“রেড বার্ড এবং একা একজন”

আমি আকাশ ।
এটা আমার বাবা মার দেয়া নাম নয়, আমার নিজের দেয়া নাম।
আমি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বি.বি.এ পড়ছি ।
সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে আমি একজন নিসঙ্গ মানুষ ।
প্রতিটা নিসঙ্গ মানুষের তার নিজস্ব একটা পৃথিবী থাকে ।
আমার সেই পৃথিবীতে বাবা, মা ও আমার বড় বোন ছাড়া উল্লেখ করার মতো কেউ নেই। বাবা মাকেও যে খুব কাছে পেয়েছি তাও না !
বাবা বিজনেসের জন্য ঢাকা- চিটাগং করতেন ! বাসায় কখন আসতেন বা যেতেন আমি দেখতাম না !
১ বৎসর আগে হার্ট অ্যটাক করেছেন বাবা ।
ডাক্তার সম্পূর্ণ রেস্টে থাকতে বলেছেন তাই এখন বিজনেস বন্ধ ।
আর আমার মা হচ্ছেন ওয়ার্ড কমিশনার।
একজন নিসঙ্গ মানুষ যা হয় আর কি। আমি ও সেই রকম। প্রচণ্ড রকমের বই প্রীতি।
সারা দিন রাত বই পড়তে পারি। বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ বলতে গেলে ভার্সিটিতে যাওয়া, আপুর সাথে সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখা ও মাঝে মাঝে শপিং। কিন্ত আপুর বিয়ের পর আমি আরও নিসঙ্গ হয়ে পড়ি। এই হচ্ছে আমার অবস্থা ।এবার আমার গল্প শুরু করা যাক ।
পহেলা মে ২০১৩ ।
ফেসবুকে হাজার হাজার ফেক মানুষের ভিড়ে আমি প্রথমবারের মতো সত্যিকারের একজন কে খুঁজে পাই। যায় সাথে চ্যাট করে আমার মনে হয়েছে আমার নিসঙ্গ দুনিয়ার অবসান হবে তাকে পেলে ।
তার নাম আনন্দ ।
আনন্দ কে আমার অন্য সবার থেকে একটু আলাদা মনে হয়েছে । প্রথম দিনই আমি তার প্রেমে পরে যাই। কিন্ত তাকে সে কথা বলার সাহস পাই না ! আমি সারারাত ব্যপারটা নিয়ে চিন্তা করি, আমি ঠিক করছি তো? আমি যদি আনন্দকে আমার লাইফ পার্টনার করি তাহলে অনেক প্রব্লেম এর মুখোমুখি হতে হবে। আমি কি সেগুলো ফেস করতে পারবো ? আমার ফ্যামিলি, সোসাইটিকে জবাব দিতে পারবো ?
এক সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, না! আমি পারবো ।
পরের দুই ও তিন তারিখ তার সাথে অনেক চ্যাট হয় এবং খুবই ভালো একটা রিলেশন হয়।
আমি তার রিয়েল আই.ডি নেই। তার ছবি দেখি। তার চোখ গুলো অস্বাভাবিক সুন্দর। লাল পাঞ্জাবিতে তাকে ভয়ংকর রকমের সুন্দর লাগছিলো।

আমি আনন্দকে পছন্দ করি সেটা আমার অন্য এক এফ.বি ফ্রেন্ড কে বলি।
তার কথা মতো আমি আনন্দকে চার তারিখ বিকালে ফেসবুকে চ্যাটে প্রপোজ করি।
কারন আমি না বললে তো আনন্দ কখনো জানবে না যে, আমি তাকে ভালোবাসি।
সে খুবি অবাক হয়, হঠাৎ আমার প্রপোজ শুনে।
আনন্দ আমাকে একটু একটু লাইক করতো সেটা আমি বুঝতে পারতাম। কিন্ত সেটা অনলি ফ্রেন্ড হিসেবে। আমি তাকে বলি, প্লিজ গিভ মি এ চান্স। আমি তোমাকে কতটা লাভ করি সেটা প্রমান করতে চাই এবং আমি তোমার এই লাইককে লাভে টার্ন করবো ।
ও আমাকে বলে, জাস্ট ক্লোজ ইউর আইস । থিংক এবাউট ইউর লাইফ পার্টনার। অ্যান্ড টেল মি দা হোল থিঙ্কস হোয়াট এভার ইউ থিংক।
আমি আমার চোখ বন্ধ করলাম।
দেখতে পেলাম, আমাদের সমুদ্রের পাশে ছোট্ট একটা বাড়ি।
আমাদের ছোট্ট একটা বেবি(adopt করা) সে কান্না করছে। আমি বেবিটার জন্য দুধ বানাচ্ছি, এবং আনন্দ তার কান্না থামানোর চেষ্টা করছো।
সে আমাকে বলে আর কিছু দেখনি? তোমার লাইফ পাটনার দেখতে কেমন? তুমি তার কাছে কি চাও এই সব কিছু?
আমি তাকে বলি আমি সত্যি বলছি, এর বেশী কিছুই দেখিনি।
আনন্দ বলে ঠিক আছে, আমি কাওকে হার্ট করতে চাই না! কিন্ত আমি এত তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত নিবো না! আমি তোমাকে দেখবো তুমিও আমাকে দেখ। ফেসবুকের হচ্ছে ভারচুয়াল ওয়ার্ল্ড। এখানে রিলেশনসিপের কোন ইম্পরট্যান্ট আমার কাছে নেই। আমরা দেখা করবো তখন রিয়েল ওয়ার্ল্ড এ সিদ্ধান্ত নিবো কি করবো। আনন্দ আমাকে তার ফোন নাম্বার দেয়।
আমি রেড বার্ড নামে সেটা সেভ করি।
পরে ৫ ও ৬ তারিখ হারতাল ও অবরোধ থাকার কারনে আমরা শুধু ফোনে ফোনে কথা বলতাম।
অনেক কথা হত। রাত ৩.৩০-৪ টা পর্যন্ত কথা বলতাম। পরে ৭তারিখ সকালে আমার মাই গ্রেন এর পেইন ওঠে। আমি শুয়ে ছিলাম।
ঠিক ১১ টায় আনন্দ আমাকে ফোন করে বলে, বেইলি রোডে দেখা করতে। আমি এখনি আসতে চাইলে ও আমাকে আস্তে-ধীরে বিকালে আসতে বলে।
কিন্ত আমি ওকে রিকোয়েস্ট করি এক সাথে লাঞ্চ করার জন্যে। ও রাজি হয়। আমি রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হই (আমার বাসা ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে।)
অবাক হয়ে লক্ষ্য করি আশ্চর্যের ব্যাপার আমার মাথা একটুও ব্যথা করছে না! যাই হোক।
আমার দুপুর দুইটায় কে.এফ.সি সামনে থাকার কথা। কিন্ত আমি ভয়ানক জ্যাম ও এর সাথে ছিল বৃষ্টির কারনে দুই ঘণ্টা লেট করি!
আমি যখন প্রথম ওকে দেখলাম আমার কি যে ভালো লাগলো বলে বুঝাতে পারবো না!
কারন আমি ওকে বলেছিলাম রেড কালারে ওকে অনেক ভালো লাগে।
আনন্দ ওই দিন রেড টি-শার্ট ও রেড স্নিকারস পরে ছিল।
কিন্ত ও অনেক রেগে ছিল লেট করাতে, পরে ওর রাগ ভাঙিয়ে এক সাথে লাঞ্চ করি।
আনন্দ আমাকে বলেছিল চকলেট ওর অনেক ফেবারিট তাই আমি ওর জন্য এক বক্স কেটবেরী চকলেট নিয়ে যাই। প্রথমে ও নিতে চায়নি। পরে অনেক জোর করে দেই। লাঞ্চ এর পর আনন্দ এর স্কুল লাইফ এর বেস্ট ফ্রেন্ড জিতু(ছদ্ম নাম) আমাদের সাথে জয়েন করে।
জিতু straight হলেও চিন্তা ভাবনায় অনেক আধুনিক ছিল।
ও আনন্দ এবং আমার ব্যপারটা জানতো।
বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা এই ৪ ঘণ্টা আমি আনন্দের সাথে কাটাই।
নিঃসন্দেহে এই ৪ ঘণ্টা আমার লাইফের বেস্ট টাইম বলা যায়।
আমরা বেইলি রোডের এক মাথা থেকে আর এক মাথা হাটি।
সোডিয়াম লাইট এর আলো, সাথে হালকা হালকা বৃষ্টি।
এক কথায় অসাধারণ পরিবেশ ছিল।
যখন আমরা বেক করবো তখন রাস্তা পার হয়ার সময় আনন্দ আমার হাত ধরে, সেটা খুবই অল্প সময়ের জন্য হলেও আমার লাইফের বেস্ট মোমেন্ট ছিল সেটা ।

পরে আমরা রিক্সা নেই।
রিক্সা কিছুখন এক সাথে চলার পর দুই রিক্সা দুই দিকে চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনি আমার চোখে পানি চলে আসে।
কারন আমি দেখি আনন্দ আমার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে এবং ও তাকিয়ে থাকলো যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে দেখা যায় ।
এর মাঝে দুই দিন যায়। ফোনে অনেক কথা হতে থাকে।
পরেড় শুক্রবার আমরা ঠিক করি বসুন্ধরা সিটিতে দেখা করবো ।
আনন্দ কথায় কথায় আমাকে বলেছিল তার ওয়েব কেমটা নষ্ট হয়ে গেছে !
আমি ওর জন্য একটা ওয়েব কেম কিনে সকাল সকাল ওর বাসার সামনে যাই এবং ওখান থেকে রিক্সা নিয়ে দুই জন এক সাথে বসুন্ধরাতে পৌছাই যাতে অনেকটা সময় দুইজন রিক্সা করে ঘুরতে পারি।
ওখানে যেয়ে আমি ওকে ওয়েব কেম টা গিফট করি।
ও নিতে চায়নি। বার বার বলছিল কি দরকার ছিল ? আমি জোর করে কেমটা ওর হাতে দেই।
ওই দিন আমরা টেলিভিশন মুভি টা দেখি।
পুরো মুভি চলার সময় আমরা দুই জন, দুই জনের হাত ধরে থাকি।
দুপুরে এক সাথে লাঞ্চ করি। বিকাল দিকে ধানমণ্ডি লেকে যাই।
তখন ও জিতুকে কল করে আসার জন্যে।
জিতু আসতে আসতে ও জিতুকে নিয়া কথা বলতে থাকে।
জিতু খুবি মেধাবী, সবাইকে মেনেজ করে চলতে পারে, গুড লুকিং ।
আমি তখন ওরে জাস্ট এমনি কথাটা বলি যে, জিতু straight না হলে ভালো হতো। তুমি ওর সাথে রিলেশন করতে পারতা।
ও তখন বলে জিতু আমার ভালো ফ্রেন্ড। আমি ওকে নিয়ে এই সব চিন্তা করতে পারি না। হঠাৎ কেন এই কথা বল্লা ?
আমি বললাম, জাস্ট এমনি বললাম কারন সবাই তো এক জন পারফেক্ট পার্টনার চায়।

ব্যাপারটা নর্মাল হয়ে যায় ও কিছু আস্ক করেনি!
ওই দিন বাসায় এসে রাতে নর্মালি কথা হয়।
সমস্যা শুরু হয় পরের দিন থেকে ! ও নর্মালি কথা বলছিল না !
আমি বুঝতে পারি সামথিং ইজ রং !
অনেক আস্ক করার পর বলে, আমি জিতুকে নিয়ে এমন কথা কেন বললাম ?
ও আমার চোখে মুখে জিতুকে নিয়ে জেলাস দেখতে পেয়েছে !
জিতু ওর বেষ্ট ফ্রেন্ড তাই ব্যাপারটা ও ভুলতে পারছে না !
আমি ওরে অনেক সরি বলি। অনেক মাফ চাই এবং অনেক বার বলি যে আমি জিতু কে নিয়ে জেলাস না !
আমি জাস্ট এমনি কথা গুল বলেছি । এত কিছু চিন্তা করে বলিনি।
কিন্তু ও আমাকে বিশ্বাস করে না !
পরের দিন ও বাসা থেকে একা একা বের হয়, কারন তার নাকি মন অনেক খারাপ লাগছিল।
আমি আসতে পারছিলাম না কারন হরতাল ছিল। আমি ওকে বার বার ফোন করছিলাম এবং ওকে বাসায় যেতে বলচ্ছিলাম কিন্ত ও যাচ্ছিল না!
ও আমাকে বলছিল রিলেসন নিয়ে কি করবে বুঝতে পারছে না।
আমি কেন জিতু কে নিয়ে এই কথা বললাম।
তখন আমার নিজের অনেক খারাপ লাগছিল।
বার বার মনে হচ্ছিল ও আমার উপর রাগ করে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছে।
তাই নিজেকে অপরাধী লাগছিলো।
একটা পর্যায় আমি কান্না করে দেই।
তখন ও কিছুটা নরলাম হয় এবং আমাকে শাওয়ার নিয়ে লাঞ্চ করতে বলে।
পরে রাতে ও পরের দিন সকালে নরলাম কথা হয়।
আনন্দ আমাকে মামাস বয় বলতো কারন আমি এখন ও আম্মুর হাতে খাই বলে।
আমি বলতাম হু এখন আম্মুর হাতে খাচ্ছি।
পরে যখন আমরা এক সাথে থাকবো তখন তোমার হাতে খাবো ও ফাজলামি করে বলতো না!
ওরেই খাইয়ে দিতে হবে, আমি না খাইয়ে দিলে ও ফেসবুক থেকে অন্য কাউকে খুঁজে নিবে।
আনন্দ দেখতে অনেক সুন্দর।
ও বলতো ওর বডি গার্ড রাখবে।
আমি তখন বলতাম আমি আছি না! আমি তোমার বডি গার্ড।
ও বলতো না থাক পরে তোমার কিছু হলে কমিশনার আন্টি আবার আমাকে জেলে ঢুকাবে।
ফেসবুকে যেয়ে বললে অনেকে চলে আসবে বডি গার্ড হতে।
এমন করে ভালোই চলছিল।

আবার সমস্যা শুরু হয় ১৪ তারিখ সকালে !!
আমি সব সময় ঘুম থেকে উঠেই আগে ওকে কল দিয়ে গুড মর্নিং বলতাম।
তখন আমি ওকে বলি সিনেপ্লেক্সে ইউরোপিয়ান ফিল্ম ফেষ্টিভল শুরু হবে চলো দেখতে যাবো।
কিন্ত ও না করে। মুভি দেখবা না।
তখন আমি বলি ওকে থাক তোমার যেহেতু দেখতে ইচ্ছা করছে না সো দেখবো না!
পরে আমি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে ফেসবুক ওপেন করে দেখি ও এক জায়গায় বলেছে ও সিঙ্গেল, এবং ওর একটা ছবিতে দেখি অনেক কমেন্ট দেয়া।
ছবিটা বসুন্ধরাতে তোলা।
ওর এক ফেসবুক ফ্রেন্ড এর সাথে হেং আউটে গিয়েছিল তখন তুলে দিয়েছে।
ব্যাপারটা আমার কাছে খুব খারাপ লাগে!
আমি তখন ওকে চ্যাটে বলি আমার সাথে যেতে ভালো লাগে না ?
কিন্ত ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এর বন্ধুর সাথে তো ঠিকি যাও।
চ্যাট এ ও কিছুই বলেনি!
দুপুরে আমি যখন ওরে ফোন দেই তখন বুঝতে পারি ও আনেক রেগে আছে!!
আমাকে বলে কি সমস্যা ? তুমি একই কাজ দুই বার করলা। তোমার মধ্যে জেলাসি ভরা! তুমি আমার ক্যারেক্টার নিতে প্রশ্ন তুলো? আমি কার সাথে কোথায় যাবো সেটা আমার ব্যাপার।
আমি তখন বলি আনন্দ এত রেগে আছ কেনো? আমি তো ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এ কথা গুলা বলছি, তুমিত বলেছ ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এর কাথার কোন মূল্য তোমার কাছে নেই!

তখন ও আরও রেগে যায় এবং আমাকে বলতে থাকে, তুমি আমার কথা আমার বিরুদ্দধে ব্যবহার করছো? আমার কাছে আমার লাইফ, ফেমিলি ফ্রেন্ডের ইম্পরট্যান্ট অনেক বেশী! আমি কি করবো না করবো সেটা আমার ব্যাপার। আমি কারোটা খাই না! পরিও না। তুমি জানতে চাচ্ছিলানা আমি তোমার সাথে রিলেসন রাখবো কিনা? সেটার জবাব এখন দিচ্ছি। না আমি তোমার সাথে রিলেসন করবো না! তোমাকে আমি আলাদা ভেবেছিলাম। কিন্ত তুমি ফেস বুকের অন্য ৮-১০তা টিপিকাল মানুষের মতই। আমি এখন জিতু কে ফোন দিবো, তুমি ওরে নিয়ে খারাপ চিন্তা করছো এর জন্য ওরে সরি বলবা।

পরে ও জিতুকে ফোন দেয় কিন্ত জিতু কথা বালে না!
জিতু নাকি ওরে বলছে সরি বলতে হবে না। ও কিছু মনে করেনি এবং ও আমাকে দেখা করতে বলে কারন আমি যে গিফট গুলো দিয়েছি সেগুলো ব্যাক করবে !
আনন্দ এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে যায়।
আমি এতটাই অবাক হই যে একটা ওয়ার্ড ও মুখ থেকে বের হয় না!

আমার কিছু কথা বলার ছিল কিন্ত বলতে পারিনি…… সেগুলো হচ্ছে
…………………………………………………………………
আনন্দ কি ভাবে কি বলবো জানি না !
আমার বলার ভাষা নেই !
আর বলেও তো লাভ নেই ! কারন সবতো শেষ!
কিন্ত তার পরেও শেষ কিছু কথা বলি। হ্যাঁ আমি আজ জেলাসি হয়েছি ! কারন এই তোমাকে ফিল্ম ফেস্টিবলের কথা যখন বলেছি তখন তুমি বলেছ যেয়ে কি করবো? কিন্ত যখন দেখলাম তুমি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এর ফ্রেন্ড এর সাথে হেং আউট করেছো ।
হ্যাঁ আমি জেলাস হয়েছি যখন তুমি বলো আমাদের মধ্যে ফ্রেন্ডসিপ ছারা কিছু নেই (তাহলে সিনেপ্লেক্স কি ফ্রেন্ড এর হাত ধরে বেসে ছিলে ?
হ্যাঁ আমি জেলাস হয়েছি যখন কেউ তোমাকে বলে বয় ফ্রেন্ড নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে এবং তুমি বলো তুমি সিংগেল।
হ্যাঁ আমি জেলাস হয়েছিলাম যখন তুমি বলো তোমাকে খাইয়ে দেয়ার জন্য তুমি ফেস বুক থেকে কাউকে খুজবে !
হ্যাঁ আমি জেলাস হই যখন তুমি বডি গার্ড রাখার কথা বলো!!
আনন্দ তুমি শুধু আমার জেলাসি দেখেলে, কিন্ত তার পিছনে কিতখানি ভালোবাসা কাজ করেছে সেটা দেখলেনা ! খুব সুন্দর ভাবে বলে দিলে আমি ফেস বুকের অন্য টিপিকেল মানুষের মতো !
কিন্ত এই টিপিকেল মানুকে এক বারও বুঝতে চেষ্টা করলানা।
আর একটা কথা আমি তোমাকে ২০০% বিশ্বাস করেছি ও করবো ! সে ক্ষেত্রে তোমার চরিত্রে উপর আঙুল তোলা প্রশ্নেই আসে না ! আমি তোমাকে যে ভালোবাসি সেই ভালো বাসার প্রতিজ্ঞা করে বলছি। আমি জিতুকে নিয়ে কখনো জেলাস হইনি। কিন্ত তুমি আমাকে বিশ্বাস করলে না!
শেষ কথা! আনন্দ জোর করে কাউকে ভালোবাসা যায় না ! কিন্ত আমি অপেক্ষা করবো যদি কখনো তোমার ভুল ভাঙ্গে !

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s