে উইশ করে মেসেজ পাঠাই ।
ও কান্না করে ফোন করে । বলে দেখা করতে চায় । অনেক অনুনয় বিনয় করে ।
আমি ওর কথা রাখলাম ।
কথামত করনেস পার্কে গেলাম ।
বাইরে অনেক গরম । তাই ও বলল চল আমার গাড়িতে বসি ।
আমি বলি, না ।
তারপর ওর অনুরধে গাড়িতে বসলাম ।
ও আমাকে বলে, আমি সরি । আমরা কি আগের মত হতে পারি না ।
আমি বললাম, না । আমি তোমাকে এখনও ভালোবাসি । কিন্তু আমি চাই না আমাদের সম্পর্ক আগের মত হোক ।
আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না ।
ও আমার দিকে তাকিয়ে থাকে ।
আমি গাড়ি থেকে নেমে যাই ।
হাঁটতে থাকি ।
একা ।
আশ্চর্য ! আমি একবারও পেছন ফিরে তাকাই না ।

@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@

আমি বুঝতে পারি ফোনের ওপাশে হোসাইন ভাই কাঁদছে ।
উনি এখন ঠিক সেখানটায় বসে আছেন যেখানটাতে ডেনির সাথে তার প্রথম দেখা হয় ।
আমি কল্পনা করি । সামনে নীল পানির নদী । উপরে ঝকঝকে আকাশ । এক ফালি চাঁদ । আর একটা মানুষ মাঝরাতে একা বসে । ভীষণ কান্নায় তার শরীর দুলে দুলে উঠছে ।
হায় ভালোবাসা ! এতো কষ্ট কেন ভালোবাসায় ?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s