>>>একটি ঘড়ি ও কিছু সিনেমাটিক মুহূর্ত<<<

625511_553198751377519_1298701102_n

***************************

ঘড়িতে চুমু দিয়ে প্রতিটা দিন শুরু হয় আমার ।
তখন সকাল সাতটা ।
তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে সাড়ে সাতটার বাস ধরতে হবে ।
ঘড়িটা হাতে দিয়ে আরেকবার চুমু দেই ।
তারপর শুরু হয় কর্মব্যস্ততা ।
ব্যস্ত থাকলেও একটু পরপর ঘড়ির দিকে তাকাই ।
বন্ধুরা বলে “কি আছে ঐ ঘড়িতে ? কয় টাকাই বা দাম ? ঐটার দিকে না তাকালে আর না ছুঁলে কি থাকতে পারিস না ?”
মুচকি হাসি ছাড়া আর কিছু করার থকে না আমার।
কি করে বুঝাই ওদের ঐ ঘড়ির মূল্য আমার কাছে কি?
ক্লাশে যাওয়া আর আসার সময়টুকু বাসে বসে গান শুনে আর ঘড়ি নিয়ে খেলা করে সময় কাটে আমার।
এভাবে দিন ফুরায় রাত আসে।
রাতের বেলায় গান শুনে হাটা তো আমার পুরোনো অভ্যাস।
তখন ও ঐ ঘড়িতে চুমু দেওয়া হয়।
আর রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় সাথে থাকে ঘড়ি।
বুকের ঊপর রাখি ঘড়িটা।
হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় তখন।
চোখের পাতা কাঁপতে থাকে বারবার।
চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রিয় মুখটা।
এভাবে একসময় ঘুমিয়ে যাই আমি।
আর ঘুম থেকে ওঠে ঘড়িতে চুমু দিয়ে দিন শুরু করি। তখন সকাল সাতটা…………।

এই সিনেমাটিক মুহূর্ত গুলো কিন্তু বেশ লাগছে আমার।
ঘড়ি যে খুব সুন্দর ,খুব ভালো, তা কিন্তু না ।
কিন্তু এই ঘড়িতেই আছে আমার বাবুর স্পর্শ ।
ঐ স্পর্শ পেতেই তো এতো কিছু করা ।
মাঝে মধ্যে ঘড়িটা নাকের কাছে নিয়ে বাবুর হাতের গন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করি ।
সে যেমন ঝড়ের বেগে এসেছিলো তেমনি ঝড়ের বেগে চলেও গেলো আমার জীবন থেকে ।
তবে মনের মনিকোঠার যে বিশেষ আসন তাকে দিয়েছিলাম তা রয়ে গেছে আজও ।

“তারে হৃদমাঝারে রেখেছি, ছেঁড়ে দিব না” ।

যখন সব ছিলো তখন সে দেখা দেয় নি ।
কতই না পাগলামি করতাম ওকে ভেবে । এখনও কি করি না !
বুকের ভেতর একটা অচেনা কষ্ট টের পাই আমি ।
মানুষের মুঠোয় স্বপ্ন এসে যখন হারিয়ে যায় তখন যে ব্যথা হয় সেটা বলে বুঝানো যায় না ।
যার ব্যথা সেই বুঝে ।
আজ আমাদের দুজনের মাঝে সব শেষ ।
সম্পর্কের সুতোটাও আগের মত নেই ।
অথচকরে দিলো তখন একদিন ঘুম থেকে ওঠে ওর ম্যাসেজ পেলাম ।
ও দেখা করতে চায় ।
সারা দিন আমি প্রবল হৃদস্পন্দন নিয়ে পার করলাম ।
অবশেষে সন্ধ্যাবেলায় সেইক্ষন এলো, দুজনে দেখা হলো ।
এই দেখা করা নিয়ে কতো পরিকল্পনা ছিলো আমাদের ।
আর এই প্রথম দেখা করা নিয়েইতো আমাদের ঝগড়া এবং বিচ্ছেদ ।
এতো কিছুর পরে ও দেখা করতে আসবে এটা ভাবি নি আমি ।
যা হোক ।

সে এসে আমার পাশে বসলো ।
আমার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে বলল, তোমার সাথে কেন দেখা করেছি জানো ?
আমি মাথা নেড়ে না বললাম ।
ও বলল, কিছুদিনের মাঝেই এই এলাকা ছেড়ে চলে যাব । তাই যাওয়ার আগে দেখাটা করে গেলাম ।
আমি মাটির দিকে তাকিয়ে বললাম, তোমার কি আর কিছুই বলার নাই ?
ও বলল, না ।
তবুও আবার পুরনো ঘটনা গুলো নিয়ে কখনো একে অন্যকে, কখনো আবার নিজেকে দোষ দেওয়া হলো।
ও বলল, একটা গান শুনাবে ?
আমি গাওয়ার চেষ্টা করলাম ।
কথার ফাকে ফাকে আমি ওকে দেখছিলাম ।
কি অদ্ভুত একটা মায়া ওর মুখ জুড়ে ।
কথা বলতে বলতে কখনো ওর হাতে ,কখনো পিঠে কখনো মাথার চুলে হাত রাখছি আমি ।
ওর থুতনির হালকা দাড়ি আমায় মাতালের মতযেন টানছিলো ।
দুষ্টামি করে ওর মাথার চুলগুলি এলোমেলো করতে ইচ্ছে করছিলো ।
ওর চশমা সরিয়ে দিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে মন চাইছিলো বার বার।
রাধা রমনের একটি গানের দুটি লাইন বার বার মনে হচ্ছিলো-‘‘ এমন সুন্দর পাখি হৃদয় মাঝারে রাখি, ছুটলে পাখি ধরা দিব না’’ ।

না পাখিকে ধরে রাখার ক্ষমতা আমার বোধহয় নেই ।
সবার এই ক্ষমতা থাকে না ।
খুব ইচ্ছে করছিলো একবার যদি ওর হাত ধরে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে পারতাম ! “তোমাকেই ভালোবাসি বাবু । তুমিই আমার সব”।
হয় নি বলা ।
আমার সাহসে কুলোয় না ।
এতো ভিতু আমি !
ওর কোলে মাথা রেখে আকাশ দেখব এমন ইচ্ছেও ছিলো ।
কিন্তু সেরকম কিছুই হয়নি ।
ঘোর আবেশে সময় পার করছিলাম আমি ।
হঠাৎ বাবু আমার বাম হাত ধরলো ।
আমি নির্বাক ।
কিছু বুঝার আগেই ওর হাত থেকে ঘড়ি খুলে আমার হাতে পড়িয়ে দিলো ।
বললো, “চাইলে নতুন একটা কিনে দিতে পারতাম । কিন্তু তাতে আমার দেওয়া আর অন্য কারো দেওয়ায় তফাত থাকতো না” ।
খুব লজ্জা লাগছিলো তখন আমার ।
ওর জন্য কিছুই আনিনি আমি ।
শুধু একবার ঘড়িটা ফিরিয়ে দিতে চাইলাম কিন্তু তার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম তা সম্ভব না ।
তাই নিরবে বসে ওর কথা শুনছিলাম ।
ও বললো “কখনো ঘড়িটা নষ্ট হলেও ফেলে দিয়ো না”।
আমি বললাম “এটা সব সময় থাকবে আমার কাছে । আমার ভালোবাসার একমাত্র স্মৃতি হয়ে । আমি যতোদিন বেঁচে থাকবো এটাও থাকবে আমার কাছে” ।

এরপর এলো বিদায়ক্ষন ।
ছেড়ে আসতে কষ্ট হলো খুব ।
বারবার ইচ্ছে করছিলো ও যদি একটা বার আগের মত বলত, ফিরে আসো !
এতই যদি বুঝলে আমায় তবে এটা বুঝনা কেন আমি তোমার আসার আশায় আছি !
কিছুই পারিনি বলতে বাবুকে।

আজ বলছি-
“ফিরে আসো খোলা আজি দক্ষিন দুয়ার কোথা চাঁদ আমার।’’

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s