হারিয়ে যাওয়া গল্প


তখন ২০০৮ সাল ।
আমি জব এর কারণে বেশ কিছুদিন ঢাকার বাইরে ছিলাম ।
তখন থাকতাম কোয়ার্টারে । আমার সেপারেট রুম ছিল ।
রুমটার সামনে ছিল খোলা বারান্দা । দখিনা বাতাস, শান্ত পরিবেশ সব মিলিয়ে খুব ভালো লাগত ।
কিন্তু তখনো বুঝিনি নি এখানেই আমার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো ঘটবে ।
ঢাকাতে থাকা অবস্থায় মাসে একবার রমনা পার্কে যেতাম । ঘুরতে ।
যাই হোক ।
২০০৮ সালের ১৭ জুলাই রমনা পার্কে গেলাম ।
সন্ধ্যার পর ।
সেখানে হাঁটতে হাঁটতে একটা ছেলের সাথে চোখাচোখি হল ।
ছেলেটার বাম কানে একটা রিং । দারুন হ্যান্ড সাম দেখতে ।
আমি কেমন যেন মোহের মত দাঁড়িয়ে গেলাম ।
সেও আমার দিকে এগিয়ে আসল ।
বলল, ভাইয়া । কেমন আছেন ? আমি সাইফুল ।
আমি বললাম, নাইস টু মিট ইউ । আমি তমাল ।
এরপর রমনার আলোআঁধারি বেঞ্চে বসলাম দুজন ।
দুজন দুজনকে চুমু খেলাম ।
ও খুব উত্তেজিত হয়ে গেল ।
ওখানেই আমার প্যান্ট এর চেইন খুলে আমার পেনিস চুষতে লাগল ।
আমার খুব ভালো লাগছিল ।
একসময় আমি ওর মুখে স্পাম আউট করলাম ।
শরীরটা খুব ফুরফুরে লাগছিল ।
এরপর আমি তার ফোন নম্বর নিলাম ।
বললাম, এখন যেতে হবে সাইফুল ।
ও বলল, ঠিক আছে ।
সেদিনের মত বাসায় চলে আসলাম ।
কিন্তু বাসায় ফেরার পর খেয়াল করলাম ওকে আমি অনেক মিস করছি ।
পার্কে কত ছেলের সাথেই আমার এমন সেক্সুয়াল সম্পর্ক হয় । কিন্তু কাওকে এতটা মিস কখনও করিনি ।
আমি থাকতে না পেরে ওকে ফোন দিলাম ।
সাইফুল খুব খুশি হল আমার ফোন পেয়ে ।
আমায় বলল, তমাল ভাই । সময় পেলে একদিন আমার বাসায় আসবেন ।
এর ঠিক দুইদিন পর আমি তার বাসায় যাই ।
ও এত বেশি হট ছিল যে ওকে দেখলেই আমি হট হয়ে যেতাম ।
তাই স্বাভাবিকভাবেই সেদিন ওর সাথে আমার পরিপূর্ণ সেক্স হল ।
দুজন অনেক কিছু নিয়ে কথা বললাম।
তারপর আমি চলে আসলাম ।
ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারত ।
এরপর থেকেই ওর সাথে টুকটাক কথাবার্তা হত ।
আমিও চলে আসি আমার কর্মস্থলে ।
মাঝে মাঝে আমাদের কথা চলছিল ফোনে ।
একটা সময় বুঝতে পারলাম আমি বোধহয় ওর প্রতি উইক হয়ে যাচ্ছি ।

একসময় ও বলল, আমি তোমার সাথে রিলেসানে যেতে চাই ।
আমি কিছুই বললাম না ।
এর মাঝেই রোজা শুরু হয়ে গেল ।
ও ফোন করে বলল, তমাল । আমি তোমার ওখানে যেতে চাই ।
আমি খুব খুশি । ওকে বললাম আসতে ।
২ দিন পর ও আসল আমার ওখানে ।
ও আমার জন্য একটা শার্ট আর মনপুরার সিডি নিয়ে আসছিল ঢাকা থেকে ।
আনন্দে আমার চোখে পানি চলে আসল।
ওকে বুকের মাঝে জড়িয়ে নিলাম আমি ।
ও জিম করত । ওর চুলগুলোও খুব সুন্দর ছিল ।
আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না ।
ওকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় ফেলে চুমু আর আদরে ভরিয়ে দিই ।
ও আমার সারা শরীরে আদর দেয় ।
পরদিন ওকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম । নদীর পাড় । রেল স্টেশন । সারা শহর ঘুরলাম ওকে নিয়ে ।
পরদিন সে চলে যাবে বলল ।
আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল ।
আমি রুমে এসে ওকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে রইলাম ।
ও ছোট পাখির ছানার মত আমার বুকে শুয়ে আদর খাচ্ছিল ।
পরদিন ওকে এগিয়ে দিয়ে আসলাম ।
রাস্তায় যতদূর ওকে দেখা যায় ঠিক ততক্ষন দাঁড়িয়ে রইলাম ।

এর ঠিক ১০ দিন পর আমি ঢাকা আসি ।
পাগলের মত ছুটে যাই ওর কাছে ।
ও তখন মনিপুরি পাড়ায় থাকত ।
আমি ওর বাসায় যাই ।
ওর শরীরের গন্ধ নিই । ওকে বলি, অনেক ভালবাসি জান ।
ও মিষ্টি করে হাসে ।

সেবারের মত আবার ঢাকা ছেড়ে আমার কাজের জায়গায় আসি ।
আমার মন পড়ে থাকে ওর কাছে ।
ইচ্ছে করত সারাক্ষন ওকে বুকে জড়িয়ে রাখি ।
এর মাঝেই আমার জন্মদিন চলে আসে ।
সাইফুল বলে, আমি তোমার জন্মদিনে তোমার ওখানে থাকব ।
আমি বললাম, তোমার জন্য আমার সব কিছু । তুমি যখন চাও তখনই আসবে ।
ও ঢাকা থেকে আমার এখানে আসে । জন্মদিনের আগের রাতে ।
আমার জন্য একটা কেক , ২ টা শার্ট আরও কতকি নিয়ে আসে ।
নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় ।
রাত ১১ টার দিকে ও সারা ঘরে আড়ং থেকে আনা লাল নীল বাতি জ্বালাল ।
সারাঘর আলোয় আলকিত ।
মাঝখানে কেক রেখে কাটলাম ।
আমি হাওয়ায় ভাসছিলাম । মনে হচ্ছিল সব স্বপ্ন ।
এর আগে আমায় নিয়ে এত স্বপ্ন কেউ দেখে নি ।
আমার জন্মদিন এত আয়োজন করে কেউ পালন করে নি ।
আমি মুগ্ধ হয়ে যাই ওর ভালবাসার ছোঁয়ায় ।
রোজা ছিল ও । ওর জন্য রাতের সেহেরির ব্যবস্থা করলাম ।
পরদিন ও আবার ঢাকা চলে আসবে ।
ওকে যখন বিদায় দিই আমার বুক ফেটে যাচ্ছিল ।
চোখ জলে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল ।

ধীরে ধীরে ওর সাথে আমার সম্পর্ক আর গভীর হতে লাগল ।
মনে হত ওকে ছাড়া আমি বাঁচব না এক মুহূর্তের জন্য ।
ওকে আমার পরিবারের সবাই চিনত ।
তখন দুর্গা পূজার ছুটিতে আমি ঢাকায় আসি ।
ওকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাই ।
ও আমার বাবা মাকে সালাম করে ।
এভাবেই চলছিল সবকিছু ।
ও সুযোগ পেলেই আমার ওখানে যেত । আর আমিও ওকে এক পলক দেখার জন্য ঢাকায় আসতাম মাঝে মাঝে ।
প্রায় ৮ মাস চলে গেল ।
এরপর থেকে যা শুরু হল তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না ।
ও আমাকে সন্দেহ করা শুরু করল।
আমার ফোন যদি বিজি থাকত কিংবা ওর সাথে কথা বলতে দেরি হলেই ও রাগ করত ।
ও বুঝতে চাইত না যে তখন আমি হয়ত কাজে ব্যস্ত থাকতাম ।
ওর ভালবাসা আমার প্রতি কমেছিল কিনা সেটা জানি না । কিন্তু দিনের পর দিন ওর সন্দেহ বেড়েই যাচ্ছিল ।

এর মাঝে আমার পরিবার থেকে আমার বিয়ের জন্য চাপ দেয় ।
মেয়ে দেখা শুরু করে ।
ও এসব শুনে খুব মন খারাপ করে । কেমন বদলে যেতে থাকে ।
আগের মত আমার সাথে কথা বলে না । ফোন দিলে ধরে না ।
ফোনও দেয় না ।
অবস্থাটা এমন হয়ে গিয়েছিল যে সপ্তাহে একদিন ওর সাথে কথা হত তখন ।
ও আস্তে আস্তে আমার জীবন থেকে দূরে চলে যেতে থাকে ।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করি । ও কিছু বলে না ।
একটা সময় দুজনের মাঝে দূরত্ব সীমাহীন হয়ে যায় ।
ও আমার সাথে যোগাযোগ একেবারেই বন্ধ করে দেয় ।
আমাকে ভুলে যায় ।
আমি মাঝে মাঝে আননোন নম্বর থেকে ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করতাম ।
ও গলার শব্দ শুনে কেটে দিত ফোন ।
আমিও ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিই নিজেকে ।
এখনও ওর সাথে বিভিন্ন জায়গায় দেখা হয় আমাদের । কিন্তু দুজনের মাঝে যে দূরত্ব সেটা ভাঙ্গার মত সাহস বা শক্তি আমার ছিল না ।
ওর ভালবাসা আজও আমাকে কাঁদায় ।
প্রতি বছর জন্মন্দিন আসলে আমি খুব একা হয়ে যাই ।
তখন সারা রাত নিজের ঘর অন্ধকার করে কাঁদি ।
ওর কাছ থেকে যে ভালবাসা পেয়েছি সেইগুলোই আমার বুকে বার বার বেদনা জাগায় ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s