বেঁচে থাকা ভালোবাসার জন্য


ঘরটা পুরাপুরি অন্ধকার করে বসে আছি।
হালকা সাউন্ড এ বাজছে রবীন্দ্র সঙ্গীত {যখন পরবে না মোর পায়ের চিহ্ন}
আমার চোখ থেকে পানি বেয়ে হাত এ এসে পড়ছে।
কেন যেন ঐ চোখের পানি পুরায় না। একদম কাঁদতে ছাই না আমি।
মাইকেল এর মত বয় ফ্রেন্ড যার আছে তার কান্না করাটা সাজে না।
একটা মানুষকে যতরকম ভাবে অবহেলা করা যায় তার কোনটাই বাদ রাখিনি।
তারপর ও মাইকেল আমাকে ছেড়ে যায় না। তার কারণটা আজ অবধি জানা হল না।
৫ বছর আগে অস্ট্রেলিয়াতে আসি স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে।
MBA শেষ করলাম গত বছর, সাথে একটা ভালো চাকরি ও জুটে গেলো।
৩ বছর এর মাথায় এখানকার নাগরিকতা ও পেয়ে গেলাম।
মোটা অংকের টাকা আসতে লাগলো পকেটে, কিছু নিজের জন্য রেখে বাকিটা পাঠিয়ে দিতাম বাড়িতে।
মা বাবার আমি ছাড়া আর কেউ নেই। তাই প্রতিদিন ফোন করতে হয় তাদের।
এ সব গুলো ব্যাপার নিয়ে হতে পারতাম মহা সুখীদের একজন।
কিন্তু আমি অন্ধকার ঘরে বসে বসে কাঁদছি।
অবশ্য মাইকেল থাকলে কাঁদা তো দূর এর কথা মন ও খারাপ করতে পারতাম না।
এখন মাইকেল নেই, সুপার মার্কেটে গেছে রান্না ঘর এর সব কিছু নাকি ফুরিয়ে গেছে।
রান্না করা থেকে শুরু করে ঘর পরিষ্কার লন্ড্রি সব কিছুই সে করে।
আমাকে কিচ্ছু করতে দেয় না, মাঝে মাঝে বলি আমিতো কিছুটা সাহায্য করতে পারি তোমাকে।
শাসন এর সুরে বলে একদম না, তুমি কোন কাজ ছুঁতে পারবে না মাইর দিবো একদম।
পাগল একটা, আমাকে গোসল করানো থেকে শুরু করে খাওয়ানোটা ও যেন তার দায়িত্ব।
ছেলেবেলা থেকে আমি বিড়াল গোত্রীয় স্বভাব এর মায়ের আদর পেয়ে পেয়ে বোধয় ও রকম হয়েছি।
কিন্তু এখন দেখছি মাইকেল মায়ের কার্বন কপি।
মাইকেল আর আমি এক সাথে আছি বেশি দিন হচ্ছে না।
এইতো ৫ মাসের চেয়ে একটু বেশি হবে।
মাইকেল এর সাথে পরিচয়টা এখানকার এক লোকাল গে ক্লাব এ।
গত ৭ মাস ধরে আমি অফিস যাই না। বাড়িতে ও তেমন একটা ফোন দেয়া হয় না।
একটা কাল বৈশাখী জড় এসে আমার জীবনটা পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়।
তাই সারা দিন বাসায় থাকতাম আর রাত হলে ঐ গে ক্লাব এ গিয়ে মদ খেতাম।
ক্লাব এ গিয়ে আমি কারো সাথে কোন কথা বলতাম না। শুধু নিজের মত করে মদ খেয়ে বাসায় ফিরতাম।
আমি জানি ঐ-খানকার অনেকে এ আমার সাথে কথা বলার জন্য কাছে আসতো, অনেক এ মদ অফার করতো।
আমি এমন ভাবে তাকাতাম যেন আমাকে অফার করে বিশাল অন্যায় করে ফেলেছে সে।
অনেক এ ভাবতো আমি বোধয় কথা বলতে পারি না।
তারপর ও ঐ সাদা চামড়ার মানুষ গুলো আমার পিছু ছাড়ত না।
কারণ বোধয় একটাই আমার গায়ের শ্যামলা রঙ তার উপরে মেদহীন শরীর।
চেহারায় একটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব বোধয় এখনো রয়ে গেছে।
আগে থেকে এ জানতাম সাদা চামড়ার মানুষ গুলো আমাদের মত এশিয়ানদের দেখলে জিব এ জল ধরে রাখতে পারে না।
ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় ব্যাপারটা টের পেয়েছিলাম এবং অনেক এর সাথে সেক্স ও হয়েছে।
আমার অবশ্য অস্ট্রেলিয়ানদের খারাপ লাগতো না, উপভোগ ও করেছিলাম বেশ কিছু দিন।
কিন্তু এখন আমি শুধু অস্ট্রেলিয়ানদের নয় সবার থেকে দূরে দূরে থাকি।
কারণ ঐ যে বললাম এক কাল বৈশাখী জড়।
বেশ কিছু দিন খেয়াল করলাম তুমি আমার উপরে খুব নজর রাখছিলে।
যতক্ষণ আমি ক্লাব এ বসে থাকি তুমি কিছুটা দূরে বসে থাকো, আমি টয়লেটে গেলে তুমি আমার পিছন পিছন আসতে।
প্রথম কয়েক দিন আমার গাড়ি অবধি এসে দাঁড়িয়ে যেতে, আমি গ্লাস এ দেখতাম আমি চলে যাওয়ার পর ও তুমি দাড়িয়ে আছো।
আমি না দেখার বান করে এড়িয়ে যেতেম কিন্তু কয়েক দিন যাবত খেয়াল করলাম শুধু ক্লাব পর্যন্ত নয়,
তুমি আমার পিছন পিছন গাড়ি চালিয়ে আমার বাসার থেকে একটু দূরে দাড়িয়ে থাকতে।
আমি ঘরে গিয়ে জানালায় দেখতাম তুমি অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থেকে চলে যেতে।
এইভাবে কিছু দিন চলতে থাকলো, এক দিন আমার মন অনেক খারাপ তাই অনেক পেগ খেয়ে ফেললাম।
আরও দু পেগ অর্ডার দিলাম বুজতে পারছিলাম অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে, বাসায় যাওয়াটা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে।
একটু পর তুমি কাছে এসে আমার হাত ধরে বললে, আজ আর না দয়া করে এইবার উঠো।
আমি তোমার দিকে তাকিয়ে আছি, মুখে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না।
কারণ সবাই জানে আমি কারো সাথে কথা বলি না। ভাবলাম সবাই তাই জানুক।
আমি তোমার কথা না শুনে শেষ পেগটা ও মেরে দিলাম।
বুজতে পারছিলাম আমি নিজের উপরে নিয়ন্তন হারাচ্ছি তাই তাড়াতাড়ি উঠে বিলটা দিয়ে গাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম।
কিন্তু পারকিং এ যাবার আগেই মাথাটা ভার হয়ে উঠলো চোখে কিছু দেখতে পারছিলাম না।
মনে হচ্ছে সবকিছু ঘুরছে আমার চার পাশে আমি পড়ে যাচ্ছি নীচে।
বুজতে পারলাম কেউ এক জন আমাকে পিছন থেকে ধরে ফেলল আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসলো।
জানালায় সূর্যের আলো চোখে পরতে চোখ খুললাম বুজতে পারলাম আমি আমার বিছানায় শুয়ে আছি।
আমার গায়ে কাল রাতের জামা কাপড় গুলো নেই। গায়ে একটা চাদর দিয়ে ডাকা।
চিন্তা করতে লাগলাম কাল রাত এ কি হল। বাসায় কি ভাবে আসলাম।
আর জামা কাপড় পরিবর্তন করলাম কি করে।
বিছানায় উঠে বসতে বসতে খেয়াল করলাম কে যেন আমার রান্না ঘরে।
আমি চিৎকার দিয়ে বললাম কে ওখানে? দেখলাম কাল রাত এর সেই তুমি ।
হাতে দু কাপ কফি নিয়ে ভয়ে ভয়ে এগিয়ে আসলে আমার দিকে।
এ কি তুমি, তুমি এখানে কি করছ?আমি প্রশ্ন করলাম।
তার হাতের কফির মগ দুলছে বুজতে পারলাম। আমার চিৎকার শুনে ভয় পেয়ে গেছো।
আবার জিজ্ঞাস করলাম তুমি এখানে কেন?
সে অপরাধীর মত উত্তর দিল কাল রাতে তুমি বেশী খেয়েছিলে ফায়সাল।
আমি নিষেধ করেছিলাম তুমি শুনলে না। তারপর ওখানটায় মাথা ঘুরে পড়ে গেলে তুমি।
আমি তোমাকে ড্রাইভ করে বাসায় নিয়ে আসলাম।
আমি অবাক হলাম তুমি আমার নাম জানলে কি করে?
আমি আবার রাগের কণ্ঠে বললাম যা হয়েছে বুজতে পারছি।
এখন তুমি আসতে পারো, আমি একা থাকতে চাই দয়া করে দরজার দিকে পা বাঁড়াও।
তুমি আবার বললে তোমার শরীর অনেক খারাপ এত চিৎকার করাটা ভালো হবে না তোমার জন্য,
আমি বললাম সেটা আমি বুজবো দয়া করে এখন তুমি বিদায় হও।
যেতে যেতে বললে ফ্রেশ হয়ে কফিটা খেয়ে নিও আর দয়া করে আজকে ক্লাব এ এসো না।
আমি কিছু বললাম না। দরজাটা বন্ধ করে বাথরুম এ গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসলাম।
কফির মগটা হাতে নিলাম, এক চুমুক দিয়ে মনে হল সত্যি বেশ দরকার ছিল এ কফিটা।
তোমার কফিটার দিকে তাকিয়ে মন খারাপ হয়ে গেলো, বেচারা কফিটা খাওয়ার জন্য সময় দেয়া উচিৎ ছিল।
আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে মনে পড়ে গেল আমার অবস্থান এর কথা।
তখন ভাবলাম যা করেছি বেশ করেছি। আমি জানি অন্যায়টা একটু বেশি করেছি।
ঐ অবস্থায় বাসায় এনে কাপড় পরিবর্তন করে সারারাত জেগে থেকে পাহারা দিয়ে,
সকালে পছন্দের কফির মগ হাতে ধরিয়ে দিয়েছে।
এক কথায় বাসা থেকে বের করে দেয়াটা ঠিক হয়নি বুজতে পারছি। কিন্তু আমার আর কি বা করার ছিল?
কি লাভ মিছে মিছে মায়া বাড়িয়ে আমার এই কষ্টের জীবনের সাথে তাকে জোড়াতে চাই না বলে,
ঐ রকম একটা ব্যাবহার করতে বাধ্য হয়েছি আমি।
ঐ দিন রাতে ও আমি ক্লাব এ যাই, বরাবর এর মত ঐ দিন ও তুমি বসে আছো আমার থেকে একটু দূরে।
আমি না চেনার বান করে চলে আসি।
এই ভাবে কেটে গেলো কয়েকটা দিন।
এক দিন সকাল বেলায় মেইল বক্স খুলে দেখলাম অনেক গুলা চিঠি।
প্রায় সব গুলা এসেছে অফিসের লোক জন থেকে। শুধু একটা ছাড়া। চিঠিটা পড়তে লাগলাম।
শেষ করে মাকে ফোন দিলাম, কেন যেন বাচ্চাদের মত কাঁদতে লাগলাম।
নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না চিঠিটা পড়ে।
ঐ দিন রাতে ক্লাব এ গেলাম খুব তাড়াতাড়ি শুরু করলাম মদ খাওয়া।
রাত ১০টা বাজতেই আমি ফুল। বুজতে পারছিলাম আজকে বাসায় যাওয়া হবে না।
আজকে তোমাকে ও দেখতে পারছি না। না দেখে এক প্রকার খুশি হলাম, যাক আপদ দূর হল।
আমি টয়লেট এ গেলাম কিন্তু সব অন্ধকার দেখছিলাম চোখে।
আমি মায়ের কোলে শুয়ে আছি মা আমার চুলে হাত বোলাচ্ছে আর বলছে খোকা তুই এত শুকিয়ে গেছিস কেন বাবা।
মা মা চিৎকার করতে করতে চোখ খুললাম ।
বুজলাম আমি স্বপ্ন দেখছিলাম আর আমার বিছানায় শুয়ে আছি।
তুমি আমার পাশে দাড়িয়ে আছো কফির মগ হাতে নিয়ে।
আমি বিছানায় বসে চিন্তা করতে লাগলাম কাল রাত এর ঘটনা আর স্বপ্নটা নিয়ে।
দেখলাম তুমি কফির মগ টা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে দরজার দিকে চলে যাচ্ছিলে।
আমি বললাম একটু দাড়াও। তুমি দাড়িয়ে গেলো সামনের সোফাটা দেখিয়ে বসতে বললাম।
বাদ্য ছেলের মত বসে পড়লে সোফায়।
কফির মগে চুমুক দিয়ে বললাম আচ্ছা কেন পাগলামি করছ। কেন পড়ে আছো আমার পিছে।
তুমি আমার বেপারে কিছুই জানো না।
আমার কথা গুলো শুনে সোজা বাসায় চলে যাও। আর কোন দিন আমার পিছে পিছে এসো না।
শুনো আমার নাম ফায়সাল। আমি বাংলাদেশি, ৫ বছর আগে পড়তে এসেছিলাম এখানে।
তুমি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললে আমি সব জানি।
তোমার নাম, তুমি কথায় চাকুরী করতে সব জানি। এখন তুমি আমার ব্যাপারে শুনো।
আমার নাম মাইকেল, যদি ও আমি আমেরিকান, কিন্তু ৩ বছর ধরে এখানে আছি।
আমি তমাকে প্রথম দেখি নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটিতে তোমাদের একটা প্রোগ্রামে।
আমার এক ফ্রেন্ড এর সাথে আমি গিয়েছিলাম।
যদি ও আমি পেশায় ডাকতর আমার ফ্রেন্ড তোমার ইউনিভার্সিটির শিক্ষক।
ঐ দিন তুমি মঞ্চে একটা ইংরেজি গান করছিলে। আমার খুব ভালো লেগেছিল গানটা আর তোমাকে।
এর পর অনেক দিন আমি গিয়েছিলাম তোমার ইউনিভার্সিটিতে তোমাকে দেখার জন্য।
কিন্তু কোন দিন তোমার সামনে যাইনি। গত দুই বছর ৪ মাস ধরে প্রতিদিন তোমাকে আমি দেখছি।
আমি তোমাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, মাইকেল অনেক হয়েছে আর শুনতে চাচ্ছি না আমি।
মানছি অনেক কিছুই জানো আমার ব্যাপারে কিন্তু একটা বিশেষ কিছু হয়তো জানো না।
আমি মস্তিষ্কের ক্যান্সার নিয়ে বাস করছি যে কোন দিন আমি চলে যেতে পারি পৃথিবী ছেড়ে।
আশা করছি এখন থেকে তোমাকে আর আমার পিছনে দেখতে পাবো না।
মাইকেল এখন তুমি আসতে পারো আমার জন্য অনেক কিছু করেছো ধন্যবাদ তোমাকে।
তুমি একটু চুপ করে থেকে বললে, আমি তা জানি।
অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম কি জানতে তুমি।
কয়েক মাস আগে তোমাকে আমি সিডনি ক্যান্সার সেন্টারে দেখি।
তুমি চলে যাওয়ার পর তোমার ডাকতর এর কাছে শুনতে পাই তোমার মস্তিষ্কের ক্যান্সার আছে।
তারপর থেকে আমি তোমাকে দু চোখের আড়াল হতে দেয়নি।
আমি বললাম মাইকেল তুমি জানতে আমার মস্তিষ্কের ক্যান্সার আছে।
এবং আমি সামান্য কিছু দিন বেঁছে আছি। তারপর ও তুমি আমার পিছে লেগে থাকতে?
আমি কি জানতে পারি কেন?
তুমি বললে, কারণটা সোজা আমি তোমাকে পছন্দ করতাম আর এখন ভালোবাসি।
আমিতো আর কয়টা দিন বেঁছে আছি তা জেনেও তুমি আমাকে ভালোবাসো।
তুমি মাথা নেড়ে জবাব দিলে হা বাসি।
এবং ভালবাসবো বাকিটা জীবন তুমি পৃথিবীতে থাকো আর নাই বা থাকো।
আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না।
বললাম কাছে আসো তুমি কাছে এসে বিছানায় বসলে।
বললাম মগটা নিচে রাখো। তুমি তাই করলে।
আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম।
আর বললাম মাইকেল তোমার ভালোবাসা দেখে আমার বাঁচতে ইচ্ছা করছে।
আমার সত্যি আরও কিছু দিন বাঁচতে ইচ্ছা করছে তোমার সাথে।
তার পর দিন তুমি তোমার জামা কাপড় নিয়ে চলে এলো আমার বাসায়।
কাটতে লাগলো আমার জীবনের শেষ দিনগুলি।
তোমার এর কলিং বেল এর শব্দে অনুভূতি ফিরে ফেললাম।
ঘর অন্ধকার দেখে শুরু করলে চেঁচা মিচি।
আমি জানতাম আমি না থাকলে তুমি ঘর অন্ধকার করে কান্না জুড়ে দিবে।
তাই করছিলে-তো?
আমি বললাম আরে না। কি কি বাজার করলে। দেখি চলো রান্না ঘর এর দিকে যাই।
তুমি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললে একদম না। তুমি মাকে ফোন কর আমি রান্না ঘর থেকে আসছি।
বুজতে পারছি মাইকেল এসে আমার জীবনের শেষ কয়টা দিন আনন্দে ভরিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমার মা।
মা কি নিয়ে থাকবে বিছানায় শুয়ে গুমাতে পারি না মায়ের কথা চিন্তা করে।
একদিন মাইকেল কে বললাম আমার কফিন এর সাথে সে যেন বাংলাদেশে যায় ।
আমার হয়ে আমার মাকে জড়িয়ে ধরে। মাইকেল বলে,
সে নাকি তার জীবনের বাকি দিন গুলো আমার মা বাবার সাথে ভাগ করে নিবে।
আমি হাসি, জানি এক গাছের ছাল অন্য গাছে জোড়া লাগে না।
তারপর ও স্বপ্ন দেখি যদি তাই হতো মাকে অন্তত একা থাকতে হত না।
মাঝরাতে তুমি ঘুম থেকে উঠে আমার নাকের কাছে হাত নিয়ে পরীক্ষা করো।
আমার নিঃশ্বাস এখনো আছে কিনা, আমি ঠিক আছে জেনে একটা সস্থির নিঃশ্বাস ফেলে,
আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখো। আমি ঘুম এর বান ধরে থাকি।
আমার চোখে ঘুম আসে না…।
মনে মনে ভাবি আর কয়টা দিন আগে কেন আসলে না আমার জীবনে…
সব সমকামীদের জীবনে যদি এক জন করে মাইকেল থাকতো।
তাহলে হয়তো কেউই সমকামী জীবনকে ঘেন্না করতো না…।
তাই আমি হাসি মুখে, ভালোবাসার মানুষের বুকে শেষ নিঃশ্বাস নিতে চাই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s