তুমি এসে চলে গেলে


সবেমাত্র Manjam এ আইডি খুলেছি ।
একটা দুটা ফ্রেন্ড রিকুএস্ট আসছে আর আসছে বেশ কিছু মেসেজ ।
বেশ মজাই লাগছিল ।
একজন লিখল যে সে আমাকে চেনে আর আমার সাথে দেখা করতে চায়।
আমি বেশ অবাক হলাম কারন আমি ছেলেটাকে চিনতে পারছিলাম না।
একটু ভেবে চিন্তে বললাম , দেখা করতে পারি কিন্তু শুধুই দেখা করব আর কিছু না…।
সে অবাক হয়ে বলল আমি কি তোমাকে বিয়ে করতে বলছি ! শুধু দেখাইতো করতে বলছি!! আমি রাজি হয়ে গেলাম ।
ঠিক হল আমরা ধানমণ্ডি লেক এর কাছে দেখা করব। আমি ঠিক সময়য়েই পৌঁছে গেলাম কিন্তু সে আসল আধা ঘণ্টা পর।
ওকে কাছ থেকে দেখে বুঝতে পারলাম যে ওকে আমি একটা গে পার্টিতে দেখেছিলাম তাও আবার ওর বয়ফ্রেন্ড এর সাথে।
মনটা খারাপ হয়ে গেল এই ভেবে যে এত দূর আসলাম যে ছেলেটার সাথে দেখা করতে সে কিনা এংগেজড ।
বুঝতে পারছিলাম না বয়ফ্রেন্ড থাকা সত্ত্বেও সে আমার কাছে কি চায়।
যাই হোক, ছেলেটার নাম প্রিন্স, পেশায় লইয়্যার, কথা বার্তা বেশ মার্জিত।
কথায় কথায় জানতে পারলাম সে আমাকে বেশ আগে থেকেই অনুসরণ করছে ।
সে আমাকে প্রথম দেখে Alliance Franciase এর এক রিভার ক্রজ এ।
তখনি নাকি সে আমার সাথে কথা বলতে ছেয়েছিল কিন্তু আমার সাথে আমার বন্ধু বান্ধব থাকাই সাহস করে নি।
এরপর সে আমাকে দেখে গে পার্টিতে, সেখানে সাথে ওর বয়ফ্রেন্ড থাকায় কথা বলার সুযোগ পায় নি। তারপর যখন Manjam এ আমার প্রোফাইল দেখল সেই সুযোগ আর হারাতে চায় নি। একটা ছেলে আমাকে এতদিন ধরে ফলো করছে ভাবতে ভালই লাগছিল কিন্তু যেহেতু সে একটা রিলেশনশিপে ছিল আমি ওকে শুধু বন্ধু হিসেবেই নিয়েছিলাম।

এরপর ওর সাথে আমার টুকটাক কথা হত। এর মধ্যে একদিন সে আমাকে Sexual Date এর জন্য বলল। আমি না করে দেই কারন তার বয়ফ্রেন্ড ছিল। তারপর থেকে সে কখনই আমাকে এ ব্যাপারে কিছু বলে নি। আমি অবশ্য ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে ওর বয়ফ্রেন্ড যদি এ ব্যাপারে জানতে পারে তখন কি হবে… সে বলল যে তারা ওপেন রিলেশানশিপ এ আছে তাই এ নিয়ে ওর বয়ফ্রেন্ড এর কোন আপত্তি নেই। আমি ওকে আর কোন প্রশ্ন করিনি কারন এটা তাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার। এ ভাবেই চলছিল ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব।

ওর সাথে আমার শেষ দেখা হয় ২০১১ এর Valentine’s Day তে। সে খুব করে বলল সেদিন ওর সাথে দেখা করতেই হবে।
একেতো Valentine’s Day তে ঢাকা শহর পুরাটাই ট্রাফিক জ্যাম, তার উপর গুলশান থেকে ধানমণ্ডি যাওয়া সে এক মহা ঝামেলা।
সেও নাছোড়বান্দা ।
অবশেষে দুই ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে যখন ধানমণ্ডি লেক এ পৌঁছালাম দেখি সে নেই।
ফোন দিলাম, বলল পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছে।
দেখতে দেখতে আধা ঘণ্টা হয়ে গেল, আমি আবার কল করলাম, বলল আর কিছুক্ষণ।
প্রাই এক ঘণ্টা পার হয়ে গেল, আমার মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেল।
মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম আর জীবনেও ওর সাথে দেখা করব না।
আমি বাস কাউন্টার এর দিকে হাঁটা দিলাম, বাসে উঠতে যাব এমন সময় ওর কল আসল।
অনেক কাকুতি মিনতি করে বলল যেন কিছুক্ষণের জন্য হলেও দেখা করে যাই।
আবার লেক এর দিকে গেলাম।
দেখি সে একটা হার্ট শেপ এর চকলেট বক্স নিয়ে আমার জন্য দাঁড়িয়ে আছে।
দেরি করে ফেলার জন্য অনেক বার দুঃখ প্রকাশ করল।
আমি জানতে চাইলাম আজকে ভালবাসার দিনে সে তার বয়ফ্রেন্ডকে ফেলে আমার সাথে কেন। সে বলল যে ওদের ব্রেক আপ হয়ে গেছে।
ওকে দেখে মনে হয় নি যে এটা নিয়ে খুব বেশি কষ্ট পেয়েছে।
তবে তার বন্ধু বান্ধব, পরিবার পরিজন সব কিছু নিয়ে বেশ হতাশ মনে হল তাকে।
সে বলল এখন থেকে সে আর কারো সাথে কথা বলবে না আমি ছাড়া কারন আমার সাথে কথা বলেই নাকি সে শান্তি পাই।
আমি খুব চেয়েছিলাম যে সে আমাকে প্রপোজ করুক। কিন্তু সে তা করেনি।
যদিও ওর কথাবার্তায় বুঝতে পারতাম সে আমার প্রতি দুর্বল।
হয়ত সে চেয়েছিল আমিই ওকে প্রপোজ করি।
কিন্তু নিজের অহমিকার কারনে আমি তা করতে পারি নি।
সেদিনের মত আমি চলে আসি।
আসার আগে বললাম যখনি সে একাকী বোধ করবে আমাকে যেন কল করে।

কিছুদিন পর এক রাতে সে আমাক কল করে।
ওর কথা কেমন জানি অসংলগ্ন মনে হচ্ছিল, হয়তো ড্রিঙ্ক করেছিল।
সে রাতে অনেক্ষন কথা হয়েছিল আমাদের।
তার স্বভাব সুলভ চঞ্চলতার মধ্য দিয়েও আমি বুঝতে পারছিলাম সে কিছু একটা বিষয় নিয়ে খুব কষ্টে আছে।
আমি ওকে সান্ত্বনা দেই, বলি সব ঠিক হয়ে যাবে।
সে শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরে।
তারপর এক দুপুরে ওর একটা মেসেজ পাই, যেখানে লেখা ছিল Please forgive me, dont ask me why.
আমি উত্তরে লিখলাম I forgive you for everything.
তারপর বেশ কিছু দিন ওর সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি। তাই একদিন আমিই কল দিলাম। ওপাশ থেকে এক অপরিচিত কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম ।
জানতে চাইলাম প্রিন্স কোথায় ?
উত্তরে যা শুনলাম তা আমি নিজের কানে বিশ্বাস করতে পারি নি।
আমাকে বলা হল যে প্রিন্স মারা গেছে। আমি ভাবলাম প্রিন্স এর কোন ফ্রেন্ড হয়তো মজা করছে, আমি ফোন কেটে দিলাম।
তারপর দিন আবার কল করলাম । দেখি নাম্বার বন্ধ।
নিজেকে বুঝালাম যে সে হয়তো কারো সাথে কোথা বলতে চাইছে না এজন্য ফোন বন্ধ করে রেখেছে।
এরকম প্রানচ্ছল একটা ছেলে এভাবে মরে যেতে পারে এটা আমি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না।
কিন্তু মনের মধ্যে একটা ভয় উঁকি দিচ্ছিল যদি সে সত্যিই মরে গিয়ে থাকে।
এর পর থেকে আমি প্রতিদিনই ওর নাম্বার এ কল দেই এই আশাই যে হয়তো একদিন সে ফোন ধরবে।
কিন্তু সেদিন আর আসে না।
এভাবে দু মাস কেটে যায় ।
একদিন ফেইসবুকে ওর এলাকার এক ছেলের সাথে পরিচয় হয়।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করি প্রিন্স এর ব্যাপারে ।
ওকে প্রিন্স এর ছবি দেখাই, সে চিনতে পারে প্রিন্সকে।
ওর কাছ থেকে জানতে পারলাম যে প্রিন্স আত্মহত্যা করেছিল।
আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে, চোখ দিয়ে মনের অজান্তেই অশ্রু বেরিয়ে পরে।

নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়, এই ভেবে যে হয়তো আমি ওকে বাঁচাতে পারতাম।
যেদিন ওর মেসেজটা পেয়েছিলাম সেদিন যদি আমি ওকে কল করতাম তাহলে হয়তো আমি এই সর্বনাশটা হত না।
কিন্তু আমি কিছুই করি নি।
সে আমাকে ভালবাসতে চেয়েছিল আমি তাকে সেই অধিকার দেই নি, সে আমার কাছে বন্ধুত্ব চেয়েছিল আমিও তাও দিতে পারিনি।
আর কেও কোনদিন আমাকে বলবেনা Can I have a date with you?
প্রিন্স তুমি আমায় ক্ষমা করো আর জেনে রেখ তুমি আমার মনে সারা জীবন থাকবে ঠিক তোমার নামের মতই রাজপুত্র হয়ে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s