অপ্রত্যাশিত

পর্ব-১

বিকেলের শেষ আলো শরীরটা ঘেঁষে বেড়াচ্ছে, অনেক দিন হল সূর্যের আলো গায়ে লাগেনি।
তাই করিডোরে বসে, তাকিয়ে আছি ঐ ডিমের কুসুমের মত রক্তিম আলোর বর্তিকার দিকে।
জানি এখন তুমি চলে যাচ্ছ পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে, অন্য কোন দিগ্বলয়কে আলোয় পরিপূর্ণ করতে।
পাখীর কিচির-মিচির শব্দে ভোরের ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগিয়ে,
জানি কাল সকালে আবার দেখবো তোমায় পূর্ব দিগন্তে।
কত মানুষের জীবনের আঁধার কাটিয়ে ভরে উঠবে তোমার নিয়ন আলোতে।
কিন্তু আমার জীবনটা ডেকে থাকবে ভরা অন্ধকারের কঠিন কালোতে।
জীবনটা কেন যে এমন হয় বলতে পারো হে দশ দিগন্ত?
কাজের বুয়ার কণ্ঠে ফিরে এলাম বাস্তবে, দূর কি ভাবছিলাম বসে বসে।
-মামা সইন্ধার সময় এহানে বইসা বইসা কি করেন। রাইতে কি খাইবেন কইলেন নাতো।
না খালা রাতে বাহীরে খাবো অনেক দিন বাহীরে যাওয়া হয় না।
তুমি একটা কাজ কর, কড়া করে এক কাপ চা করে দাও তো।
-আইচ্চা দিতাচি, তয় মামা হুনেন এই সইন্ধার কাইলে ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগাইলে-তো আবার অসুখে পরবেন।
মনে মনে বললাম, আর অসুখ।
মনের অসুখ সারাবার মত এমন কোন ওষুধ দুনিয়াতে নাইরে খালা।

আজ শুক্র বার একটা সময় ছিল শুক্র বারটার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকতাম।
সন্ধ্যা থেকে জামা কাপড় পরে তৈরি হয়ে থাকতাম।
রমনা পার্কে যাবো মনটায় অন্যরকম আনন্দের জোয়ারে বাসতে থাকতো।
যার হাতে হাত গুঁজবো বলে, ঐ চোখ দুটো একটুখানি দেখবো বলে।
সেই যাত্রা বাড়ীর পুরটা ট্রাফিক জ্যাম মাথায় নিয়ে রমনায় উদ্দেশ্য পা বাড়াতাম।
সে মানুষটা আজ আমার থেকে অনেক দূরে।
আচ্ছা সুমন এত কিসের তাড়া ছিল তোমার?
কেন এত অল্প সময়ের জন্য কাছে টেনে,
খুব যত্ন করে, অযত্নের অবহেলার মাঝে ছেড়ে দিলে আমায়।
আবার বুয়ার কণ্ঠ শুনতে পেলাম…।
-ও মামা ছা খাইবেন না ঠাণ্ডা হইয়া গেল যে।
হা আসছি বলে উঠে পড়লাম। চা খেয়ে ফ্রেস হয়ে ওয়্যার ড্রপের দিকে তাকালাম।
কি পরবো বুজতে পারছিলাম না। খুঁজতে খুঁজতে চোখ আটকে গেল ঐ হলুদ পাঞ্জাবীটার দিকে।
তুমি হুমায়ূন ভক্ত ছিলে খুব, সেই দিন হিমু মেলা হচ্ছিল অন্য মেলার শো রুম এ।
জড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দুই জন পোঁছালাম ধানমণ্ডিতে।
অন্য মেলায় তোমার যেতেই হবে।
বাধ্য হয়ে পিছু নিলাম তোমার, আমার শত আপত্তির পর ও এই হলুদ পাঞ্জাবীটা কিনলে।
তোমার ঐ একটাই কথা, হলুদ পাঞ্জাবী পরে তুমি আমার হিমু হবে।
অনেক দিন ঐ পাঞ্জাবিটা পড়েই রয়েছে, আজ পরলাম বাহীরে তেমন একটা ঠাণ্ডা নাই তবুও,
কালো শালটা গাঁয়ে জড়িয়ে নিলাম, কারণ এই শালটা তুমি দিয়ে বলেছিলে যখন তুমি এইটা পরবে।
মনে করবে আমি তোমাকে জড়িয়ে আছি। বাসা থেকে বের হয়ে রাজ পথে নামলাম।
ভাবতে লাগলাম,
হা সুমন ঠিক তাই, আমার সারা শরীর জুড়ে তোমার উপস্থিতি অনুভব করছি।

তোমার সাথে যতবার রমনায় এসেছি বকুল তলার ঐ বেঞ্চটাতে বসেছি।
শুক্র বার বলে কথা, আজকে তো রমনাতে সমকামীদের বাজার বসার কথা।
কিন্তু আচার্য হলেও সত্যি, বেঞ্চটা খালি পেয়ে বসে পড়লাম ঠিক মাঝখানটায়।
যাতে কেউ এসে ঘড়ির সময় আর সিগারেট এর নাম দিয়ে বসতে না পারে।
যে কথা সেই কাজ,
বলতে না বলতে একজন এসে বসে পড়ল আমার বাম পাশটা ঘেঁষে।
তাকে দেখে মনে হল তার মাঝে ভদ্রতার কোন বালাই নেই।
১০মিনিট চুপচাপ বসে ছিলাম কোন কথা বললাম না আমি।
একটু পর দেখলাম বেচারা মুখ খুলল।
-আমার নাম শাফিন আহমেদ। থাকি বারিধারাতে নিজের একটা বিজনেস আছে,
ওটা দেখাশুনা করছি, বয়স ৩৫ এর চেয়ে কিছুটা বেশি। আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে।
আমার বন্ধু হলে খুশি হব। হা শুধু বন্ধু অন্য কিছুর অফার করছি নারে ভাই।
ভণিতা ছাড়া সরাসরি কথা বলার কারণে অবহেলা করতে পারলাম না।
জি বলুন, আমি কি ভাবে আপনার বন্ধুর অভিযানের অংশ হতে পারি।
শাফিন একটু মুচকি হেসে কাশি দিয়ে, গলা পরিষ্কার করে নিয়ে বলে,
-যদি ভুল না করি তাহলে বলবো।
আপনার মন খারাপ, আর আপনি অনেক কষ্টে দিন পার করছেন।
হতে পারে আপনার প্রিয় কোন মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।
আমি কি সঠিক বললাম।
ভাবতে লাগলাম ব্যাপারটা কি কাকতালীয় না ইচ্ছাকৃত?
নাকি উনার বিশেষ কোন ক্ষমতা আছে।
আরে দূর, কি ভাবছি এইসব?
অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়লে দুই একটা ঠিক জায়গায় লাগারই কথা।
আর তাছাড়া, কালো শাল পরে, মুখে হাত দিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকলে,
যে কেউই বলে দিতে পারে, আমার মন খারাপ।
খুব শান্ত ভাবে মুখ খুললাম। জি বলতে পারেন কিছুটা ও রকমই।
তবে আপনি পুরাপুরি সঠিক ছিলেন না।
আমার কোন প্রিয় মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া অবধি ঠিক আছে।
কিন্তু সেইটা ইচ্ছাকৃত নয়।
আমার সেই প্রিয় মানুষটি মারা গেছে কিছু দিন আগে।
কথাটা বলতেই গলাটা কেঁপে উঠল কিছুটা।
অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম, হা সত্যিই আমরা মানুষরা পারি ও খুব।
মাত্র কিছু দিন হল সুমন মারা গেছে।
আর আজ আমি দিব্যি বসে গল্প করছি অন্য এক সমকামী মানুষের সাথে।
তার মরে যাওয়ার কথাটা অ-বলিল ভাবে বলে দিলাম?
উচ্চ মাধ্যমিকের বাংলা সাহিত্যে পড়েছিলাম একটি তুলসী গাছের কাহিনীতে,
“মানুষ প্রিয়জন হারানোর বেদনা যদি ভুলতে না পারতো,
তাহলে পৃথিবীটা শোকের মাতম আর বিলাপের শব্দে হাহাকার করতো”।
ঐ জন্যই বোধয় ভুলে যাচ্ছি তোমায়।
ফিরে আসলাম ভদ্রলোকের কথায় হা যা বলছিলাম।
দেখুন শাফিন সাহেব, আপনার সাথে কথা বলতে খারাপ লাগেনি বিধায়,
অনেকক্ষণ গ্যাঁজ গ্যাঁজ করলাম কিছু মনে করবেন না।
আপনি এখন আসতে পারেন।
আমি কিছুক্ষণ একা বসে থাকব এখানটায়।
আর হা, আমার দুঃখে দুঃখিত হবার দরকার নাই আপনার।
আপনি বরং বন্ধুর অফার অভিযান নিয়ে সামনে এগুণ।
পার্কটা চষে বেড়ালে, দু এক জন মিলে যেতে পারে।
আজ শুক্র বার খালি হাতে ফিরতে হবে না আপনার।
শাফিন বলে,
-দেখুন আপনার সাথে সেধে সেধে কথা বলেছি।
বুজতে পারছি আমাকে ফ্যালনা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে।
হয়তো ইতিমধ্যে আপনি সোজা একটা হিসাব কষে ফেলেছেন আপনার মনে মনে।
বেশ করেছেন আপনার জাগায় আমি হলে, ঠিক তাই করতাম।
কিন্তু দেখুন হে ক্ষণিকের পার্কের সঙ্গ-দানকারী,
দুঃখিত আপনার নাম জানি না তাই এই অদ্ভুত সম্ভাধন দিলাম।
আপনাকে বন্ধুর অফার দিলাম। যখন দেখলাম, আপনি মন খারাপ করে বসে আছেন।
দেখে মায়া লাগলো আপনার প্রতি।
আপনার সাথে বন্ধুত্ব হবে কিনা জানি না তবে একটা কথা বলতে পারি।
যে যাবার সে যাবে, তাকে ফিরে পাবার অপেক্ষায়,
পৃথিবী নামক মুরুভুমির রাস্তার ধুলো বালির মাঝে হাঁটতে হাঁটতে,
পানির পিপাসায় নিজের হৃদয় শুকিয়ে কি লাভ বলুন?
তবে হা আপনার ব্যাপারটা কিছুটা ভিন্ন, বুজতে পারছি।
আপনার প্রতিটি পদক্ষেপে হয়তো তার সাথে পার করা সময় গুলোর,
উপস্থিতির অস্তিত্ব, আপনি এখনো দেখতে পান।
কিংবা আপনি সেইগুলোকে খুঁজে বেড়ান বিধায়,
আপনার পায়ে পায়ে এসে দোল খাচ্ছে সেই সময় গুলো।
সেইসব দিন গুলো থেকে একটু বের হয়ে ঘুরে দাঁড়ান।
দেখবেন, আপনি ভালো থাকলে তার আত্মা খুশি হবে।
আপনার মুখের হাঁসির জন্য হয়তো, তার আত্মা আপনার পিছন পিছন ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সুতারং হাসুন।
নিজের জন্য বাঁচুন।
নিজেকে ভালবাসতে শিখুন অন্তত তার জন্য হলেও।
কথা গুলো বলে শাফিন একটা বড় করে শ্বাস নিলো।
আমি বললাম, বাপ রে মশাই আপনি পারেন ও বটে।
জাতীর উদ্দেশ্য নয়, আমার জন্য ভাষণটা জারলেন।
সাধুবাদ না দিয়ে পারছি না আপনাকে।
আর শুনুন, আমার নাম অমিত।
যাত্রাবাড়ীতে থাকি। একটা ইংলিশ মিডিয়ম স্কুলে পড়াই।
আর আপনার এই বিশাল ভাষণে কাজ হয়েছে মনে হচ্ছে।
কারণ আমার জমানো কষ্টের মেঘ গুলো আস্তে আস্তে সরতে শুরু করেছে।
আপনার বন্ধু হতে আপত্তি নেই।
আর আমার নাম্বারটা রেখে এখন বিদায় হন।
আমি কিছুক্ষণ একা থাকবো। একটা সিগারেট খেয়ে বাসায় যাব।
দেখলাম সাফিন একটা হাসি দিয়ে চলে গেল।
আমি বসে রইলাম সেখানটায় আরও কিচ্ছুক্ষণ ধরে।
বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১০ টা বেজে গেলো।
অবশ্য রাতের খাবারটা বাহীর থেকে সেরে এসেছি।
বিছানায় পিঠ ঠেকাবার আগেই, ফোনে রিং হতে লাগলো।
ফোন ধরতেই ও পাশ থেকে শান্ত গলায় আওয়াজ আসলো শাফিন বলছি।
মনে মনে বললাম এই যা। বাসায় আসতে না আসতে ফোন।
বিরক্তির কণ্ঠে বললাম, হা শুনছি বলুন।
তার পর থেকে প্রতিদিন তার ফোন পেতাম ঐ সময়টায়।
কিন্তু লক্ষ্য করলাম ও ঠিক ১০টা থেকে ১১টা অবধি কথা বলতো তার বেশি নয়।
আস্তে আস্তে এক জন আরেক জনকে জানতে লাগলাম।
এদিকে শাফিনের যাদুকরী কথা বার্তায়, আমি স্বাভাবিক হতে লাগলাম খুব তাড়াতাড়ি।
আগের মত হাঁসতে লাগলাম। ঠিক মত স্কুলে যাওয়া শুরু করলাম।

আয়নায় তাকিয়ে কথা বলতে লাগলাম।
বুজতে পারলাম আমি আবার প্রেমে পড়তে যাচ্ছি।
হায় সুমন, আমি খুব স্বার্থপর তাই না? তোমাকে ভুলে যাচ্ছি কত সহজে।
তোমার যায়গায় এখন শাফিনের অবস্থান।
জানো সুমন, শাফিন না অনেকটাই তোমার মত। আমার খুব খেয়াল রাখে।
আমার প্রতিটি কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে।
মাঝে মাঝে রেস্টুরেন্টে খেতে যাই তার সাথে।
তার বয়সটা আমার চেয়ে বেশি হওয়ায় বোধহয়, শাফিন অনেক মেচিউর।
কিন্তু বিছানাতে এক দম বাচ্চা ছেলেদের মত হয়ে যায়।
জানো কি পাগলামি করে? এক রাতে আমাকে দিয়ে ৭ বার সেক্স করিয়েছে।
এবার বুজো তাহলে কি পাগল একটা।
আমাকে তার ভিতরে নিয়ে নাকি সে শান্তি পায়।
আমিও পাগলের মত তার শরীরে জ্বালা মিটাতে থাকি।
তাকে আদর করতে থাকি।
কিন্তু তুমি একটু অন্যরকম ছিলে সুমন।
প্রথম দিন আমাকে তোমার ভিতরে নিতে গিয়ে,
কি রক্তা রক্তিটাই না করেছিলে নিজেকে।
সুমন এখনো মাঝে মাঝে তোমায় মনে পড়ে।
কিন্তু দেখ, বাস্তবিকতা তোমাকে মনের ভিতরে রেখে,
অন্য জনের সাথে বিছানা শেয়ার করি।
কিন্তু তাকেও আমি এখন ভালবাসি।
ঠিকই বলছি সুমন এইটাই হচ্ছে কঠিন বাস্তব।
বুয়ার কথায় বুজতে পারলাম কল্পনাতে ছিলাম।
-মামা কার লগে কতা কন?
না বুয়া কারো সাথে না । বল কি বলছিলে?
-আফনে ঈশকুলে যাইবেন না। কয়টা বাজে খেয়াল আছে?
ও হা তাইতো আচ্ছা বুয়া আমি গেলাম।
শুনো পারলে দুপুরে বুনা খিচুরি কর।
দেখলাম আকাশে মেঘ করছে বৃষ্টি নামবে হয়তো।
-আইচ্চা রান্ধুম্নি।

দুটো ক্লাস নিয়েই মাথা ধরে গেছে এত বক বক করতে হয় বাচ্চা গুলার সাথে।
সবে এসে বসলাম অফিস রুমে, এক কলিগ এসে বলল,
অমিত স্যার আপনার সাথে এক ভদ্র মহিলা দেখা করতে চান।
অভিভাবক কক্ষে বসে আছেন।
আমার সাথে তাও আবার মহিলা, অবাক হলাম কিছুটা।
তাকে বললাম আসছি আমি।
রুমে এসে দেখলাম মধ্য বয়সী এক মহিলা দাড়িয়ে আছে।
ঘরের ভিতরে ও সানগ্লাস পরে।
ভাবলাম কোন স্টুডেন্টের মা হবে হয়তো।
জী বলুন আপনার জন্য কি করতে পারি।
-আপনি অমিত।
জী আমি অমিত।
মহিলা আমার নীচ থেকে উপর পর্যন্ত এমন ভাবে দেখছে,
মনে হচ্ছে উনি কোন চিড়িয়া খানায় বাঁদরের কলা খাওয়া দেখছে।
-আমার নাম সেজুথি। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে রসায়ন পড়াই।
আপনার ছেলে মেয়ে কেউ কি আমার স্টুডেন্ট? প্রশ্ন করলাম তাকে।
-না আমি আপনার কাছে এসেছি অন্য কাজে। শাফিন নামে কাউকে আপনি চেনেন?
শাফিনের নামটা শুনে একটু ধমক খেলাম নিজের ভীতরে।
বললাম হা চিনি কি হয়েছে বলুন।
-আমি শাফিনের স্ত্রী।
কথাটা শুনে মাথায় রক্ত ছন করে উঠলো।
লাল হয়ে উঠলো দু চোখ। পৃথিবীটাকে লাথি মারতে ইচ্ছা করলো…………

**********************************************************


পর্ব-২(শেষ)

শাফিন বিবাহিত জেনেও নিজেকে নিয়ন্তন করেতে চেষ্টা করলাম।
স্বাভাবিক কণ্ঠে বললাম দেখুন আমার ক্লাস আছে।
আপনাকে বেশি সময় দিতে পারছিনা বলে দুঃখিত।
যদি কিছু বলার থাকে তাড়াতাড়ি শেষ করুন।
-না এখন তো সময় থাকবে না তোমার,
কিন্তু অন্যর স্বামীর সাথে শুয়ার জন্য, সময়ের সমুদ্র নিয়ে বসে থাকো নাহ?
কথাটা শুনে আমার রক্ত মাথায় চড়ে গেল।
যতটা ভদ্র মনে করেছিলাম তার কানা কড়ি নেই।
কিন্তু তারপর ও মাথা গরম করা চলবে না।
এইখানে আমার সম্মানটা বাঁচাতে হলে, মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে।
দেখুন আপনাকে পুনরায় অনুরোধ করছি মাজিত বাসায় কথা বলুন।
এইটা একটা শিক্ষাঙ্গন কোন জনসভার ময়দান নয়।
আপনি আস্তে বললে ও আমি শুনতে পারছি।
এবার গলার ভলিউমটা আরও বাড়িয়ে দিয়ে বলল।
-তোমার মত পুরুষ পতিতার জন্য এরচেয়ে ভালো ব্যাবহার আমার অভিধানে নেই।
খুব ভালোই কাবু করে ফেলছ শাফিনকে।
গত চারটি মাস আমি অপেক্ষা করেছি তোমার চেহারাটা একটিবার দেখার জন্য।
আর আমার স্বামী ও যে বিরাট গাধা, তোমাকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না।
আরে, তোর শরীর দরকার কোন মাগীর কাছে যা।
কোন সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে ফুর্তি কর, তাও মন কে বুঝাইতে পারাতাম।
কিন্তু সে ধরেছে তোমার মত এক বিহন্নলাকে।
কি আছে তোমার মাঝে, যা আমার মাঝে নেই?
কি মোহে পাগল করেছ আমার স্বামীকে।
হ্যালো এই যে একদম চুপ।
কথাটা একরকম চিৎকার দিয়েই বললাম তাকে।
আর পারলাম না নিজেকে নিয়ন্তন করতে। আমার চোখে পানি টল মল করছে।
কান দুটো আগুনের মত গরম হয়ে গেছে।
জীবনে এই প্রথম বার এতটা অপমান জনক বাক্য শুনলাম।
তাও কোন মহিলার কাছ থেকে।
একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে আবার শুরু করলাম।
ভালোই বলেছেন পতিতা।
হয়তো আপনার ভাই কিংবা আপনার বাবা ঐ পতিতালয়ে যায় বিধায়,
সেই বস্তী গুলার নাম পতিতালয় হয়।
শুনুন আমি আপনার স্বামীকে কাবু কিংবা যাদু কিছুই করিনি।
শাফিন ও আমাকে তেমন কিছু করেনি।
আর ঐ যে আপনি বলছিলেন,
শাফিন যদি কোন মেয়ের কাছে যেত আপনি সেইটা মেনে নিতেন।
হা হা হা খুব হাসি পেলো আপনার কথা শুনে।
আপনি কেন? পৃথিবীতে এমন কোন নারী আছে বলে মনে হয় না।
যে নিজেকে বুঝে, যে অন্যকে বুঝার চেষ্টা করে।
কিংবা খুব সহজে অন্য নারীকে মেনে নিতে পারে।
আর বলছিলেন, শরীরের কথা, হা আমার ও তাই মনে হয়।
আপনি হয়তো শরীরের উষ্ণতা খুঁজে বেড়ান তার মাঝে।
কিন্তু কখনো বুঝতে চাননি তার ভিতরটাকে।
হয়তো কখনো জানতে চাননি, তার মুখের একটু হাঁসির অর্থবধকতাকে।
হয়তো পারেননি তাকে পরিপূর্ণ সুখী করতে।
তা না হলে সে আমার মাঝে এসে, সুখের ছায়া খুঁজে বেড়াতো না।
আর শুনুন, পারলে আপার স্বামীকে শাড়ীর আঁচল দিয়ে বেঁধে রেখে দিবেন।
আর বলেছিলেন আমি বেহন্নলা।
বাহ শব্দটা কিন্তু মারাক্তক প্রয়োগ করলেন।
বেহন্নলা মানে হিজড়া।
শুনুন সেজুথি আমি হিজড়া হই আর পুরুষই হই আমি কিন্তু মানুষ।
আমাকে যিনি পাঠিয়েছেন আপনাকে ও তিনি পাঠিয়েছেন।
আমি একটা সমকামী ওহ সরি আপনার ভাষায় হিজড়া।
হা ঐ যাই বলেন, শুনুন আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি।
পারলে আপনার স্বামীকে আমার কাছ থেকে দূরে রাখুন।
আর একটি কথা ও না বলে সোজা চলে যান।
দরজাটা ও দিকটায়।
-আমি তোমাকে…।।
মহিলাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম নাহ, আর একটি কথা ও নয়।
মহিলা চলে গেল। আমি ওখানটা চেয়ারে বসে পড়লাম।
এত-বড় অপমান এক সাথে হজম করতে পারছিলাম না।
আর ভাবতে লাগলাম শাফিন আমার সাথে এমন করলো কেন?
সে কেন বলতে পারলো না সে বিবাহিত।
কত বার তাকে বলেছিলাম,
আমার সাথে মিথ্যা বলতে চেষ্টা করো না কোন দিন।
শাফিনকে কিচ্ছু বলা যাবে না।
ব্যাপারটা তার মুখ থেকে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
দুই দিন পর শাফিন বাসায় আসলো।
আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই থাকার চেষ্টা করছি।

-তোমাকে একটা কথা না বলে থাকতে পারছি না অমিত।
আমি বিবাহিত আমার স্ত্রী অধ্যাপিকা।
ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে রসায়ন পড়ায়।
আমাকে মাপ করে দাও অমিত।
আমি বললাম এত দিন বলনি কেন আমাকে?
-কারণ আমি ভয়ে ছিলাম যদি তুমি আমাকে ছেড়ে দাও তাই।
আমিতো তোমাকে এখনো ছেড়ে দিতে পারি। এখন ভয় করছে না তোমার।
-না করছে না।
তুমিই একদিন বলেছিলে সত্যি যত ভয়ংকরই হোক না কেন।
শুনতে তোমার খারাপ লাগে না।
বাহ কথাটা-তো ভালোই মনে রেখেছ দেখছি।
আমি একটা কথা বলতে গিয়ে চুপ মেরে গেলাম।
ভাবতে লাগলাম না তাকে আঘাত দিয়ে কথা বলা যাবে না।
কারণ আজ যদি আমি তাকে আঘাত দেই,
তাহলে সে চিরজীবন সত্য থেকে পিছু হটতে থাকবে।
ভয় পাবে সত্যর মোকাবিলা করতে। আর আমিতো সেজুথিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম।
যদি শাফিনের সাথে আমার জগরা হয় তাহলে জিতে যাবে সেজুথি।
তাকে জিততে দেয়া যাবে না।
আর আমিই বা কম যাই কিসে, আমারও তো ভালোবাসার মানুষ ছিল।
সেতো মরে গিয়ে বেছে গেছে। তা না হলে এই জামেলা পোহাতে হত না আমায়।
খুব ধীরে ধীরে শাফিনের দিকে তাকালাম, আর বলতে লাগলাম।
দেখ শাফিন, ভালোবাসা এমন কোন বস্তু নয় যে,
পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখবে তোমার চার দেয়ালের মাঝে।
কিংবা পোশাক বদলের মত নয় যে ভালো লাগলো না খুলে, ছুঁড়ে ফেলে দিলে।
ভালোবাসা এমন একটা জিনিস যা অনেকের কাছে ভাগ্যর ব্যাপার।
যদি সত্যি তাকে পেয়ে যাও,
তাকে অনাদরে অবহেলায় ছোট করো না যেন।
তাকে সম্মান করতে না পারো কিন্তু পায়ের জুতোয় নীচে ফেলো না।
সেজুথি তোমার অর্ধাঙ্গিনী, তাকে ঠকানোর কোন অধিকার তোমার নেই শাফিন।
তোমার স্ত্রী হিসাবে তোমাকে পরিপূর্ণ গ্রহণের অধিকার সে রাখে।
আমার কথা বাদই দিলাম, আমার অবস্থা আম কুড়ানোর মত,
কুড়ে পেলাম ধরে খেলাম।
তুমি-তো জানতে তুমি আসলে কি?
একটা নারীকে পরিপূর্ণ সুখে রাখার জন্য যথেষ্ট শক্তি তোমার শরীরে হয়তো আছে।
কিন্তু মানসিক ভাবে তুমি পরিপূর্ণ নয়।
কেন একটা মানুষকে তোমার জীবনে টেনে এনে দাড় করালে কঠিন বাস্তবতার?
-সেজুথি তোমার সাথে দেখা করেছিলো নাকি?
সেইটা বড় কথা নয় শাফিন।
তুমি যে বিবাহিত এবং সে তোমার স্ত্রী। সেইটা-তো সত্যি।
-হা অমিত। ভালো বলেছ আমি বিবাহিত।
সমকামী হবার সত্ত্বেও কেন আমি বিয়ে করলাম সেজুথিকে?
আমার ও একই প্রশ্ন, কেন?
তুমি শিক্ষক মানুষ নিশ্চয় তোমার অজানা নয়, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কথা।
তুমি যতই চেষ্টা করো,
তোমার ভিতর তুমি কে আবিষ্কার করতে, তুমি আসলে কি?
কিন্তু তোমার পরিবার, তোমার সমাজ কি তা মেনে নিবে।
যদি তুমি বল তুমি সমকামী।
হা আমি অপরাধী আমি সাহস করে বলতে পারিনি।
যখন দেখেছি আমার মায়ের ঐ চোখ দুটোর ছল ছল চাউনি।
চিৎকার দিয়ে বলতে পারিনি বাবার মুখের পাণে চেয়ে,
আমি কোন মেয়েকে নিয়ে সুখী হতে পারব না বাবা।
তাই বাদ্য হয়েছি সেজুথিকে মেনে নিতে।
কিন্তু দেখ, আজ আমি কতটা কঠিন বাস্তবতার মুখো মুখি দাঁড়িয়ে।
আমার মত সমাজে অনেক মানুষ আছে।
যারা দুই নৌকায় অবস্থান নিয়ে,
অবস্থানগত কারণ ভুলে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে ও, পারে না সফল হতে।
দেখ আজ তুমি, আমি কিংবা সেজুথি দাঁড়ীয়ে আছি কতো গুলো প্রশ্নের সামনে।
সমাজ কি আজ এগিয়ে আসবে আমাদের সাহায্যে?
এই সমাজ শুধু নিয়ম তৈরি করে, গলায় বেড়ি হিসাবে বেঁধে দিতে পারে।
আর সামাজিক জীব বলে আমাদের মেনে নিতে হয় ঐ নিয়মের গ্লানি গুলোকে।
অমিত, তোমার সামনে দাঁড়িয়ে, তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে আমার দ্বিধা হচ্ছে।
কারণ আমি তোমার অপরাধী।
অমিত তুমি জানো, যে ভালোবাসা ব্যর্থ ভাবে আকাশে মুক্ত থাকে।
অন্তরের মধ্যে সেই ধায় সঙ্গ।
যে ভালোবাসা বিশেষ ভাবে প্রতিদিনের সব কিছুতে যুক্ত হয়ে থাকে সংসারে।
সেই দায় অসঙ্গ।
দুটাই আমার চাই আমিত।
আমি চললাম অমিত, তুমি সুখে থেকো সবসময়।
আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে শাফিন চলে যাচ্ছে।
আমি বাঁধা দিতে পারছিনা।
আমার অভিধানে এমন কোন শব্দ নাই যে তাকে একটুখানি সান্ত্বনার বানী শুনাব।
কিন্তু সে যাচ্ছে খারাপ ও লাগছে না তেমন।
কারণ তার চার দিক থেকে মাথা চাঁটা দিয়ে জেগে উঠা,
সমস্যা গুলোর সমাধান তার নিজেকেই করতে হবে।
যদি সে হেরে যায় আমি ধরবো তার হাত। কারণ এ হারাতে জয়ী আমি হবো।
আমার খুব মাথা ধরেছে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে।
সময়ের হাতে ছেঁড়ে দিয়ে ঘুমাতে গেলাম।
কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল।
কে এলো সাত সকালে বুয়া আসার কথা তো নয়টায়।
চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খুললাম,
যা দেখলাম ভূত দেখলেও এতোটা বিশ্বময় হতাম না।
সেজুথি আপনি এত সকালে?
আমার বাসার ঠিকানা পেলেন কেমন করে।
-বলছি সব। তার আগে ঘরে তো প্রবেশ করতে দিবেন না কি?
ঐ দিনের এত অপমানের পর ও আমি ভদ্র ভাবে কথা বলছি।
কারন সেজুথির মুখ দেখলে বুঝা যায়, কাল রাতে ঘুমায়নি সে।
ভোরের জন্য অপেক্ষা করেছে।
এমন একটা ভাব তার মুখে দেখলাম, একটি নির্লিপ্ত হাসি,
তাতে একটুও রাগ নেই, স্পর্ধা নেই, অভিমান নেই।
বললাম আরে আসুন আসুন।
কি দিব চা না কফি?
-ভাই চা কফি পরে হবে। আগে টয়লেটের দিকে যান ফ্রেশ হয়ে নিন।
মুখে একটু হাঁসি দিয়ে বললাম ওহ তাইতো।
আচ্ছা আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি, চা কফি চাইলে নিজে করে নিন।
বুয়া এখনো আসেনি ব্যাচেলর মানুষ একা থাকি। রান্না ঘরটা ওদিক টায়।
ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি সেজুথি ২ কাপ চা নিয়ে বসে আছে।
বললাম বাহ ভালো তো।
প্রতিদিন যদি এমন করে সকাল বেলায় চা পেতাম, খারাপ হত না। হা হা।
-আচ্ছা অমিত নামটা কে দিল?
আমার বাবা।
-তা নাম যেহেতু অমিত কোন লাভন্ন্যকে ধরলেই পারতেন।
শাফিনকে কেন?
আমি বললাম, আপনি লাভন্ন্য হয়ে কোন শোভন লাল কে ধরলেই পারতেন।
শাফিনকে কেন?
-শুনুন আমার সাথে রবি ঠাকুরের শেষের কবিতা কব্জাবেন না।
আমার বিষয় রসায়ন হলে বাংলায় কম যাই না।
হাঁ তাতো দেখতেই পারছি।
-আচ্ছা অমিত, শাফিন আপনাকে কেন এত ভালোবাসে। আমাকে নয় কেন?
আমি একটু হেঁসে বললাম,
রবি ঠাকুরকে যেহেতু সকালবেলায় ঘুম থেকে জাগিয়ে দিলেন।
তো উত্তরটাও শেষের কবিতা দিয়েই হোক।
আপনার সাথে শাফিনের সম্পর্কটা ভালোবাসারই কিন্তু সে যেন ঘড়ায় তোলা জল।
প্রতিদিন তুলে ব্যাবহার করে হয় সেই জল।
আর আমার সাথে শাফিনের যে ভালোবাসা সে রইলো দীঘি।
সে ঘরে আনবার নয়। শাফিনের মন সেখানে সাতার দিবে।
-ভালোই বলেছেন। তাইতো এই সকাল বেলা আপনার দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমি।
দুঃখিত ভয় পাবেন না।
আমি শাফিনকে আপনার কাছে ভিক্ষা চাইতে আসি নি।
আবার ঐ দিনের ব্যাবহারের জন্য ক্ষমা ও চাইতে নয়।
আমি এসেছি, যে জড় আমাদের তিন জনকে সাদা মেঘের মাঝে উড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে তার সমাধান দিতে।
কাল রাতে শাফিন আপনার কাছ থেকে ফিরে গিয়ে, মুখো মুখি হয় আমার।
বলতে থাকে তার জীবনের অপ্রকাশিত না জায়েজ কষ্ট গুলোর ব্যাথা।
আমি কাল রাতে আমার জীবনে, সব চেয়ে কঠিন সময় পার করেছি।
সকালে সিধান্ত নিয়ে, শাফিনকে না জানিয়ে আপনার দরজায় চলে আসলাম।
আমি বললাম তা কি সিদ্ধান্ত নিলেন শুনি।
-হাঁ বলছি, দেখুন অমিত।
আমি চাইলে শাফিনকে পুরা-পুরি ভোগ করতে পারি।
আইনত শাফিন আমারই। তার সব কিছুর অধিকার শুধু আমার।
কিন্তু ঐ যে বললাম অধিকার, সেটা জোর করে আদায় করা যায় না।
আমি হয়তো আদালতে যেতে পারি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সমর্পকের পরিণতি কি দাঁড়াবে?
তালাক?
বিনিময়ে আমি পাবো কিছু টাকা। কি হবে ঐ টাকা দিয়ে ।
টাকা আমার নিজের কম কিসের। কিন্তু যেটা কম সেটা হল ভালোবাসা।
যদি আদালত করতে যাই,
শাফিনের মাঝে তার ভালবাসার কানা কড়িও অবশিষ্ট থাকবে না আমার জন্য।
দেখুন, কাল রাতে প্রথম বার এর মত শাফিনের সাথে খোলা খুলি কথা বলে,
জানতে পারি তার ভিতরটাকে।
শাফিন আমাকে ভালোবাসে না তা কিন্তু নয়।
শাফিনের মাঝে দুইটা সত্ত্বা কাজ করে। যা আমার জন্য সাথে অমিতের জন্য।
শাফিন ছেলেবেলা থেকে ছেলে মেয়ে উভয়কে পছন্দ করে।
কিন্তু সমাজ আর পরিবারের চাপে পড়ে,
চেপে রেখেছিল একটা অধ্যায় কিন্তু আর কত?
সত্য এক দিন না এক দিন বের হয়ে আসবেই। হল ও তাই।
কিন্তু আমি শাফিনকে অনেক ভালোবাসি যেমন করে শাফিন আপনাকে।
আমি যদি আপনার থেকে,
শাফিনকে আদালত কিংবা পরিবার অথবা সমাজের ভয় দেখিয়ে কেঁড়ে নেই।
তাহলে আমার সাথে যে বাস করবে, সে হবে রক্ত মাংসে গড়া এক পুতুল।
তার কষ্ট আমি বয়ে বেড়াতে পারবো না।
আর পারবো না আমার ভালবাসাকে অবহেলা করতে।
আবার আপনার প্রতি তার ভালোবাসাকে অস্বীকার করার সাহস ও নেই আমার।
শুনুন অমিত আমি এখন আপনাকে যা বলবো বাস্তবে তা ঠিক হবার নয়।
শুধু রূপালী পর্দায় দেখতে পাওয়া যায়।
কিন্তু আমি করছি। যদিও আমি যত আধুনিক আর উচ্চ শিক্ষিত নারী হই না কেন।
স্বামীর ভাগ দেয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
হা সেইটা কাল অবধি ছিল।
আজ আমি শুধু এক নারী নয়। আমি এক ভালোবাসার কাঙ্গালিনী।
তাই এই ঘুণে ধরা সমাজ কে বুড়া আঙুল দেখিয়ে,
আমি বদলাবো এই সমাজের নিয়মকে।
হা অমিত আমি ঠাণ্ডা মাথায় বলছি।
শাফিন তোমার আর আমার দুজনের।
এস আমরা দুজন মিলে তার জীবন,
আর আমাদের জীবনটাকে আনন্দে বাসিয়ে দেই।
এখান থেকে যাবার পর শাফিনকে পাঠাবো বাকীটা তুমি বুঝবে।
আমি বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে গেলাম।
ইচ্ছা করছিলো এই মহিলাকে একটা সালাম দেই।
যাইহোক আবেগ সামলিয়ে বললাম, সেজুথি আপনার তুলনা হয় না।
এক জন নারী চাইলে সব কিছু পারে আপনি তার দ্বেষ্টান্ত।
যদিও বাস্তবে একজন নারীকে এ রকম পাওয়া মুশকিল আমাদের সমাজে।
কিন্তু আর কত চুপ করে থাকবো আমরা।
তাই সেজুথি, অমিত আর শাফিনের মাধ্যমে না হয় শুরু হক সমকামিতার সাতকাহন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s