>>>>>> একা এই আমি <<<<<<<

941791_121019484765566_881025821_n
গত দেড় বছর ধরে আমাকে ফেসবুকে এ ফলো করতে তুমি।
আমার লিখা সব গুলা গল্প মুখস্ত তোমার, আমার প্রতিটা ছবি তুমি হাজার বার করে দেখেছো।
আমার স্ট্যাটাস গুলাতে লাইক দিয়েছ অনেক বার করে,
কিন্তু আমি সেটা জানতেই পারতাম না,
যদি সেই দিন ধানমণ্ডির কড়াই গোস্ত এ বসে তোমার মুখ থেকে কথা গুলা না শুনতাম।
তোমার বধ অভ্যাস গুলার মাঝে একটা হল বাহিরে খাওয়া,
তাই প্রথম দিনে কোন পার্কে না ডেকে, সরাসরি নিয়ে এলে রেস্টুরেন্ট এ।
দেখা করতে যাচ্ছিলাম যখন, একটি বার এর জন্য ও ভাবিনি যে তুমি কোন এক দিন,
আমার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। খুব স্বাভাবিক ভাবে একটা বন্ধুর সাথে,
দেখা করতে যাচ্ছি এইটাই ছিল আমার ধারণা। কিন্তু তোমার,
অস্বাভাবিক সহজ সরল ব্যাবহার ভাবতে বাধ্য করেছিলো আমায়।
আমি যে পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি কিংবা জামাল পুর এর সাদেক মামার রসগোল্লা নয়,
তা ভালো করে এই জানতাম। কিন্তু মানুষ কি দেখে যে আমাকে পছন্দ করে,
আজ পর্যন্ত তাই জানতে পারলাম না। প্রশ্ন করলাম তোমায়,
আচ্ছা আমাকে সরাসরি দেখে কি মনে হয় তোমার? তুমি বল্লে,
তোমার শরীর কিংবা ব্যাবহার এর এমন কোন দিক নাই যার জন্য অপছন্দ করবো তোমায়।
আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং ভালবাসবো তুমি যেমন আছো, যা আছো তার জন্যই
Just the way you are…

কিছুটা অভাক হলাম।
প্রথম দিনে এই বলে দিলে ভালোবাসি? বুজতে পারলাম তুমি অনেক আবেগি।
কিন্তু তোমাকে বুজতে দিলাম না ঐ দিন, এই আবেগি মানুষ গুলাকে আমি খুব ভয় পাই।
এরা খুব স্পর্শকাতর হয়। এরা খুব অল্পতে কাছে আসতে পারে,
আবার খুব সামান্য কারণে দূরে চলে যেতে পারে। তুমি যে খুব আহামরি কিছু ছিলে তা কিন্তু নয়,
তোমার ভিতর অন্যরকম একটা আকর্ষণ ছিল।
যা মানুষকে কাছে টানতে বাধ্য করতো। ঐ দিন আমি ও তার বেতিক্রম ছিলাম না।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলতে লাগলে আমার সাথে,
আমাকে নির্বাক করে দিয়ে,
গলা ছেড়ে টান মারলে “ চরণ ও ধরিতে দিওগো আমারে, নিও না, নিওনা সরাইয়ে”।
রবীন্দ্র সংগীতটা আমার খুব পছন্দের। আবার ধরলে “ সখি ভালোবাসা কারে কয়?”
আচ্ছা তুমি কি জানতে, আমি রবীন্দ্র সংগীত পছন্দ করি এবং গাইতে ও পারি?
আস্তে আস্তে ভালো লাগতে শুরু করলাম তোমায়। জানতে থাকলাম দুজন দুজনকে…।

প্রথম দিন এ তোমাকে বলেছিলাম যে আমি রিলেশন যেতে চাইনা।
কারন ন্যাড়া এক বারই বেল তলায় যায়। আমি ঐ সব তথাকথিত সম্পর্কের ধার ধারি না।
বন্ধু হতে পারলে এসো, আমার দরজা খোলা থাকবে সবসময়।
কিন্তু অন্য কিছু হবার চেষ্টা করোনা, লাভ নেই।
তুমি কাঁঠালের আঠার মত লেগে আছো আমার পিছনে,
আমাকে দেখাশুনা করছিলে বার বার, আমি খেলাম কিনা, ঠিক মত পড়ছি কিনা,
সময় মত ঘুমাচ্চি কিনা।
এরই মধ্যে দুই দিন বাহিরে গেলাম তোমার সাথে।
খেলাম আর ঘুরলাম অনেক গল্প করছিলাম দুই জন মিলে,
সেই দিন আমাকে অভাক করে দিয়ে আবৃত্তি করতে লাগলে তুমি।
হেলাল হাফিজ এর প্রস্থান কবিতা থেকে “ এখন তুমি কোথায় আছো, কেমন আছো পত্র দিও”।
আমার সবচেয়ে পছন্দের “শেষ এর কবিতার” অমিত আর লাভন্ন্য কে,
ও বাদ দিলে না তোমার কথোপকথন থেকে। মনে মনে বললাম এই রে সেরেছে,
এই ছেলেতো আমার উপরে ভালো করে অধ্যায়ন করে, মাঠে নেমেছে দেখছি।
সোজা কথা আমাকে প্রেমে না ফেলে এই ছেলে ছাড়ছে না। মনে মনে নিয়ন্ত্রণ করতে লাগলাম নিজেকে।
এক রাতে আমার বাসায় এসে হাজির হলে তুমি, আমাকে অনেক ভীষণ মিস করছ,
রাতে আমার সাথে থাকবে আর খাবে এইখানে,
পরিবার এর একজন এর মত কথা গুলো বলেই বিছানায় দিল লাফ,
সাথে আমাকে ও নিলে টান মেরে। শুরু করলে পাগল এর মত কিস করা।
যতই বলি আমি সতী সাবেত্রি কিন্তু এক জন সমকামী হয়ে,
ঐ অবস্থায় নিজেকে তোমার হাতে সপে দিতে বাদ্য হলাম আমি।
শুরু করলে সেই আদিম খেলা যেন শেষই হচ্ছিল না অনেক্ষন ধরে।
গোসল করে গেলাম রান্না ঘর এর দিকে মাংস যদি আমার পচন্দ না।
তারপর ও রাঁধতে গেলাম তোমার জন্য।
কিন্তু রান্না ঘরে এসে ও নিস্তর নাই। পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে,
ঘাড় এর মধ্য কিস দিতে লাগলে তুমি। মনে মনে বললাম এইটা ও কি জানতে তুমি?
আমার পছন্দের অভ্যাস গুলার একটা হল ঐ ভাবে কিস নেয়া।
বল্লাম এখন ছাড়তো রান্না করছি আমি। কে শুনে কার কথা।
আবার শুরু করলে সেই আদিম খেলা ঐ অবস্থায়। পাগল একটা বলে না করেছিলাম।
কিন্তু তুমি শুনলে না। আমি ও যে উপভোগ করছিলাম না, তা কিন্তু নয়।
তোমাকে ঐ দিন রাতে বল্লাম দেখ তোমাকে সময় দিচ্ছি, বাহিরে ঘুরতে যাচ্ছি,
রেস্টুরেন্টএ পাশাপাশি বসে খাচ্ছি, সবচেয়ে বড় কথা খুব তারাতারি সেক্স করে ফেল্লাম।
দয়া করে এই গুলাকে অন্য ভাবে নিও না।
তুমি আমাকে ভালোবাসো প্রথম দিন এ বলছিলে।
দেখ, আমাকে ভালোবাসা মানে হল, কষ্টকে বাসায় ডেকে এনে দাওয়াত খাওয়ানোর মত।
সুতারাং তোমার সময় আছে এখনো, ভালো বুন্ধু হিসাবে আমার কাছে আসতে পার।
থাকতে পারো আমার পাশে না করবো না কোনদিন।
তুমি আমার মুখ ছেপে ধরে বল্লে, তোমার কবিতা আবৃতি শেষ কর।
আমি কখনো কিছুতেই পিছু পা হবো না। তোমাকে ভালোবাসি, ভালোবেসে যাবো সারা জীবন।
অপেক্ষা করবো তোমার মুখে ভালোবাসি শব্দটি শুনার জন্য, আমার শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত।
তারপর আমাকে টেনে তোমার বুকের মাঝে নিয়ে গেলে তুমি।
সারা রাত বালিশে গুমাতে দাওনি আমাকে, রেখেছিলে তোমার বুকের মাঝে।
ব্যাপার গুলা কিছুটা নাটকীয় হলেও কেন যেন সত্যি হয়ে উঠলো আমার জীবনে।
কিন্তু আমিতো আমার নিজেকে জানি, তাই মুচকি হেসে উপভোগ করছিলাম সময়গুলো।
ঐ দিন সকালে নিজের হাতে গোসল করিয়ে দিলে আমাকে, সাথে ছিল হাজারো কিস।
তোমার অফিস আছে বলে যেতে হচ্ছে, তাই বাদ্য হয়ে যাচ্ছ। বুজতে পারছিলাম তোমার মুখ দেখে।
এরই মাঝে কেটে গেলো এক সপ্তাহ, আমি ও অসুস্থ হয়ে গেলাম।
টয়লেট এর সাথে খুব ভালো করে ফ্রেন্ডশিপ হয়ে গেল আমার।
বাসা থেকে বের হতে পারছিলাম না, পহেলা বৈশাখে ও বের হলাম না।
তুমি সারা দিন বাহিরে ছিলে বুন্ধুদের সাথে তোমার মুখে শুনলাম।
একটি বার ও ফোন করলে না ঐ দিন। আমি ও যে তোমার ফোন এর অপেক্ষায় ছিলাম তা কিন্তু নয়।
রাতে তোমার ফোন ধরে অনিচ্ছার সত্তেও প্রশ্ন টা করলাম।
তুমি আমায় কত ভালোবাসো আজ বুজলাম। তুমি বুজতে পারলে আমি কি বুজাতে চাচ্ছিলাম।
অনেক বার দুঃখিত হলে তুমি, এক পর্যায় কাঁদতে লাগলে।
আবার ও প্রমাণ করলে কতটা আবেগি তুমি।
ঐ কান্না দেখে ভাবলাম থাকনা সময় এর হাতে ছেড়ে দেই সবকিছু।
সময় বলে দিবে আমরা কি এবং কি চাচ্ছি।

অপ্রিয় হলেও সত্যি আজ তুমি পিছু হটতে বাদ্য করলে আমায়।
বলে দিলাম তোমাকে, আমাদের এই জায়গায় গল্পের ইতি টানা উচিৎ।
কারণ আমি যে কোন জায়গায় যে কারো সাথে চ্যাট করতে পারি।
আমাকে বাঁধা দেয়ার কোন অধিকার তোমায় দেইনি আমি।
শেষ প্রশ্ন করলাম তোমায়, আমি যে অন্য কারো সাথে চ্যাট করলাম তুমি জানলে কি ভাবে?
তুমি বল্লে, তোমার কোন বুন্ধু বলেছিল তোমাকে।
বল্লাম বাবা শুনো, ঐ জায়গায় তুমি নিজে লগ ইন করছ এবং তোমার অনেক গুলা আইডি আছে।
তুমি কসম কেটে মিথ্যা বল্লে বুজতে একটু ও দেরি হয়নি আমার।
মিথ্যাটা বলে, আমদের সম্পর্কের সমাপ্তির ১৬ কলা পূর্ণ করে দিলে তুমি।
বল্লাম এই জন্য এই আমি কাউকে ভালবাসতে ছাই না।
সবাই নিজের মাঝে ভুল রেখে, অন্যর ভুলগুলো ধরতে এক পায়ে দাড়িয়ে থাকে।
আমি ও বোধহয় আলাদা নয়। কিন্তু আমি নিজেকে দোষ দিতে পছন্দ করি।
এই যে আমাদের সম্পকের এইখানে শেষ। সেইটার জন্য আমিই দায়ী।
তাই তোমাকে ধন্যবাদ সবকিছুর জন্য, ভালো থেকো সবসময়।

আজ সন্ধ্যায় একা একা ধানমণ্ডি লেকের পাশে হাঁটছি।
আর ভাবছি, আমি মানুষটা বোধয় সত্যি অনেক খারাপ।
আমার জন্য অনেকই কষ্ট পায় ইচ্ছা করে হোক বা অনিচ্ছায়।
আচ্ছা আমি একা আছি খুব কি খারাপ আছি?
একা একা কবিতা পড়তে পারি, রবীন্দ্র সংগীত এ টান মারতে পারি।
নিজে নিজে রাঁধতে পারি, খুব অল্পতে সুখী হতে পারি।
খুব কষ্ট পেলে নীরবে কাঁদতে জানি… এইতো এখনকার মত মন খারাপ হলে একা একা হাঁটতে পারি্‌…।।
আমি আসলে ও রকমই…।
একা আছি বেশ আছি।
কোন মানুষ কে কাছে টেনে নিজে কষ্ট পেতে চাই না।
তাকে ও কষ্ট দিতে চাই না। নিজের স্বাধীনতায় বাঁধা দেবার অধিকার কারো নেই………।

হেঁটে চলছি একা এবং আমি ……………।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s