ভালোবাসার লোভ-লালসা


অভির সাথে পরিচয়টা হয়েছিলো ইরার জন্মদিনে। বাবা মার এক মাত্র মেয়ে ইরা।
বাবার কালো টাকার পাহাড়, তাই মেয়ের জন্মদিনে জাঁকজমকের কমতি রাখেনি।
ওহ, ইরা আমার গার্ল ফ্রেন্ড।
গত দুই বছর প্রেম করছি। আমার সাথেই B.B.A পড়ছে ইরা।
AIUB তে ৩য় বর্ষে। বড়লোকের দুলালীর চাহিদা মিটাতে হিম সিম খাচ্ছিলাম আমি।
এইতো কাল বলেছিল তার জন্মদিনে,
যেন আমি একটা সোনার আংটি আর দামী একটা জামা নিয়ে আসি।
স্টুডেন্ট মানুষ, এত টাকা ছিলনা আমার কাছে।
তাই একটা জামা নিয়ে আসলাম। কিন্তু তার পছন্দ হল না।
শুরু হল জগরা, তাই মন খারাপ করে বসে আছি পার্টির এক কোণে।
হাতে আছে একটা বিয়ারের গ্লাস।

একটু পর তুমি কাছে এসে বললে ভাইয়া আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?
হা পারো, বল কি বলতে চাও?
-ভাইয়ার নাম কি।
আমার নাম শুভ্র।
-আমার নাম অভি। ভাইয়া আপনার কি মন খারাপ?
বললাম হা কিছুটা তুমি ইরার কি হও?
-আমি ইরা আপুর খালাতো ভাই। ঢাকা কলেজ এ ইন্টার মিডিয়েটে পড়ছি ২য় বর্ষে।
ভাইয়া আপনি কি মডেলিং করেন?
না রে ভাই আমি, আবার মডেল।
আমি খুবই সাধারণ এক জন মানুষ। কেন বলতো?
-আপনি দেখতে অনেক হ্যান্ড-সাম।
নিজের প্রশংসা শুনলে কার না ভালো লাগে। আমার ও খারাপ লাগেনি।
তাই কিছুক্ষণ কথা বলছিলাম আর তাকাচ্ছিলাম ইরার দিকে।
সে এক বার ও আমার দিকে তাকাই নি।
-শুভ্র ভাইয়া আমি কি আপনার ফোন নাম্বারটা পেতে পারি?
আমি কিছু না ভেবেই দিয়ে দিলাম। ইরার খালাত ভাই বলে কথা।
না হয় ইরা শুনলে আমার মাথা ফাটাবে।

এর পর থেকে তুমি মাঝে মাঝে ফোন করতে, আমি ও কথা বলতাম।
কিন্তু বুজতে পারতাম তোমার কথার মাঝে, একটু মেয়েলী ভাব আছে।
ছেলেবেলায় আমার এক বন্ধু ছিল। কি যেন নামটা? ওহ হা ইফতি। সে ও এমনই ছিল।
আমার সাথে দেখা হলেই সারাক্ষণ শরীর ঘাটা ঘাটি করতো।
আমার পেনিস নিয়ে নাড়া চাড়া করতো।
ক্লাস নাইনে থাকা অবস্থায় প্রথম কক্সবাজার গেলাম সমুদ্র দেখতে। রাতে হোটেলে ছিলাম এক সাথে।
মাঝ রাতে ও আমার পেনিস ধরে নাড়া চাড়া করছিলো। আমি ও উত্তেজিত হয়ে উঠলাম।
সেই প্রথম ছেলের সাথে সেক্স করেছিলাম। মাঝখানটায় আর কিছু করা হয়নি।
ইরার সাথে হত সেক্স মাঝে মাঝে। কিন্তু ইরার সাথে সম্পর্কের মাঝে আমি মানসিক প্রশান্তির চেয়ে,
মানসিক অশান্তিতে ছিলাম বেশি।
তার চাহিদা বাড়তে লাগলো দিন দিন, সাথে আমার মনের দূরত্বটা ও বাড়ছিলো সমান তালে।
এ দিকে অভিকে দেখলাম আমার খুব খোঁজ খবর নিচ্ছিল ফোন।
ইরার ব্যাপারে তার সাথে কথা বলতাম।
সে আমাকে সান্ত্বনা দিত। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ইরার সাথে বেক আপ করে ফেললাম।

খুব একাকীত্বে দিন কাটতো আমার। তখন অভি আমার কাছে আসতে লাগলো দিন দিন।
আমি তাকে ছোট ভাই আর ফ্রেন্ড হিসাবেই দেখতাম।
তবে হা অভির সাথে কথা বলতে আমার খারাপ লাগতো না।
অভি ইচ্ছা করে কথার ফাঁকে ফাঁকে সেক্স বিষয়ে কথা বলতে চাইতো,
আমি সুযোগ দিতাম না বলে চুপ করে যেত।
সে আমাকে সবসময় বলতো যাতে তার সাথে দেখা করি। আমি চাইতাম না।
কারণ একটা ছেলের সাথে ঘটা করে দেখা করার কোন মানে হয় না।
কিন্তু সেই দিন পাবলিক লাই-বেরিতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চলছিলো।
মাটির ময়না দেখতে গিয়েছিলাম আমার বন্ধুদের সাথে।
ও খানটায় দেখা হয়ে গেল অভির সাথে।
অভি বলে, ভাইয়া আমার বাসা পাশেই, আজ আপনাকে ছাড়ছি না।
অনেক ছাপা চাপিতে গেলাম। তার বাবা মা বোধয় বাহিরে ছিল।
বাসায় কাজের মেয়ে একা। অভি আমাকে তার রুমে নিয়ে গেল।
তার কম্পিউটার এ বসালাম একটা ইংলিশ গানের মিউজিক ভিড়িও প্লে করলাম।
অদ্য নগ্ন মেয়েগুলা দেখে আমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে গেলাম।
এ দিকে অভি তার শরীরটা ঘেঁষে বেড়াচ্ছে আমার শরীরের সাথে।
এক পর্যায়ে খুব উত্তেজিত হয়ে গেলাম।
অভি সে সুযোগটা মটেও হাত ছাড়া করলো না।
হাতটা নিয়ে গেল সরাসরি আমার পেনিসের উপর।
আমি ও নিষেধ করলাম না। আর তাছাড়া আমিতো ভাই সতী সাবেত্রি নয়।
ছোট বেলা থেকে বোধয় সমকামিতার রক্ত বয়ে বেড়াচ্ছি শরীরে।
মেতে ছিলাম কিছুক্ষণের সমকামিতার খেলায়।
সেক্সের পর কেন যেন অভির দিকে তাকাতে লজ্জা করলো।
অভি বলে,
-শুভ্র ভাইয়া শুনো, এইটা আহা মরি কোন ব্যাপার না। তোমার সাথে সেক্স করার ইচ্ছা আমার অনেক দিনের।
আজ তোমার আদর দিয়ে শরীরের জ্বালা মেটালাম।
তুমি চাইলে যে কোন দিন আমাকে ব্যাবহার করতে পারো।
আমার মুখ থেকে লজ্জার ভাবটা কেটে গেলো।
বাসায় এসে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
বিছানায় সটান হয়ে নিজেকে সপে দিলাম।
একটু দুর্বল লাগছে, কিন্তু মনের মাঝে একটা তৃপ্তির ভাব লেগে আছে।
কত মেয়ের সাথেই তো সেক্স করলাম কিন্তু এতটা উপভোগ করিনি কোন দিন।
প্রতি রাতে অভি আমাকে ফোন দিতো। আজ ঠিক ১২ টার পর ফোনটা আমিই করলাম অভিকে।
অভিকে একটা ধন্যবাদ দিলাম এত সুন্দর একটা সেক্স উপহার দেয়ার জন্য।
ঐ দিন রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টার মত কথা বললাম।

এই ভাবে চলতে থাকলো কথার তুফান, মাঝে মাঝে অভির সাথে দেখা করতে যেতাম ঢাকা কলেজে।
রেস্টুরেন্টে খেতাম, ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসে গল্প করতাম।
আমি তখন জানতাম না ছেলে ছেলে ভালোবাসা হতে পারে।
কিন্তু আমার কাছে অভিকে ভালো লাগতে শুরু করলো।
তখন জানতাম না, সমকামীদের একটা বিশাল ওয়ার্ল্ড আছে।
ফেসবুক ব্যাবহার করতাম ঠিকই কিন্তু, সমকামী কোন ফ্রেন্ড ছিল না।
কিংবা রমনা পার্কের ব্যাপারে ও জানতাম না কিছু।
ভালোই চলছিলো অভি আর আমার সম্পর্ক। মাঝে মাঝে সেক্সটা ও হতো।
এক দিন সে আমাকে বলল শুভ্র, তুমি কি জানো আমি এক জনকে অনেক ভালোবাসি।
কিন্তু এত দিন অপেক্ষা করেছিলাম কথাটা যেন তার মুখ থেকে আসে।
কিন্তু আমার ধারনাটা ভুল, মনে হয় না এ জন্মে সে আমাকে কথাটা বলবে।
তাই আজ বাধ্য হয়ে আমিই তাকে বলবো।
আমি তখনো জানতাম না, কথা গুলো সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছিল।
ভাবলাম সে হয়তো কোন মেয়েকে ভালোবাসে।
আগেই বলেছিলাম ছেলে ছেলে ভালোবাসার সম্পর্কে আমার কোন ধারণা ছিল না।
অভিকে জিজ্ঞাস করলাম, তা সে রমণীটা কে।
আমার কথা শুনে সে জোরে হাঁসতে লাগলো।

-আচ্ছা শুভ্র তুমি এত বোকা কেন?
আমি বললাম, অভি আমি ও রকমই।
-আচ্ছা শুনো আর লুকোচুরি নয়। হা শুভ্র আমি তোমায় ভালোবাসি।
আমি তৈরি ছিলাম না কথাটার জন্য।
আমি কোন জবাব দিলাম না। অভি নিজে থেকে আমি সব বলল, হা ছেলে ছেলে ও ভালোবাসা হয়।
ভালোবাসতো দুটা মানুষে মানুষে হয়। সে নারী কিংবা পুরুষ বলে নয়।
অভির কথা গুলো চুপ করে শুনতে লাগলাম।
রাতে বাসায় ফিরে ভাবতে লাগলাম। আসলে কি তাই হয় নাকি।
এই যে আমি এখন অভিকে মিস করছি। তাকে অনুভব করছি বোধহয় এইটাই ভালোবাসা।
এই ভাবে দিন কাটতে লাগলো আমাদের।
বুজতে পারছিলাম আমি অভিকে ভালোবেসে ফেলেছি।
কিন্তু তারপর ও কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলাম ব্যাপারটা নিয়ে।
কারণ আমি মেয়েদের পছন্দ করতাম ইরা এবং তমা এই দুই মহারানীর সাথে সম্পর্ক থাকা কালে,
কোন দিনও এতটা আনন্দ কিংবা শান্তি পায়নি মন থেকে।
কারণ তাদের চাওয়া পাওয়া গুলো এত বেশি ছিল যে, নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হিম সিম খাচ্ছিলাম।
কিন্তু অভি , তার তেমন কোন চাহিদা নাই। সে আমাকে ভালোবাসে। আর কাটুক না দিন এ ভাবে।
তাই ভাবলাম অভিকে বলে দিব যে আমি তাকে ভালোবাসি।
এক দিন রাতে ফোন দিলাম অভিকে।
তুমি কি ঘুমচ্ছিলে নাকি অভি?
-না এমনি শুয়ে ছিলাম। আচ্ছা শুভ্র তোমাকে একটা কথা বলবো।
আমি ভাবলাম এই যা, আমিতো তোমাকে বিশেষ কিছু বলবো বলে ফোন দিলাম।
বললাম না থাক আগে দেখি অভি কি বলে।
-শুনো একটু আগে হঠাৎ করে চোখ দুটো লেগে আসলো।
একটা দারুণ স্বপ্ন দেখলাম তোমায় নিয়ে।
দেখলাম আমি আর তুমি আমার বাসার ছাদে বসে সকালের সূর্য উঠা দেখছি।
হাতে কফি আর তুমি চেয়ে আছো আমার মুখের দিকে।
আমি তোমার কোলে শুয়ে তাকিয়ে আছি ঐ সূর্যটার দিকে। কি দারুণ রোমান্টিক নাহ?
আমি বললাম হা খুবই সুন্দর।
-কিন্তু জানি সেই দিনটা বোধয় কোন দিন ও আসবে না আমার জীবনে।
আমি বললাম হতে পারে। আচ্ছা অভি শুনো আমার সকালে একটা কাজ আছে।
তাই তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে। আজকে ফোনটা ছাড়ছি।
ফোনটা রেখে ভাবলাম অভির স্বপ্ন টার বাস্তবিক রূপ দিলে কেমন হয়।
ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম তাড়াতাড়ি।
ঠিক রাত সাড়ে ৪টায় তার বাসার সামনে নামলাম CNG থেকে।
ফোনে কলের উপর কল করে যাচ্ছি ধরছে না অভি।
ভাবলাম হায় রে, ফোনটা না ধরলে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।
ভাগ্য ভালো রাত ৫ টার দিকে ফোনটা ধরল অভি।
ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল, শুভ্র এত রাতে? কি হয়েছে তোমার?
শুনো দরজা খুলো। আমি তোমার বাসার সামনে দাড়িয়ে।
-কি বলছ যা তা?
শব্দ পেলাম অভি শুয়া উঠে বসে গেল বিছানায়।
আমি বললাম হা সত্যি তাই। চল ছাদে যাই তোমার সাথে সূর্য উঠা দেখবো।
-কি বকছ পাগলের মত। মা বাবা ঘুমিয়ে আছে, দরজা খুলতে গেলে টের পেয়ে যাবে।
শুনো শুভ্র পাগলামি করো না বাসায় চলে যাও।
অভি তুমি দরজা না খুললে আমি কিন্তু এ ভাবে কাটিয়ে দিব সকালটা।
তুমি তো জানই আমি যা বলি তাই করি।
অভি বাধ্য হয়ে দোতলার করিডোরে এসে দেখল আমাকে আমি সত্যি না মিথ্যে বলছি।
উপর থেকে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো আমি ও তার দিকে।
ইশারা করে বললাম দরজাটা খুলো।
বাধ্য হয়ে চোরের মত গেইট খুলে দাড়িয়ে আছে আমার দিকে।
অভি একটা হাফ প্যান্ট আর সাদা রঙের গেঞ্জি পরে ছিল অসাধারণ লাগছিলো তাকে।
বিড়ালের মত পা চালিয়ে ছাদে গেলাম অভির পিছন পিছন।
কিন্তু সব ঠিক ছিল, পূর্ব দিকটা আলো করে সূর্য দেখা যাচ্ছিল।
অভি আমার কোলে মাথা রেখে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।
আমি তাকিয়ে আছি অভির দিকে। শুধু হাতে কোন কফি ছিল না।
কারণ সে কিচেনে গেলে তার মা ঘুম থেকে উঠে যেতে পারে।
বললাম অভি আমি তোমাকে ভালোবাসি।
অভি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না।
-কি বললে?
আমি তোমাকে ভালবাসি অভি।
দেখছিলাম আনন্দে অভির চোখ থেকে পানি বেয়ে পড়ছে।
অভির চোখের পানিতে কিস দিলাম। তাকে জড়িয়ে ধরলাম আমার বুকের মাঝে।
সূর্য তখন অনেকটা আলোকিত করে দিয়েছে চারদিক।
বললাম এবার উঠো আমি যাব, আসে পাশে লোক জন ছাদে আসলেই দেখতে পাবে আমাদের।
অভি বলল শুভ্র আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি কোন বাস্তবে আছি না এখনো স্বপ্নে।
আমি তার ঠোঁট দুইটা কামড়ে ধরে বললাম কি এখন মনে হচ্ছে। যে তুমি আমার সাথে বাস্তবে।
খুব ভালো ভাবেই কাটছিল আমাদের দিন গুলো।
কিন্তু কিছুদিন পর দেখলাম অভির পরিবর্তন।
আগের মত প্রতিদিন দেখা করতে চাইতো না।
আমার ফোনের জন্য তার মাঝে উৎকণ্ঠা দেখতে পেতাম না আগের মত।
এ দিকে তার চাহিদা গুলো বাড়তে থাকলো দিন দিন।
সাধারণত বাহীরে গেলে সব সময়, খাওয়ার বিল কিংবা গাড়ীর ভাড়া আমিই দিতাম।
মাঝে মাঝে তাকে বাংলার মেলা, কেটস-অ্যাই কিংবা আজিজ মার্কেট থেকে গেঞ্জি, জামা কাপড় গিফট করতাম।
অভির মোবাইলে টাকা আমি পাঠাতাম। কিন্তু আস্তে আস্তে বুজলাম সে আগের অভি আর নাই।
জগরা হতে লাগলো আমাদের মাঝে।
তার এইটা চাই, ঐ টা চাই। জেদ করে বসে থাকতো। তার চাহিদা পূরণ না হওয়া অব্ধি।
আমি বরাবরই ঐ এক রোখা টাইপের যেটা নিয়ে ছিলাম সেইটা ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতাম।
অভির বেলায় ও তাই হল।
সেইদিন অভি বলল তার একটা ভালো ফোন চাই।
আমি নিজেই ছাত্র মানুষ, এত টাকা এক সাথে কোথায় পাবো।
কিন্তু অভিকে ভালোবাসি তাকে হারাতে পারবো না।
তাই বাধ্য হয়ে সেমিস্টারের টাকা জমা না দিয়ে তাকে একটা সাম-সং ফোন কিনে দিলাম।
আমি ড্রপ খেলাম একটা সেমিস্টার। তারপর ও তাকে আমি সুখী করতে পারছিলাম না।
আমার আগের গার্ল ফ্রেন্ডদের থেকে, অভিকে আলাদা করতে পারছিলাম না কিছুতেই।
নিজের মনকে প্রশ্ন করতে লাগলাম, আচ্ছা ভালোবাসা এমন কেন হয়?
আজ পর্যন্ত একটা লালসাহীন ভালোবাসা পেলাম না।
আচ্ছা শুধু আমার বেলাতেই এমনটি হচ্ছে?
যে দিন অভিকে শেষবার এর মত দেখলাম বসুন্ধরা সিটিতে।
সেই দিনটার কথা এখনো মনে পড়ে খুব।
ঐ দিন সকালে অভিকে ফোন দিলাম। বললাম আমার ক্লাস শেষে যেন দেখা করে।
অভি বলে তার কি যেন ইম্পরট্যান্ট ক্লাস আছে। সে বের হতে পারবে না।
আমার ক্লাস শেষে ভার্সিটির বন্ধুদের সাথে বসুন্ধরায় গেলাম।
দেখলাম ৪ নম্বর লেভেল থেকে সিডি দিয়ে নীচে নামছে অভি।
সাথে অন্য একটা ছেলে হাতে অনেক গুলা শপিং ব্যাগ।
আর কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না অভির ব্যাপারে।
শুধু নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলাম। কার পিছনে লেগে ছিলাম এতটা সময়।
ভালোবাসার প্রতি একটা অনীহা এসে গেল আমার।
নিজের মনের অজান্তেই প্রশ্ন করলাম নিজেকে, আচ্ছা
সব ভালোবাসায় কি থাকে, লোভ-লালসায় পরিপূর্ণ……?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s